সেই থেকে ৬০ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষা। আরেকবার ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ট্রফি জয়ের মিশনে নামছে ‘থ্রি লায়ন্সরা।
টমাস টুখেলের পূর্বসূরি গ্যারেথ সাউথগেট আট বছরের অধ্যায়ে সমর্থকদের হৃদয় জয় করেন। ইংল্যান্ডকে টানা দুটি ইউরোর ফাইনালে ও ২০১৮ সালের বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে তোলার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন তিনি। তবে বিশ্বকাপ শিরোপার কাছে যেতে পারেননি। ২০২৪ সালে সাউথগেট বিদায় নিলে ইংল্যান্ড কোচের দায়িত্ব পড়ে জার্মান কোচ টুখেলের কাঁধে।
১৯৬৬ সালে অ্যাল্ফ র্যামসির অধীনে প্রথম ও একমাত্র বিশ্বকাপ শিরোপা জিতেছিল ইংলিশরা। সেই থেকে ইংলিশদের দীর্ঘ শিরোপাখরা। ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে জার্মানির কাছে টাইব্রেকারে হেরেছিলেন গ্যারি লিনেকাররা। এর ২৮ বছর পর রাশিয়া বিশ্বকাপের সেমিতে আবার হেরে যান হ্যারি কেনরা। ২০১৮ সালে মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে ইউরোপের ছোট দেশ ক্রোয়েশিয়ার কাছে ২-১ গোলে হেরে যায় সাউথগেটের দল। গত আসরে ইংল্যান্ড ১-২ গোলে হেরেছে ফ্রান্সের কাছে।
ছেষট্টির পর ১৩ জন কোচ নিয়ে চেষ্টা করেও সোনালি ট্রফিটা আর ছুঁয়ে দেখতে পারেনি ইংলিশরা। ববি রবসন, টেরি ভেনাবলস, গোরান এরিকসন ও ফ্যাবিও ক্যাপেলো চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে ফিরে গেছেন। তাদের চেয়ে বরং লো-প্রোফাইলের কোচ সাউথগেটই কাছাকাছি যেতে পেরেছেন। এবার টুখেলের কাঁধে দায়িত্ব সঁপেছে ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। টুখেল লিগ শিরোপা জিতেছেন ফ্রান্স ও জার্মানিতে। এবার ‘থ্রি লায়ন্স’রা শিরোপা জিততে পারলে ইংল্যান্ডে বীরের মর্যাদাই পাবেন টুখেল।
বিশ্বকাপ স্কোয়াডে বেশকিছু তারকাকে বাদ দিয়ে চমক দেখিয়েছেন টুখেল। উত্তর আমেরিকার এ আসরে খেলা হবে না ফিল ফডেন, কোল পালমার ও আলেক্সান্ডার ট্রেন্ট-আর্নল্ডের। এখানে তিনি সমর্থকদের পছন্দ কিংবা কোনো আবেগকে প্রাধান্য দেননি। জার্মান কোচ বলেন, ‘আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে যেটা আমি শিখেছি তা হলো, টুর্নামেন্ট জয় করে একটি দল, কোনো নির্দিষ্ট খেলোয়াড় নয়। গ্রীষ্মের আসরে আমরা একটি দল হিসেবেই কিছু অর্জন করতে চাই।’
কেবল বাদ দিয়েই চমক দেখাননি টুখেল, চমক দেখিয়েছেন ৩৫ বছর বয়সী জর্ডান হেন্ডারসনকে দলভুক্ত করেও। বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে হেন্ডারসন বলেন, ‘আমরা একটি দল হিসেবে, ঐক্যবদ্ধ শক্তি হিসেবে খেলতে চাই। নিজেদের স্বপ্নপূরণে আমরা প্রতিদিন কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছি।’
নিজেদের সম্ভাবনা নিয়ে ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডার কবি মাউনু বলেন, ‘এ স্কোয়াডের সবাই, কোচিং স্টাফ এবং সবাই বিশ্বাস করেন যে আমরা বিশ্বকাপ জিততে পারি।’
প্রতিটি বিভাগে সমীহ জাগানো সব খেলোয়াড় রয়েছে ইংল্যান্ড স্কোয়াডে। বর্তমানে বিশ্বের তিন নামি তারকা হ্যারি কেন, জুড বেলিংহ্যাম ও ডিক্লান রাইস রয়েছেন ইংল্যান্ডের স্কোয়াডে। টুখেলের ভাণ্ডারে যথেষ্ট শক্তি মজুদ আছে বলেই তিনি ফডেন আর পালমারের মতো মেধাবী খেলোয়াড়কে বাদ দেয়ার বিলাসিতা দেখাতে পেরেছেন।
নিজের দর্শনও জানিয়ে দিলেন টুখেল। তিনি বলেন, ‘আমি কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে ভালোবাসি। প্রথম দিন থেকেই আমরা সেরা দল নির্বাচন ও তৈরি করার ওপর জোর দিয়েছি। শুধু মেধাবীদের বাছাই করাই সব সময় যথেষ্ট নয়।’
এবার মাঠের লড়াই। মোটামুটি কঠিন গ্রুপেই (গ্রুপ ‘এল’) পড়েছে ইংল্যান্ড। তাদের লড়তে হবে ক্রোয়েশিয়া, ঘানা ও পানামার সঙ্গে। ৪৮ দলের মধ্যে ৩২টি যাবে নকআউট পর্বে। তাই গ্রুপ পর্ব পেরোনো কঠিন হবে না ‘থ্রি লায়ন্স’দের। তবে নিশ্চিত করে কিছু বলাও যাবে না। শুরুতেই হোঁচট খাওয়ার ঝুঁকি আছে। সামনে যে ক্রোয়েশিয়া। ১৭ জুন রাত ২টায় ডালাস স্টেডিয়ামে গত দুই আসরের সেমিফাইনালিস্টদের মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড। ২০১৮ সালে ক্রোয়াটদের কাছেই সেমিতে হার মেনে বাড়ি ফিরতে হয়েছিল কেনদের। ২৩ জুন একই সময়ে ঘানা ও ২৮ জুন ভোর ৩টায় পানামার মুখোমুখি হবে টুখেলের দল।
গ্রুপ পর্ব কিংবা যে রাউন্ডই হোক না কেন, প্রতিটি ম্যাচে মাঠে নামলেই কেনদের ভাবনাজুড়ে থাকবে বিশ্বকাপ জয়ের তাড়না, আর ৬০ বছরের ব্যর্থতার অদৃশ্য চাপ। এবার হ্যারি কেন, বুকায়ো সাকা, মার্কাস র্যাশফোর্ডরা পারবেন কি ছেষট্টির স্মৃতি ফেরাতে?
আগামী ১১ জুন মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ দিয়ে পর্দা উঠবে ২৩তম ফুটবল বিশ্বকাপ আসরের। ৪৮ দলের এই ঐতিহাসিক টুর্নামেন্টে মোট ১০৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। ১৯ জুলাই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনালের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এই আসর।










