চলচ্চিত্র শিল্প নিয়ে ক্রমাগত সমালোচনা, আক্রমণের প্রতিবাদ জানিয়েছে প্রডিউসারস গিল্ড অব ইন্ডিয়া। বলিউড নিয়ে খোঁজখবর রাখেন এমন সবারই জানা সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর পর থেকেই বলিউড ইন্ডাস্ট্রির বিরুদ্ধে নেপোটিজম, মাদকাসক্তি, পাকিস্তান কানেকশন প্রভৃতি বিষয়ে অভিযোগের তীর ছোড়া হচ্ছে। সোস্যাল মিডিয়া, গণমাধ্যম, কিংবা খোদ কঙ্গনার মতো বলিউডের অনেক তারকাই এসব সমালোচনার রসদ জোগাচ্ছেন।
সুশান্ত ট্র্যাজেডি বলিউডকে একেবারে কাঁপিয়ে দিয়েছে। অনেকে ভেবেছিলেন দিন গড়াতেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে। কিন্তু তেমনটা হয়নি। বরং দুনিয়ার সবচেয়ে বড় চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিগুলোর একটির বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় জমে উঠেছে।
বলিউডের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ নিয়ে শুক্রবার এক খোলা চিঠি প্রকাশ করেছে প্রডিউসারস গিল্ড অব ইন্ডিয়া। টুইটারে প্রকাশ করা এ চিঠিতে বলা হয়েছে, ভারতীয় চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির সুনাম ক্ষুণ্ন করা এবং মিথ্যা প্রচার চালানো হচ্ছে। গিল্ডের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘একজন তরুণ তারকার ট্র্যাজিক মৃত্যুকে অনেকে ইন্ডাস্ট্রি এবং এর শিল্পীদের বদনাম ও অপবাদ দেয়ার কাজে ব্যবহার করছে।’ আরো বলা হয়েছে, বাইরে থেকে আসা কোনো শিল্পীর জন্য বলিউডকে যে ভয়ানক জায়গা হিসেবে চিত্রায়িত করা হচ্ছে তা সত্য নয়।
বিবৃতিতে গিল্ড এটা স্বীকার করে নিয়েছে যে তাদের সবকিছু নিখুঁত নয়। তারা বলছেন আর সব খাতের মতো এখানেও উন্নতির চেষ্টা রয়েছে। একটি ব্রাশ দিয়ে পুরো ইন্ডাস্ট্রিকে রঙ করাটা বাস্তবতার ভুল চিত্রায়ন হবে।
ইন্ডাস্ট্রির ইতিবাচক বিষয়গুলো উল্লেখ করে গিল্ড বলছে, ‘ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে, পর্যটন ও ভ্রমণে জোয়ার এনেছে। বিশ্বে ভারতের সফট পাওয়ারের অন্যতম উৎস এই ইন্ডাস্ট্রি। শতাব্দীকাল ধরে এ ইন্ডাস্ট্রি কোটি কোটি মানুষকে বিনোদন দিচ্ছে; জাতির জন্য আনন্দ, হাসি আর গৌরব বয়ে এনেছে। পুরো দেশ থেকে সাহিত্য, কবিতা, শিল্প কিংবা সংগীত প্রতিভাধরদের এখানে স্বাগত জানানো এবং তাদের আপন করে নেয়া হয়। তাদের দিয়ে তৈরি করা হয় অনন্য চলচ্চিত্র ভাষা।’
স্বজনতোষণ নিয়ে বলা হয়েছে, পরিবারের কেউ হয়তো সহজে প্রথম ছবিতে সুযোগ পায়, কিন্তু এরপর তাকে নিজের যোগ্যতায়ই প্রতিষ্ঠা পেতে হয়।
সোনাম কাপুর, ফারহান আখতার, সোনাক্ষী সিনহা, জেনেলিয়া দেশমুখ, জয়া আখতারসহ অনেক বলিউড তারকা ও পরিচালক প্রডিউসারস গিল্ড অব ইন্ডিয়ার এ বিবৃতির সঙ্গে সংহতি জানিয়েছেন।
সূত্র: ডিএনএ










