এনরিক ম্যাকায়া মার্কেজ একজন আর্জেন্টাইন ক্রীড়া সাংবাদিক। সম্প্রতি ফিফা আয়োজিত সাংবাদিকদের সম্মাননা অনুষ্ঠানের আলোচনায় ঘুরে ফিরে উঠে এসেছে এনরিকের নাম। আলোচনায় তো আসবেনই। চলতি বিশ্বকাপ নিয়ে ফিফার টানা ১৭টি বিশ্বআসরের সংবাদ কভার করে অনন্য নজির গড়েছেন এ প্রথিতযশা সাংবাদিক।
ফিফা বিশ্বকাপের ষষ্ঠ আসরে প্রথম সংবাদ কভার করেছিলেন এনরিক। ১৯৫৮ সালে সুইডেনে অনুষ্ঠিত ওই আসরটিতে স্বাগতিক সুইডেনকে হারিয়ে ব্রাজিল প্রথম বিশ্বকাপের স্বাদ পেয়েছিল। সে সময়কার আর্জেন্টিনা থেকে সুইডেন যাত্রা যেন এখনো তার চোখের সামনে ভাসছে। এনরিকের ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপ যাত্রার বিমানটি এত বেশি রিফুয়েলিং স্টপ করতে হয়েছিল যে তা মনে রাখাও দুষ্কর। বিমানের যাত্রা শেষের পরে ট্রেন যাত্রা। ট্রেন যাত্রা শেষ তো ফের বাসে চড়ে বসা। এরপরে ফেরিতে করে অবশেষে গন্তব্যে পৌঁছাতে পেরেছিলেন এনরিক।
এনরিক সুইডেন থেকে কাতার বিশ্বকাপ পর্যন্ত ফিফার সবকটি টুর্নামেন্টেই এসেছেন। যা ক্রীড়া সাংবাদিকদের মধ্যে এক নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে। এ নিয়ে ১৭তম বারের মতো বিশ্বকাপ আসরের কভার করেছেন তিনি। ফিফা কাতার বিশ্বকাপ-২০২২ উদ্বোধনী দিনে ৮৮তম জন্মদিন উদযাপন করেছেন এনরিক। আর্জেন্টিনার ডি স্পোর্টস রেডিও স্টেশনের হয়ে ধারাভাষ্য করছেন তিনি।
ফিফা ডটকমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এনরিক বলেন, খেলা সম্পর্কে আপনার ভালো জানা থাকতে হবে, যা জানেন তা কীভাবে কাজে লাগাতে হয় সেটাও বুঝতে হবে। প্রযুক্তির সঙ্গে কীভাবে মানিয়ে নিবেন তা বোঝা খুব জরুরি। আপনাকে প্রতিটি ম্যাচ সম্পর্কে নিখুঁতভাবে জানতে হবে। সে সঙ্গে সঠিকভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে।
ক্রীড়া সাংবাদিকতায় সফলতার গোপন রহস্য ব্যাখ্যা করে বলেন, এটি সহজ নয়। আপনাকে সব সময় শিখতে হবে, লোকদের সঙ্গে কথা বলতে হবে এবং তাদের কাছ থেকে শিখতে হবে। এভাবেই আপনি ভালো করতে পারবেন।
আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি খেলোয়াড় আলফ্রেডো ডি স্টেফানোর একই এলাকায় বেড়ে উঠেছেন এনরিক। রিয়াল মাদ্রিদ, আর্জেন্টিনা ও স্পেনের সাবেক অনেক খেলোয়াড়ের সঙ্গেই বাল্যকাল কেটেছে তার। ১৫ বছর বয়সে একটি রেডিও স্টেশনে কাজ শুরু করেছিলেন তবে ফুটবলের প্রতি তার গভীর অনুরাগের কথা গোপন করেননি। স্টেশনটিতে একদিন নিয়মিত ক্রীড়া ধারাভাষ্যকার পাওয়া যায়নি। কপাল খোলে এনরিকের। তখন থেকেই শুরু। এরপর থেকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ২৩ বছর বয়সে সুইডেনে ১৯৫৮ সালের ফিফা ষষ্ঠ বিশ্বকাপ কভারিংয়ের দায়িত্ব পেয়ে যান।
প্রথম বিশ্বকাপ যাত্রার কথা স্মরণ করতে গিয়ে এনরিক বলেন, তখন ইউরোপ ভ্রমণ এতটা সহজ ছিল না। খুব সম্ভবত যাত্রা করার বাহন ছিল একটি ডিসি৭ বিমান। এটি ফুয়েলিং করার জন্য বারবার থামছিল। সেখানে এত বেশি স্টপ ছিল যে আমি সেগুলো সব মনেও করতে পারি না। তিনি বলেছিলেন, আজকের প্রযুক্তির সঙ্গে তখনকার সম্প্রচার ব্যবস্থার ছিল বিস্তর ফারাক। আমরা একটি টেলিফোন এক্সচেঞ্জের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলাম। এর মাধ্যমে, আমাদের তথ্য আর্জেন্টিনায় প্রেরণ করা হয়েছিল। সে এক লম্বা গল্প।
ক্যারিয়ারে নিজ দেশ আর্জেন্টিনাকে দু’বার বিশ্বকাপ জিততে দেখেছেন- ১৯৭৮ ও ১৯৮৬ সালে। প্রথম দিকে ম্যারাডোনার ক্যারিয়ার দেখেছেন। ব্রাজিলকে ৫ বার বিশ্বকাপ জিততে দেখেছেন। ব্রাজিলসহ অন্যান্য কিংবদন্তি দল ও খেলোয়াড়দের দেখেছেন। তবে তার সবচেয়ে প্রিয় ছিল নেদারল্যান্ডস। যদিও তারা শিরোপা জিততে পারেনি।
ফুটবলের ক্রীড়া সাংবাদিক হিসেবে তিনি কিছুটা যাযাবর ক্যারিয়ার গড়েছেন। কলোনিয়া, বেলগ্রানো, প্রোভিনসিয়া, রিভাডাভিয়া, মিটার, লা রেড ওয়াই ডেল প্লাটাসহ কমপক্ষে অর্ধ ডজন রেডিও স্টেশনের সঙ্গে কাজ করেছেন।
তবে তিনি একটি টেলিভিশনের মাধ্যমে অতি পরিচিত হয়ে ওঠেন। বিশেষ করে ১৯৯০ এর দশকে ফুটবল ডি প্রাইমারো অনুষ্ঠানের উপস্থাপক হিসেবে। ক্লারিন, লা নাসিয়ন পত্রিকার জন্যও অসংখ্য কলাম লিখেছেন।
পুরো ক্যারিয়ার জুড়ে এনরিক বলে গেছেন, সাংবাদিকতার চেয়ে আমার আবেগ ফুটবলে। তিনি এখনো টেলিভিশনের চেয়ে রেডিও পছন্দ করেন। তিনি বলেন, টেলিভিশন উপস্থাপনা আমাকে পরিচিত করেছে, কিন্তু অনেক লোকই বুঝতে পারে না, আমি ১৫ বছর বয়সে রেডিওতে কাজ শুরু করেছি।










