হ্যাগলি ওভালে সিরিজের শেষ টেস্টে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ইনিংস ও ১১৭ রানের ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। লিটন দাসের চমৎকার ব্যাটিং কিছুটা আশা জাগালেও শেষরক্ষা হয়নি।

আজ মঙ্গলবার ক্রাইস্টচার্চ টেস্টের তৃতীয় দিন দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ অলআউট হয় ২৭৮ রানে। অন্য ব্যাটারদের ব্যর্থতার মাঝে লিটন তুলে নেন টেস্ট ক্যারিয়ারে দ্বিতীয় শতক (১০২ রান)। মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে প্রথম টেস্ট জেতায় দুই ম্যাচের সিরিজ শেষ হলো ১-১ সমতায়।

ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট খেলতে নেমেছিলেন রস টেলর। বাংলাদেশের ইনিংসের শেষটা হলো তার হাতেই। মূলত ব্যাটার হলেও তার ক্যারিয়ার শেষ হলো উইকেট উদযাপন দিয়ে। শেষ ব্যাটার হিসেবে এবাদত হোসেনকে আউট করে টেস্ট আঙিনায় পথচলা থামালেন এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। সমান্তরালে তাকে জয় দিয়ে বিদায় জানালো টম লাথামরা।

দ্বিতীয় টেস্টে টস হেরে আগে ব্যাটিং করে প্রথম ইনিংসে ছয় উইকেটে ৫২১ রান করে নিউজিল্যান্ড। অপর দিকে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে কিউই পেসারদের দাপটে গুটিয়ে যায় ১২৬ রানে। ৩৯৫ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংস ব্যাটিংয়ে নেমে কিছুটা লড়াই করে বাংলাদেশ। তাতে ইনিংস হার বাঁচাতে পারেনি সফরকারীরা।

দলীয় স্কোর যখন ২৭, তখনই বিপদ ডেকে আনেন সাদমান ইসলাম। দিনের ১৪তম ওভারে জেমিসনের লেগ স্টাম্পের বাইরের বল ছেড়ে দিলেও পারতেন। কিন্তু অলস ভঙ্গিতে খেলতে গিয়ে টম ব্লান্ডেলের ক্যাচে পরিণত হন তিনি। প্রায় ঘণ্টাখানেক ক্রিজে পড়ে থাকলেও বাঁহাতি ব্যাটার সাজঘরে ফিরেছেন ৪৮ বলে ২১ রান করে।

এক ওভার বিরতি দিয়ে আবারো উইকেট পেয়ে যাচ্ছিলেন জেমিসন। খোঁচা মারতে গিয়ে স্লিপে ক্যাচ দিয়েছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। কিন্তু ড্যারিল মিচেল সুযোগটা হাতছাড়া করেছেন। জীবন পেয়ে শান্ত ইনিংস মেরামতে মনোযোগী হয়েছিলেন।

নাঈমকে সঙ্গে নিয়ে যোগ করেন ৪৪ রান। লাঞ্চ বিরতির আগে শান্ত আরেকটু ধৈর্য ধরলেই প্রথম সেশনের বিরতিটা একটু স্বস্তিতে কাটাতে পারতো বাংলাদেশ। নিল ওয়াগনারের শর্ট ডেলিভারিতে পুল করতে গিয়ে ধরা পরেন বাউন্ডারি লাইনে। আগ্রাসী ভঙ্গিতে খেলতে থাকা শান্ত ৩৬ বলে করেছেন ২৯ রান।

লাঞ্চ বিরতির পর মুমিনুল ও নাঈম মিলে সামাল দিচ্ছিলেন ভালোভাবেই। ৩৪ রান যোগ করেন তারা। দুই ঘণ্টারও বেশি সময় প্রান্ত আগলে খেলা নাঈম মনোযোগ হারিয়ে বসেন দলীয় স্কোর ১০০ ছাড়ালে। টিম সাউদির ফুলার লেংথের বল ড্রাইভ করতে চেয়েছিলেন। ফলাফল, এজ হয়ে ধরা পড়েন দ্বিতীয় স্লিপে। তাতে শেষ হয় নাঈমের ৯৮ বলে খেলা ২৪ রানের ইনিংস।

দারুণ ইনিংস খেলার পথে ছিলেন মুমিনুলও। কিন্তু নাঈমের মতো একই রকম বিলাসী হওয়ার খেসরাত দিতে হয়েছে তাকে। ওয়াগনারের ফুলার লেংথের বাইরের বল ড্রাইভ করতে গিয়ে টেলরের ক্যাচ হয়ে ফেরেন ৩৭ রানে।

ভীষণ চাপে পড়া বাংলাদেশের বিপদ আরো বাড়ে ইয়াসির আলীর বিদায়ে। প্রথম ইনিংসে হাফসেঞ্চুরি করা এই ব্যাটারকে ২ রানে সাজঘরে ফেরান ওয়াগনার। শর্ট ডেলিভারিকে অস্ত্র বানিয়ে বিপদে ফেলেন ইয়াসিরকে। বল তার ব্যাটে লেগে জমা পড়ে লাথামের হাতে। তারপর দ্রুতগতিতে রান তুলতে থাকেন লিটন ও নুরুল হাসান সোহান। কিন্তু মিচেলের বলে সোহান মেরে খেলতে গেলে ভেঙে যায় ১০১ রানের দারুণ এই জুটি। ৫৪ বলে ৩৬ রানে থামেন সোহান। তাতে ছিল সাতটি চার।

এরপর মেহেদী হাসান মিরাজ ৩ রান করে বিদায় নিলে যা একটু আশা হয়ে ছিলেন লিটন। তার বিদায়ের পর হারের আনুষ্ঠানিকতা বাকি ছিল শুধু। ১১৪ বলে মোকাবেলায় করেছেন ১০২ রান। ১৪টি চার ও একটি ছক্কায় ইনিংসটি সাজিয়েছেন এই উইকেটকিপার ব্যাটার। টেলর টেস্ট ক্যারিয়ারের মাত্র তৃতীয় উইকেট হিসেবে এবাদতকে তুলে নিলে জয়ের আনন্দে মাতে কিউইরা।

বিতীয় ইনিংসে নিউজিল্যান্ডের সবচেয়ে সফল বোলার জেমিসন। দীর্ঘদেহী এই পেসার ৮২ রানে নেন চারটি উইকেট। ওয়াগনার ৭৭ রান খরচায় পেয়েছেন তিন উইকেট। আর একটি করে উইকেট শিকার সাউদি, মিচেল ও টেলরের। ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন টম লাথাম। আর সিরিজসেরা ডেভন কনওয়ে।