কোপা আমেরিকা ২০২১ চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইউরোজয়ী ইতালি আগামীকাল বুধবার লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হচ্ছে। ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত পৌঁনে একটায়। সরাসরি দেখাবে সনি টেন ১ এইচডি।
বাছাইপর্বে ব্যর্থ হওয়ায় এবার কাতারে অনুষ্ঠেয় ফিফা বিশ্বকাপে দেখা যাবে না চারবারের বিশ্বজয়ী ইতালিকে। সেই দুঃখ ভুলতে কাল ওয়েম্বলিতে জিততে মরিয়া হবে আজ্জুরিরা, যে মাঠে গত বছর তারা ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জয় করে। এই ম্যাচটি আবার অধিনায়ক গিওর্গিও কিয়েল্লিনির জন্য বিশেষ আবেগের, এটিই তার শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ।
কোচ রবার্তো মানচিনি এই ম্যাচে তার ইউরো ২০২০ জয়ী তারকাদের একাদশে প্রাধান্য দিতে পারেন। আবার ভবিষ্যতের কথাও তিনি ভাবতে পারেন। আলেসান্দ্রো বাসতোনি, স্যান্দ্রো তোলানি, নিকোলো জানিওলো ও জিয়ানলুকা স্কামাচ্চারা সবাই নীল জার্সিতে লড়াই করতে তৈরি।
মানচিনি বলেন, আমাদের বিশ্বকাপে উত্তীর্ণ হওয়া উচিত ছিল, যদিও কিছু খুটিনাটি বিষয় আমাদের পক্ষে কাজ করেনি। আমাদের দলটি তারুণ্যনির্ভর। সমর্থকরা আমাদের সঙ্গেই আছে। এক বছর আগে আমরা যোগ্যতর দল হিসেবেই ইউরো জয় করেছি। উয়েফা নেশন্স লিগে আমরা শক্ত গ্রুপে। ওয়েম্বলিতে প্রথম একাদশে খেলতে পারে জিওভানি লরেঞ্জো ও লিওনার্দো স্পিনােজালা।
প্রায় তিন বছর ধরে অপরাজিত আর্জেন্টিনা পূর্ণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে ইতালির বিপক্ষে মাঠে নামবে। ২৮ বছরের খরা কাটিয়ে ২০২১ সালে কোপা আমেরিকা জয় করে আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপের মঞ্চে নামার আগে লাতিন চ্যাম্পিয়নরা কাল আজ্জুরিদের বিপক্ষে নিজেদের শক্তি-দুর্বলতাও পরীক্ষা করে নেয়ার সুযোগ পাবে। ইউরোপের দর্শকদের কাছে অবশ্য লিওনেল স্কালোনির দলের খেলোয়াড়রা কেউই অপরিচিত নন। একাদশে দেখা যাবে লিওনেল মেসি, পাওলো দিবালা, অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া ও লাউতারো মার্তিনেজের মতো তারকাকে।
আর্জেন্টিনার কোচ স্কালোনি মনে করিয়ে দিলেন যে, প্রীতি ম্যাচ হলেও একে হালকাভাবে নিচ্ছে না তার দল। তিনি বলেছেন, শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলা সব সময়ই গুরুত্বপূর্ণ। আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা সব সময়ই জাতীয় দলের জন্য, দেশের ব্যাচের জন্য সমর্থকদের জন্য এবং নিজেদের পরিবারের জন্য খেলে। এটা সব সময়ই ছিল এবং এখন মনে হয় এমন চেতনা আরো বেড়েছে।
‘দ্য ফাইনালিসিমা’:
দুই মহাদেশের চ্যাম্পিয়নদের এই লড়াইটার কেতাবি নাম ‘দ্য ফাইনালিসিমা’। গত বছর ডিসেম্বরে সই করা সমঝোতা চুক্তি অনুসারে এই ম্যাচটি মাঠে গড়াচ্ছে। এতে ৯০ মিনিট খেলা হবে। কোনো অতিরিক্ত সময় নেই। কাজেই, ৯০ মিনিট শেষে যদি সমতা থাকে তবে সরাসরি টাইব্রেকার।
কোপার সেমিফাইনালে টাইব্রেকারে কলম্বিয়াকে হারায় আর্জেন্টিনা। ওই ম্যাচে তিনটি পেনাল্টি সেভ করেন আর্জেন্টিনার গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। আর একটি ইউরোতে দু দুবার টাইব্রেকার জেতা দল ইতালি। তারা সেমিফাইনালে স্পেনকে ও ফাইনালে ইংল্যান্ডকে টাইব্রেকারে হারায়।
ইতালিকে সর্বশেষ চারবারের মুখোমুখিতে প্রতিবার হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। সর্বশেষ তিনটি লড়াই ছিল প্রীতি ম্যাচ। বড় আসরের মধ্যে ১৯৯০ বিশ্বকাপে ইতালিকে তাদেরই মাটিতে ৪-৩ গোলে হারায় আলবিসেলেস্তেরা।
এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো ইউরো ও লাতিন চ্যাম্পিয়নরা মুখোমুখি হচ্ছে। দুই মহাদেশের চ্যাম্পিয়নরা প্রথম মুখোমুখি হয় ১৯৮৫ সালে। সেবার প্যারিসে উরুগুয়েকে ২-০ গোলে হারায় ফ্রান্স। এর আট বছর পর মার ডেল প্লাটায় ডেনমার্ককে টাইব্রেকারে হারায় আর্জেন্টিনা।
ইতালি
ফিফা র্যাংকিং: ৬
বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন: ১৯৩৪, ১৯৩৮, ১৯৮২, ২০০৬
ইউরো চ্যাম্পিয়ন: ১৯৬৮ ও ২০২০
আর্জেন্টিনা
ফিফা র্যাংকিং: ৪
বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন: ১৯৭৮ ও ১৯৮৬
কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন: ১৫ বার










