আলজেরিয়া ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে জিতিয়েছেন দলকে, অস্ট্রিয়া ম্যাচে করেছেন জোড়া গোল। জর্ডানের বিপক্ষে শুরুর একাদশে ছিলেন না আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। ৬০ মিনিটের সময় নামেন বদলি হিসেবে। এ ম্যাচেও একটি গোল করেন তিনি।
মেসির মতোই এ আসরে শীর্ষ তারকারা গোল পাচ্ছেন, ম্যাচসেরার পুরস্কারও হাতে তুলছেন। ব্রাজিলের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র তিনবার ম্যাচসেরা হয়েছেন। তিনি করেছেন মোট চার গোল। এছাড়া দুবার করে ম্যাচসেরা হয়েছেন নরওয়ের আর্লিং হালান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের ফোলারিন বালোগুন। হালান্ড চার গোল ও ফোলারিন দুই গোল করেছেন।
কীভাবে ম্যাচসেরা খেলোয়াড় নির্বাচন করা হয় তা নিয়ে অনেকের প্রশ্ন রয়েছে। ঘানা-ইংল্যান্ড ম্যাচে ‘ম্যাচসেরা’ হয়েছেন ইংল্যান্ডের জুড বেলিংহাম। যদিও তিনি অকপট বলে দেন, গোলশূন্য ড্র হওয়া ম্যাচটিতে সেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি প্রাপ্য ঘানার কোনো ডিফেন্ডারের। পরে অবশ্য ২৭ জুন পানামার বিপক্ষেও ম্যাচসেরা হয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদে খেলা জুড।
ক্লাব ফুটবলে সাধারণত ধারাভাষ্যকাররাই ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় বেছে নেন। কিন্তু এবারের ফিফা বিশ্বকাপে নিয়মটা ভিন্ন। এখানে ধারাভাষ্যকারদের হাতে সেরা খেলোয়াড় নির্বাচনের ক্ষমতা নেই। পুরো বিষয়টি ছেড়ে দেয়া হয়েছে সমর্থকদের হাতে।
ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, ম্যাচের প্রথমার্ধের বাঁশি বাজার পর থেকে খেলা শেষ হওয়া পর্যন্ত ফুটবলপ্রেমীরা সরাসরি ভোট দিতে পারেন। ফিফা প্লে জোন অ্যাপ ও অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে এ ভোট দেয়ার সুযোগ পান সমর্থকরা। ফলে মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি সমর্থকদের কাছে জনপ্রিয়তার ওপরও অনেক সময় নির্ভর করে এ পুরস্কার।
গতকাল রাতের ব্রাজিল-জাপান ম্যাচের আগ পর্যন্ত মোট ৭৩টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৩তম বিশ্বকাপের প্রথম ‘ম্যাচসেরা’ মেক্সিকোর হুলিয়ান কুইনানোস। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচে তিনি সেরা খেলোয়াড় হন। মেসি, ভিনিসিয়ুস, হালান্ড ও ফোলারিন ছাড়া যেসব তারকা ‘ম্যাচসেরা’ হয়েছেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—পর্তুগালের ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও হোসে নেভেস, ইংল্যান্ডের হ্যারি কেন, ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে, মাইকেল ওলিসে ও ওসমান দেম্বেলে, আলজেরিয়ার রিয়াদ মাহরেজ, মিসরের মোহাম্মদ সালাহ, ইরানের আলীরেজা বাইরানভান্দ, তুরস্কের আর্দা গুলের, নেদারল্যান্ডসের ব্রায়ান ব্রবি ও কডি গাকপো, জার্মানির কাই হাভার্টজ ও ডেনিজ উনদাভ, মরক্কোর আশরাফ হাকিমি ও ইসমাইল সাইবারি, কলম্বিয়ার ড্যানিয়েল মুনোজ, কানাডার জোনাথন ডেভিড ও স্তেফান ইউস্তাকিও, মেক্সিকোর লুইস রোমো, সুইডেনের আলেক্সান্ডার ইসাক প্রমুখ।
ফুটবল বিশ্বকাপে ম্যাচসেরার পুরস্কার দেয়া শুরু হয় ২০০২ সালের আসর থেকে। সেই বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচসেরার পুরস্কারটি উঠেছিল সেনেগালের এল হাজি দিউফের হাতে।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশিবার ম্যাচসেরা হওয়ার রেকর্ডটি মেসির দখলে, যিনি চলতি আসরে অসংখ্য রেকর্ড গড়েছেন। বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোল, সবচেয়ে বেশি ম্যাচ, টানা সবচেয়ে বেশি ম্যাচে গোল—এমন অসংখ্য রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। চলতি আসরে আর্জেন্টিনার দুই ম্যাচে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন তিনি। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে ১৩ বার ম্যাচসেরা হয়েছেন তিনি।
তালিকায় মেসির ঠিক পরেই আছেন পর্তুগালের ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। আগে পাঁচটি বিশ্বকাপ খেলে পর্তুগাল মাত্র দুবার শেষ ষোলোর গণ্ডি পেরোতে পারলেও সিআরসেভেন ম্যাচসেরা হয়েছেন ৭ বার।









