গুজরাট টাইটানসকে অভিষেক আসরেই ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) শিরোপা জিতিয়েছেন হার্দিক পান্ডিয়া। ভারতীয় অলরাউন্ডার এখন আরো আত্মবিশ্বাসী। এ বছর ভারতের হয়ে জিততে চান আইসিসি টি২০ বিশ্বকাপ।

 

এ নিয়ে পাঁচবার আইপিএল ফাইনাল খেলে পাঁচবারই শিরোপা জিতলেন পান্ডিয়া। আগে মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের হয়ে চারবার শিরোপা জিতেছেন। এবার গুজরাটকে নেতৃত্ব দিয়ে তাদের অভিষেককে রাঙিয়েছেন তিনি।

 

রোববার আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে আইপিএল ফাইনালে রাজস্থান রয়্যালসকে হারানোর পর পান্ডিয়া বলেন, এর আগে জেতা চারটি শিরোপাও আমার কাছে সমানভাবে মূল্যবান। আইপিএল জয় সব সময়ই আলাদা। আমি খুবই ভাগ্যবান যে, পাঁচবার ফাইনাল খেলে পাঁচবারই শিরোপা জিতেছি।

 

নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে আইপিএল জেতার অনুভুতি নিয়ে তিনি বলেন, নিঃসন্দেহে এটা একটা ছাপ রেখে যাবে, নতুন একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি হিসেবে প্রথমবার খেলতে এসেই আমরা চ্যাম্পিয়ন হয়েছি।

 

নিজের ঝুলিতে পাঁচটি আইপিএল শিরোপা তো হলো, এবার ভারতের হয়ে পরবর্তী বড় মিশনে মনোযোগ দিতে চান তিনি। এ আসর নিয়ে পান্ডিয়ার ভাবনা, নিঃসন্দেহে এখন আমার ভাবনায় ভারতের হয়ে বিশ্বকাপ জয় করা, জানি না কী ঘটবে। আমি সামর্থ্যের সবটুকু দিতে তৈরি আছি। আমি এমনই এক ছেলে যার কাছে দলই আগে। আমার জন্য লক্ষ্যটা সোজা: আমার দল যেন সর্বোচ্চটা পায়।

 

গত ৫-৬ বছর শোকেজে বিশ্বকাপ ট্রফি যোগ করার কাছাকাছি গিয়েও ব্যর্থ হয় ভারত। ২০১৯ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে হার্দিকের মারমুখী ইনিংসের পরও নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরেছে ভারত।

 

আগের কয়েকটি আসরের ব্যর্থতা ঘুচিয়ে ভারতকে শিরোপা এনে দিতে চান পান্ডিয়া। তিনি বলেন, ভারতের হয়ে খেলাটা আমার জন্য সব সময়ই ছিল একটা স্বপ্নের মতো, তাতে আমি যত ম্যাচই খেলি না কেন। দেশের প্রতিনিধিত্ব করা আমার কাছে সব সময়ই উপভোগের, আনন্দের। আমি এখন যে সমর্থন ও ভালোবাসা পাচ্ছি তা কিন্তু ভারতীয় দলের সদস্য হওয়ার কারণেই।

 

তিনি যোগ করেন, এখন হোক, কিংবা কিছুদিন পরে হোক, আমি ভারতের হয়ে বিশ্বকাপ জিততে চাই।

 

এবারের আইপিএল ফাইনালের সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন পান্ডিয়া। বোলারদের জন্য আতঙ্কের নাম জস বাটলার এ মৌসুমে করেছেন চারটি সেঞ্চুরি। অথচ ফাইনালে এই বাটলারকে ৩৯ রানেই থামিয়েছেন পান্ডিয়া। তাও এই রান করতে বাটলার খেলেছেন ৩৪ বল। একেই ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট বলছেন সবাই। ১৩তম ওভারের প্রথম বলে বাটলারের বিদায়ের পর রাজস্থানের ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ডই যেন ভেঙে যায়, তারা সাকল্য ৯ উইকেটে ১৩০ রান তুলতে পেরেছে। ১৭ রানে তিন উইকেট নিয়ে সেরা বোলার ছিলেন পান্ডিয়া। আর ২০ রানে দুই উইকেট নিয়েছেন রবিশ্রীনিবাসন সাই কিশোর।

 

এরপর ব্যাট হাতে ভালো অবদান রাখেন পান্ডিয়া। ৩০ বলে করেন ৩৪ রান। শুভমান গিল সর্বোচ্চ ৪৫ রান করেন ৪৩ বলে। আর ডেভিড মিলারের ব্যাট থেকে আসে ১৯ বলে ৩২ রানের ঝড়ো ইনিংস। টার্গেট ছোট হওয়ায় জিততে অসুবিধা হয়নি গুজরাটের।

 

২০২২ আইপিএলে ৪৪.২৭ গড়ে ৪৮৭ রান করেছেন পান্ডিয়া, সর্বোচ্চ ইনিংস তার ৮৭। এই মৌসুমে ১২টি ছক্কা ও ৪৯টি বাউন্ডারি মেরেছেন। ছক্কা মেরেছেন প্রতি ৩০.৯ বলে। বল হাতে নিয়েছেন ৮ উইকেট। সেরা বোলিং ফিগার ৩/১৭।

 

মুম্বাইয়ের হয়ে সাত মৌসুমে ব্যাট হাতে ছিলেন  প্রতিপক্ষের জন্য রীতিমতো আতঙ্কের নাম। তখন প্রতি ৯.৮ বলে একটি করে ছক্কা হাঁকিয়েছেন। তখন চারের (৯৭) চেয়ে ছক্কা (৯৮) বেশি মেরেছেন তিনি। যদিও এবার গুজরাটের অধিনায়ক হিসেবে তিনি আগের মতো আগ্রাসী ব্যাটিং করেননি।

 

এবারের আইপিএলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে দশটি দল। এর মধ্যে গুজরাট টাইটানস ও লখনৌ সুপারজায়ান্ট নবাগত হিসেবে অংশ নেয়। পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন মুম্বাই ও চারবারের চ্যাম্পিয়ন চেন্নাই সুপার কিংস এবার প্লে-অফেই উঠতে পারেনি।

 

এবারের আইপিএলে সর্বোচ্চ ৮৬৩ রান করেছেন রাজস্থানের বাটলার, রান তোলার গড় ৫৭.৫৩। আর ১৯.৫১ গড়ে সর্বোচ্চ ২৭ উইকেট নিয়েছেন বাটলারের সতীর্থ যুজবেন্দ্র চাহাল।