মোহালিতে শ্রীলংকাকে প্রায় একাই হারিয়ে দিলেন রবীন্দ্র জাদেজা। ১৭৫ রানের রাজসিক ইনিংস খেলে ভারতকে পৌঁনে ছয়শ রান এনে দেয়া এই বামহাতি ব্যাটার বল হাতেও ছিলেন অনবদ্য। প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট শিকার করে শ্রীলংকাকে ১৭৪ রানে অলআউট করতে রাখেন বড় ভূমিকা। ফলো-অনের শিকার লংকানরা দ্বিতীয় ইনিংসে আরো অসহায়। জাদেজা ও রবিচন্দ্র অশ্বিন সমান চারটি করে উইকেট নিয়ে সিংহলিজদের অলআউট করেন ১৭৮ রানে। এতে মাত্র তিনদিনের মধ্যেই ইনিংস ও ২২২ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত হয় সফরকারী দলটি।

 

জাদেজা ৪১ রানে ৫টি এবং জসপ্রিত বুমরাহ ও রবিচন্দ্র অশ্বিন প্রত্যেকেই দুটি করে উইকেট নিলে প্রথম ইনিংসে ১৭৪ রানে গুটিয়ে যায় লংকানরা। ফলো-অনে পড়া দলটি দ্বিতীয় ইনিংসে ৪৫ রানের মধ্যে হারায় তিন উইকেট। ধনঞ্জয়া ডি সিলভা (৩০), অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ (২৮) ও চারিথ আসালঙ্কা (২০) লংকানদের চাপ থেকে বের করে আনার চেষ্টা করলেও তারা সবাই জাদেজা ও অশ্বিনের ঘূর্ণির শিকার হন। ১২১ রানের সময় শ্রীলংকার তিন ব্যাটারের বিদায় ঘটে (১২১/৭)।

 

এরপর নিরোশান ডিকবেলা হাফসেঞ্চুরি করে দলকে টানতে থাকেন। ৪২ বলে ২ রান করে তাকে দীর্ঘ সময় সঙ্গ দেন লাসিথ এমবুলদেনিয়া। যদিও একটি সময় জাদেজার ঘূর্ণির শিকার হন তিনি। এরপর নতুন বলে বিশ্ব ফার্নান্দো ও লাহিরু কুমারাকে ফিরিয়ে ভারতের জয় নিশ্চিত করেন পেসার মোহাম্মাদ শামি।

 

১৭৫ রান করার পাশাপাশি ৮৭ রানে ৯ উইকেট শিকার করা জাদেজা হয়েছেন ম্যাচসেরা খেলোয়াড়। যদিও আর একটি উইকেট শিকার করলেই প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে কোনো টেস্টে দেড়শ রানের পাশাপাশি ১০ উইকেট নেয়ার কীর্তি গড়তেন জাদেজা।

 

জাদেজার আলোয় ঢাকা পড়ে গেলেও ম্যাচে দুর্দান্ত পারফর্ম করেন অশ্বিন। ৬১ রান করার পর বল হাতে নিয়েছেন ছয় উইকেট। এর মধ্য দিয়ে উইকেট শিকারে তিনি পেছনে ফেলেন রিচার্ড হ্যাডলি, রঙ্গনা হেরাথ আর কপিল দেবকে। ৮৫ টেস্টে তার শিকার ৪৩৬ উইকেট। দুজনের অনবদ্য পারফরম্যান্সে অনেকেই হয়তো ভুলে গেছেন, এটা বিরাট কোহলির শততম টেস্ট।

 

বেঙ্গালুরুতে ১২ মার্চ শুরু হবে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট।