সংগীত, নৃত্য, আলোকসজ্জা, আতশবাজি আর হাজারো দর্শকের উচ্ছ্বাসে বর্ণিল আয়োজনে পর্দা উঠল ফুটবল বিশ্বকাপের ২৩তম আসরের। তিন দেশজুড়ে আয়োজিত ও ৪৮ দলের অংশগ্রহণে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপের যাত্রা শুরু হলো এমন এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে, যেখানে মিশে ছিল মেক্সিকোর হাজার বছরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, পাপেল পিকাদোর রঙিন নকশা, আধুনিক প্রযুক্তির ঝলক এবং ফুটবলকে ঘিরে বৈশ্বিক উন্মাদনার প্রতিচ্ছবি।
উদ্বোধনী আয়োজনের পর শুরু হয় মাঠের লড়াই। স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার ম্যাচ দিয়েই শুরু হয় বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিক প্রতিযোগিতা। ম্যাচের নবম মিনিটে মেক্সিকান ফরওয়ার্ড হুলিয়ান কিনোনেস জালে বল জড়িয়ে দলকে এগিয়ে দেন। এর মধ্য দিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম গোলদাতা হিসেবে তিনি নাম লেখান ইতিহাসের পাতায়।
এর আগে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুরুতেই মাঠজুড়ে ফুটে ওঠে মেক্সিকোর প্রাক-হিস্পানিক সভ্যতার নানা অনুষঙ্গ। রঙিন ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত শত শত নৃত্যশিল্পী মাঠে নেমে আসেন। তাদের পরিবেশনায় উঠে আসে আজতেক ও মেসোআমেরিকান সংস্কৃতির নানা প্রতীক, ইতিহাস ও লোকজ ঐতিহ্যের চিত্র। বিশাল স্টেডিয়ামজুড়ে আলো ও রঙের সমন্বয়ে তৈরি করা হয় এক মনোমুগ্ধকর আবহ।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল মাঠের কেন্দ্র থেকে ধীরে ধীরে উঠে আসা বিশাল এক বিশ্বকাপ ট্রফির প্রতিরূপ। সোনালি রঙের সেই ট্রফিকে ঘিরে শুরু হয় নৃত্য ও সংগীতের পরিবেশনা। স্টেডিয়ামের চারদিকের জায়ান্ট স্ক্রিনে ভেসে ওঠে বিশ্বকাপের ইতিহাসের নানা মুহূর্ত, কিংবদন্তি ফুটবলারদের স্মরণীয় দৃশ্য এবং আয়োজক দেশগুলোর সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের ঝলক।
এরপর মঞ্চে আসেন বিশ্বখ্যাত কলম্বিয়ান পপ তারকা শাকিরা। তার পরিবেশনায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো স্টেডিয়াম। সঙ্গে ছিলেন নাইজেরিয়ান সংগীত তারকা বার্না বয়। মেক্সিকোর জনপ্রিয় পপ-রক ব্যান্ড মানা তাদের বহুল পরিচিত গান পরিবেশন করে দর্শকদের উচ্ছ্বসিত করে তোলে। এছাড়া কলম্বিয়ান শিল্পী রায়ান কাস্ত্রো এবং লাতিন সংগীত জগতের অন্যতম জনপ্রিয় নাম জে বালভিনও অনুষ্ঠানে পারফর্ম করেন।
স্টেডিয়ামের গ্যালারিতেও ছিল উৎসবের রঙ। ঐতিহ্যবাহী মারিয়াচি পোশাক, বড় বড় সোমব্রেরো টুপি এবং ট্রাম্পেট হাতে হাজির হন অসংখ্য মেক্সিকান সমর্থক। সবুজ জার্সিধারী দর্শকদের উপস্থিতিতে পুরো স্টেডিয়াম যেন সবুজ সমুদ্রে পরিণত হয়। বিভিন্ন দেশের পতাকা হাতে সমর্থকরা অংশ নেন বিশ্বকাপের উদ্বোধনী উদযাপনে। উদ্বোধনী ম্যাচ শুরুর আগে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর পতাকা প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে ফুটে ওঠে বিশ্বকাপের বৈশ্বিক চরিত্র।
আতশবাজির ঝলক ছিল অনুষ্ঠানের আরেকটি প্রধান আকর্ষণ। শাকিরার পরিবেশনার পরপরই স্টেডিয়ামের চারপাশে শুরু হয় রঙিন আতশবাজির প্রদর্শনী। রাতের আকাশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে লাল, সবুজ, নীল ও সোনালি আলোর ঝরনাধারা। এ বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়েই শুরু হলো মাসব্যাপী বৈশ্বিক ফুটবল উৎসব, যেখানে আগামী কয়েক সপ্তাহ বিশ্বের নজর থাকবে সবুজ ঘাসের মাঠে।










