এবারের বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং ২০১০ সালের শিরোপাজয়ী স্পেন। এ দুই দলের মুখোমুখি হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরই সামাজিক মাধ্যমে ঘুরতে শুরু করেছে একটি ছবি, যেখানে মেসির কোলে একটি ছোটো শিশুকে দেখা যাচ্ছে, যিনি এখন স্পেন দলের তুখোড় খেলোয়ার লামিন ইয়ামাল।
২০০৭ সালে বার্সেলোনার ক্যাম্প ন্যুর ড্রেসিংরুমে একটি দাতব্য ক্যালেন্ডারের ফটোশুটের জন্য শিশু ইয়ামালকে কোলে নিয়ে ছবি তুলেছিলেন তরুণ লিওনেল মেসি।
তখন মেসির বয়স ছিল ২০ বছর। তিনি ততদিনে জনপ্রিয় হতে শুরু করেছিলেন এবং পরে তিনি সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবে পরিচিতি পান। কিন্তু আলোকচিত্রী তখনও জানতেন না যে, দেড় যুগ পরে ওই শিশুটিও আন্তর্জাতিক ফুটবলে আলোড়ন তুলবে।
সেই শিশুটিই ১৬ বছর বয়সে ২০২৪ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে দারুণ আলোড়ন তোলে। ১৬ বছর ৩৬২ দিন বয়সে করা ওই গোল তাকে টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী গোলদাতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
এবারের বিশ্বকাপ চলাকালে গত সোমবার লামিন ইয়ামালের বয়স ১৯ বছর পূর্ণ হয়েছে। কিন্তু এরই মধ্যে তাকে বিশ্বের সেরা তরুণ ফরোয়ার্ড বিবেচনা করা হচ্ছে। গত বছর ১৮ বছর বয়সে তিনি ব্যালন ডি'অরের রানার-আপ হয়েছিলেন।
সম্প্রতি স্পেনের সাবেক ফুটবলার জাভি হের্নান্দেজ বলেন, মাঠের একজন নেতা যে অল্প বয়সেই পার্থক্য গড়ে দেয় - যেমনটা কেবল লিওনেল মেসি, দিয়েগো ম্যারাডোনা, পেলে বা রোনাল্ডোর (নাজারিও) মধ্যে দেখা গেছে, সেটা লামিন ইয়ামালের মধ্যে ফুটে উঠেছে। সে চাইলে আগামী ১৫ থেকে ২০ বছর ফুটবল বিশ্বে রাজত্ব করবে ।
বহুদিনের পুরনো ছবিটি এর আগে সামনে এসেছিল, যখন ইয়ামালের বাবা ইনস্টাগ্রামে ছবিটি পোস্ট করে লিখেছিলেন দুই কিংবদন্তির সূচনা। সে সময়কার কিছু ছবি আছে, যেগুলোয় মেসির সঙ্গে ইয়ামালের মা-কেও দেখা যায়। ছবিগুলো তুলেছিলেন জোয়ান মনফোর্ত, যিনি অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ফ্রিল্যান্স আলোকচিত্রী হিসেবে কাজ করেন।
বিবিসি নিউজের জর্জ রাইটকে তিনি বলেছিলেন, এই ফটোশ্যুটের আয়োজন হয়েছিল স্পেনের মাতারো শহরে ইউনিসেফের একটি লটারির মাধ্যমে, যেখানে লামিনের পরিবার বসবাস করত। তারা ক্যাম্প ন্যুতে একজন বার্সা খেলোয়াড়ের সঙ্গে ছবি তোলার সুযোগ পেতে লটারিতে নাম লিখিয়েছিল। তারা সেই লটারিতে জিতেছিল।
আলোকচিত্রী জানান, ছবি তোলার দায়িত্বটি খুব সহজ ছিল না। মেসি বেশ অন্তর্মুখী, তিনি লাজুক। ড্রেসিংরুম থেকে বেরিয়ে এসে দেখলেন একটি ছোট্ট প্লাস্টিকে বাথটাবে একটি শিশু। তার সঙ্গে ছবি তুলতে হবে মেসির। বিষয়টি তার জন্য বেশ জটিল ছিল। প্রথমদিকে শিশুটিকে কীভাবে কোলে নিতে হবে, সেটিও তিনি জানতেন না।
মেসির মতোই ইয়ামাল পরে বার্সেলোনার হয়ে খেলেছেন। সেখানে তিনি ক্লাবটির ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী শুরুর একাদশের খেলোয়াড় ও গোলদাতা হয়েছেন, পাশাপাশি স্প্যানিশ লিগের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতাও হয়েছেন।
মনফোর্ত ২০২৪ সালে বিবিসি নিউজকে বলেন, ছবিটি অনলাইনে ভাইরাল হতে শুরু করার পরই বুঝতে পারি যে ছবির শিশুটি ছিল ইয়ামাল। এমন একটি ঘটনার সঙ্গে যুক্ত হতে পারা, সত্যিই খুব রোমাঞ্চকর। সত্যি বলতে, এটি খুবই সুন্দর একটি অনুভূতি।









