ব্যান্ডটির আসন্ন নবম স্টুডিও অ্যালবামের প্রথম গান হিসেবে এটি উন্মুক্ত করা হয়েছে। এরই মধ্যে শিরোনামহীনের অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেল ও ফেসবুক পেজে গানটি শুনতে পাচ্ছেন শ্রোতারা।

গানটির কথা লিখেছেন ব্যান্ডের দলনেতা ও বেজ গিটারিস্ট জিয়াউর রহমান জিয়া। যৌথভাবে এর সুর বেঁধেছেন জিয়াউর রহমান ও কাজী আহমেদ শাফিন।

গানের লাইনে লাইনে যুদ্ধবিধ্বস্ত পৃথিবীর ক্ষত আর শান্তির প্রার্থনা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে—

‘‌পৃথিবীর সব মিসাইল ফড়িং হয়ে উড়ে যাক, ড্রোন থেকে বোমার পরিবর্তে ঝরে পড়ুক ফুল, গ্রেনেডের মুখে ফুটুক রক্তগোলাপ, পৃথিবীর সব সংঘাত বদলে যাক শান্তিতে।’

গানটির পেছনের ভাবনা নিয়ে জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, ‘‌২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ ও সহিংসতায় প্রায় ২ লাখ ৪৫ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্ব ইতিহাসের অন্যতম একটি রক্তক্ষয়ী বছর। আমরা যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই। আমাদের নতুন গানে আমরা সেই শান্তির বার্তাই তুলে ধরেছি।’

বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে ‘যুদ্ধ’ গানের পুরো মিউজিক ভিডিওটি নির্মাণ করা হয়েছে আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে। যেখানে যুদ্ধক্ষেত্রের নির্মম ও বাস্তব চিত্র দারুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রায় তিন দশক ধরে বাংলা গানের জগতে রাজত্ব করছে ‘শিরোনামহীন’। ২০০৪ সালে তাদের প্রথম অ্যালবাম ‘জাহাজী’ প্রকাশের পর ‘হাসিমুখ’ ও ‘জাহাজী’ গান দুটির মাধ্যমে শ্রোতামহলে তুমুল জনপ্রিয়তা পায় তারা। এ পর্যন্ত আটটি পূর্ণাঙ্গ অ্যালবাম প্রকাশ করেছে ব্যান্ডটি, যার সর্বশেষ সংযোজন ছিল ‘বাতিঘর’।

বর্তমানে শিরোনামহীনের লাইনআপে রয়েছেন জিয়াউর রহমান, কাজী আহমেদ শাফিন, শেখ ইশতিয়াক, সাইমন চৌধুরী ও সুদীপ্ত সিনহা দীপু। নাম চূড়ান্ত না হওয়া তাদের নবম অ্যালবামের বাকি গানগুলোর কাজও বেশ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।

তিন দশক ধরে বাংলা গানের জগতে রাজত্ব করা ‘শিরোনামহীন’ তাদের নতুন গান ‘যুদ্ধ’-এর মাধ্যমে সময়ের এক দারুণ দাবি তুলে ধরেছে। আধুনিক এআই প্রযুক্তির নান্দনিক ব্যবহারে তৈরি মিউজিক ভিডিওটি যেমন বাংলা গানে নতুন মাত্রা যোগ করেছে, তেমনি গানের বাণী বিশ্বজুড়ে চলমান হিংসা ও যুদ্ধ বন্ধের এক তীব্র আকুতি ফুটিয়ে তুলেছে। সংঘাতময় পৃথিবীতে শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দেয়া শিরোনামহীনের এ নতুন সৃষ্টি শ্রোতাদের হৃদয়ে গভীরভাবে দাগ কাটবে এবং প্রযুক্তি ও সংগীতের এক অনন্য মেলবন্ধন হিসেবে প্রশংসিত হবে বলে প্রত্যাশা সংগীতসংশ্লিষ্টদের।