উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে শিরোপা জয়ের রেকর্ডটা আরো সংহত করল রিয়াল মাদ্রিদ। আজ ভোরে প্যারিস ফাইনালে লিভারপুলকে ১-০ গোলে হারিয়ে ১৪তম ইউরোপিয়ান মুকুট জয় করল মাদ্রিদ জায়ান্টরা। এর আগে ১৯৫৬ থেকে ১৯৬০ পর্যন্ত টানা পাঁচবার এবং ১৯৬৬, ১৯৯৮, ২০০০, ২০০২, ২০১৪, ২০১৬, ২০১৭ ও ২০১৮ সালে ইউরোপিয়ান শ্রেষ্ঠত্ব পায় রিয়াল।

 

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সাতবার ইউরোপিয়ান মুকুট জিতেছে এসি মিলান। এছাড়া বায়ার্ন মিউনিখ ও লিভারপুল জিতেছে ছয়বার করে।

 

প্রথম কোচ হিসেবে চারটি ইউরোপিয়ান শিরোপা জিতলেন কার্লো অ্যানচেলত্তি। 


১৪ শিরোপার মধ্যে এবারেরটি জিততে বোধকরি সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে রিয়াল। তারা শেষ ষোলোয় পিএসজি, শেষ আটে চেলসি ও সেমিফাইনালে ম্যানসিটিকে হারিয়ে এসেছে এবং ওই তিনটি ম্যাচেই পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত জিতেছে তারা। আর ফাইনালে তারা হারাল বিশ্বের অন্যতম নিখুঁত দল লিভারপুলকে।

 

ম্যাচের প্রথমার্ধে লিভারপুল কর্তৃত্ব করলেও গোল করতে পারেনি। দ্বিতীয়ার্ধে দেখা মেলে আত্মবিশ্বাসী রিয়ালের। তার সুফলও মেলে অল্প সময়ের মধ্যে। ৫৯ মিনিটে ফেদেরিকো ভালভার্দের পাস থেকে গোল করেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ভালভার্দে ডানপ্রাপ্ত দিয়ে দৌড়ে বক্সের মধ্যে ক্রস দেন। আলেক্সান্ডার আর্নল্ডের পেছন দিক থেকে ঝড়ের গতিতে উঠে এসে অত্যন্ত্ম কাছ থেকে নেয়া শটে গোল করেন ব্রাজিলিয়ান তরুণ। ২০০০ সালের পর জন্মগ্রহণ করা কোনো খেলোয়াড় এই প্রথম চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে গোল করলেন এবং তার গোলটিই এবারের চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা নির্ধারণ করে দিল।

 

ম্যাচে লিভারপুল হেরেছে মূলত রিয়াল গোলকিপার থিবো কোর্তোয়ার কাছে। রিয়াল মাদ্রিদ গোলকিপারের ওপর দিয়ে রীতিমতো ঝড় বয়ে যায় এবং তিনি অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে একের পর এক ঝড় সামাল দেন।

 

ম্যাচের শুরুর দিকে মোহাম্মদ সালাহর দু দুটি শট রুখে দেন কোর্তোয়া, আর সাদিও মানের শটে বল বারে লাগে। ২০ মিনিটের মধ্যেই অন টার্গেটে চারটি শট নেয় লিভারপুল, যা ২০১৯ সালে শিরোপা জয়ের পথে টটেনহামের বিপক্ষে করা গোটা ম্যাচের শটের চেয়েও বেশি। সেবার তারা ফাইনালে তিনটি শট অন টার্গেটে রেখেছিল। আবার এই মৌসুমে অন্য যেকোনো দলের চেয়ে বেশিবার বারে লাগিয়েছেন লিভারপুল খেলোয়াড়রা।

 

শেষ মিনিট পর্যন্ত রিয়ালের গোলমুখে চাপ তৈরি করে গেছেন লিভারপুল তারকারা, যদিও এদিন কিছুতেই ভাগ্যের শিঁকে ছেড়েনি তাদের। সালাহ ম্যাচের ৮৩ মিনিটে দারুণভাবে বল নিয়ন্ত্রণ করার পর এক ডিফেন্ডারকে পেছনে ফেলে গোলমুখে শট নিলেও তা রুখে দেন কোর্তোয়া। 

 

প্রথমার্ধের ৪৩ মিনিটে জটলার মধ্য থেকে করা রিয়াল স্ট্রাইকার করিম বেনজেমার গোল বাতিল করে দেয় ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি। অবশ্য শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি জিতে নেয়ায় বেনজেমার আক্ষেপ হয়তো ঘুচেছে।