অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে উসমান খাজার যাত্রা শেষ। ব্যক্তিগতভাবে শেষটা রাঙাতে পারেননি, তবে অস্ট্রেলিয়া ঠিকই ৪-১-এ সিরিজ জিতে তার বিদায়টা রঙিন করে রাখল। সিডনিতে পঞ্চম ও শেষ টেস্টে আজ বৃহস্পতিবার পঞ্চম ও শেষ দিন অস্ট্রেলিয়ার সামনে পড়ে মাত্র ১৬০ রানের টার্গেট। অজিরা ৫ উইকেট হারিয়ে ৩১.২ ওভারে জয় তুলে নেয়।
মারনাস লাবুশেন ৩৭, জ্যাক ওয়েথেরাল্ড ৩৪, ট্রাভিস হেড ২৯, ক্যামেরন গ্রিন ২২ ও অ্যালেক্স ক্যারি ১৬ রান করেন। ১২১ রানে ৫ উইকেট পতনে কিছুটা উত্তেজনা তৈরি হলেও অ্যালেক্স ক্যারি ও ক্যামেরন গ্রিন ৪৯ বলে ৪০ রানের জুটিতে অস্ট্রেলিয়ার জয় নিশ্চিত করেন। ইংল্যান্ডের জস টাঙ ৪৩ রানে ৩ উইকেট নেন।
এর আগে জ্যাকব বেথেলের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে (২৬৫ বলে ১৫৪ রান) ভর করে দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৪২ রান তুলতে সমর্থ হয় ইংল্যান্ড। প্রথম ইনিংসের ১৮৩ রানের ঘাটতি তাদের পেছনে ফেলে দেয়। ফলে সর্বসাকল্যে তারা অস্ট্রেলিয়াকে ১৬০ রান টার্গেট দিতে সমর্থ হয়। উজ্জীবিত অস্ট্রেলিয়াকে এই রান দিয়ে মোটেও চ্যালেঞ্জ জানানো যায়নি।
অ্যাডেলেইড টেস্ট জিতে ৩-০তে সিরিজ নিশ্চিত করে ফেলে অস্ট্রেলিয়া। এরপর মেলবোর্নে বক্সিং ডে টেস্ট জিতে ব্যবধান কমায় ইংল্যান্ড। স্বাগতিকরা শেষ টেস্টটি দাপটে জিতে ৪-১-এ সিরিজ নিশ্চিত করল।
৯২ রানে অস্ট্রেলিয়ার তৃতীয় উইকেট পতনের পর ব্যাট করতে নামেন উসমান খাজা। তার সঙ্গে আলিঙ্গন করেন লাবুশেন। আর ইংলিশ ক্রিকেটাররা তাকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করেন। যদিও এদিন ভালো করতে পারেননি ইসলামাবাদে জন্মগ্রহণ করা খাজা। বিদায়ী ইনিংসে সাত বল টিকে থেকে করেছেন ৬ রান। সব মিলে ১৬ সেঞ্চুরি ও ২৮টি হাফসেঞ্চুরির সাহায্যে ৬ হাজার ২২৯ রান নিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ার শেষ করলেন ৩৯ বছর বয়সী ক্রিকেটার। অজিদের হয়ে ৪০টি ওয়ানডে ও ৯টি টেস্ট খেলেছেন তিনি।

বিদায়ী ইনিংস শেষে উসমান খাজা। ছবি: এপি
আজ ম্যাচ শেষে উসমান খাজা নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে ফক্স নিউজকে বলেন, ‘এটা আমার কাছে অনেক কিছু। যে জিনিসটি আমি সব সময় চেয়েছি তা হলো জয়। আজ আমি জয়সূচক রানটি করতে চেয়েছিলাম। গোটা ম্যাচেই আমি আমার আবেগ কষ্টে সামলেছি। মাঝে তো ম্যাচে মনোযোগ দেয়াই কঠিন হয়ে পড়ে। ক্যারিয়ার নিয়ে আমি সবার কাছে কৃতজ্ঞ।’
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ইংল্যান্ড: ৩৮৪ ও ৩৪২। অস্ট্রেলিয়া: ৫৬৭ ও ১৬১/৫। ফল: অস্ট্রেলিয়া ৫ উইকেটে জয়ী। প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ: ট্রাভিস হেড (১৬৩ ও ২৯)। প্লেয়ার অব দ্য সিরিজ: মিচেল স্টার্ক (৩১ উইকেট)।









