বগুড়ার জনপ্রিয় সিনেমা হল মধুবন সিনেপ্লেক্স স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) থেকে আধুনিকায়নের মাত্র চার বছর পরই বন্ধ হয়ে যায় এ প্রেক্ষাগৃহ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিনেপ্লেক্সের স্বত্বাধিকারী রোকনুজ্জামান ইউনূস।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই লোকসানের কারণে প্রেক্ষাগৃহ চালানো সম্ভব হচ্ছিল না। ‘আজই শেষ দিন। এই সপ্তাহে নন্দিনী সিনেমাটি চালাচ্ছিলাম, কিন্তু দর্শক পাইনি। সিনেমা চালানোর খরচই উঠছে না। তাই অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখছি।
রোকনুজ্জামান ইউনূস বলেন, ‘সবশেষে তাণ্ডব সিনেমার পর আর কোনো ব্যবসা সফল সিনেমা আসেনি। দর্শক না থাকায় টানা লোকসানে সিনেপ্লেক্স চালানো সম্ভব নয়। বিদ্যুৎ বিল বাকি, কর্মচারীদের বেতন নিজেদের পকেট থেকে দিতে হচ্ছে। বিদেশী সিনেমা চালাতে পারলে হয়তো দর্শক আসত, কিন্তু সেই সুযোগ নেই।’
মধুবন সিনেপ্লেক্সে ৩৩৬ আসন ছিল। আধুনিকায়নের পর ‘পরাণ’, ‘হাওয়া’, ‘প্রিয়তমা’, ‘তুফান’ ও ‘বরবাদ’-এর মতো হিট সিনেমা দিয়ে জমজমাট ব্যবসা হয়েছিল। এমনকি বরবাদ সিনেমার সময়ে একাধিক মিডনাইট শো-ও চালানো হয় পরিবার-দর্শকদের ভিড় সামলাতে।
প্রেক্ষাগৃহটির যাত্রা শুরু হয় ১৯৭৪ সালে। ইবনে মিজান পরিচালিত শাবানা-ওয়াসিম অভিনীত ডাকু মনসুর সিনেমা দিয়ে প্রথম পর্দা ওঠে মধুবনে। ব্রিটিশ আর্মির অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট এ এম ইউনুস প্রতিষ্ঠা করেছিলেন হলটি। পরে তার ছেলে রুবেল আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেন এবং ২০২১ সালের ১৫ অক্টোবর নতুন রূপে সিনেপ্লেক্স হিসেবে যাত্রা শুরু করে মধুবন।
তবে চার বছর না পেরুতেই বন্ধ হয়ে গেল বগুড়ার এই ঐতিহ্যবাহী প্রেক্ষাগৃহ।









