কলা কেন্দ্রে চলছে একটি শিল্প প্রদর্শনী। শিল্পী ফারজানা আহমেদ উর্মির শিল্পকর্ম নিয়ে কলা কেন্দ্র আয়োজন করেছে ‘আত্ম-অনুপস্থিতির সাক্ষ্য’। শুক্রবার বিকাল ৫টায় প্রদর্শনীর উদ্বোধন হয় এবং এটি চলবে চলবে ২ মার্চ পর্যন্ত।

ফারজানা আহমেদ উর্মির চিত্র নির্মাণ, বিনির্মাণে, শারীরিক-মানসিক চাক্ষুষ ক্ষুধা, উচ্ছ্বাস তাকে এ সময়ের শিল্পচর্চায় উদ্যমী শিল্পীতে প্রতিষ্ঠিত করেছে। চিত্রকলার মৌলিক ভিত্তির ওপর আছে তার সীমাহীন আস্থা। স্থান, উপকরণ, বিষয় ভাবনা, উপস্থাপনা, দৃষ্টিভঙ্গি, যৌক্তিক মাপঝোক তোয়াক্কা করে-না করেই মুক্ত, আবেগ, কোলাহলপূর্ণ মেলামেশার মধ্যে শিল্পচর্চায় নিমজ্জিত হতে পারেন।

ফারজানা উর্মি তার প্রদর্শনী নিয়ে ওয়াকিলুর রহমান বলেন, ‘বিভিন্ন সময়ে করা মানব অবয়ব রূপ নিয়ে চিত্রিত বিমূর্ত কাজগুলো নিয়ে উর্মির এবারের প্রদর্শনী কলা কেন্দ্রে। শিল্পী তার নিজস্ব আবেগ, দৃষ্টিভঙ্গি এবং মনস্তাত্ত্বিক অবস্থাকে বিষয়ের ওপর প্রক্ষেপণ করেন। আঁকা ও কোলাজ করা উপকরণগুলো চিত্রগুলোকে একটি বিস্তৃত সামাজিক এবং ঐতিহাসিক সময়ের অংশ করে তোলে।

শিল্পী ফারজানা আহমেদ উর্মি বলেন, ‘আমার কাজের সূচনা হয় সম্পর্ক, সময় ও অনুপস্থিতির ভেতর থেকে। যেসব বিষয় দৈনন্দিন জীবনে ধীরে ধীরে ক্ষয়ে যায় যেমন একটি সম্পর্ক, একটি গাছ অথবা একটি দিন যার কোনো বিশেষ মানে নেই—সেগুলোই আমার কাজের প্রধান উপাদান। আমি বিশ্বাস করি, যা নেই, তারও একটি রূপ আছে; অনুপস্থিতিও একটি দৃশ্যমান অবস্থা।

আমি অচেনা মুখ আঁকি, কারণ আমি কাউকে খুঁজছি যার পরিচয় এখনো নির্দিষ্ট নয়। কখনো সেই মুখ প্রাক্তন প্রেমিকদের প্রতিকৃতির ভেতর দিয়ে তৈরি হয়, কখনো তা কেবল একটি অসম্পূর্ণ রেখা হয়ে থাকে। এ অচেনা মুখ আসলে নিজেরই একটি খণ্ডিত প্রতিচ্ছবি।

সবশেষে, আমার কাজ জীবনের প্রতি এক ধরনের জেদি ভালোবাসার প্রকাশ। জীবনের হাস্যকরতা, ব্যর্থতা ও থমকে যাওয়া সত্ত্বেও আমি হাসতে চাই। কারণ সেই হাসির ভেতর দিয়েই আমি নিজেকে সারিয়ে তুলি। আমার শিল্প কোনো সমাধান দেয় না বরং দর্শককে নিজের সময়, নিজের অনুপস্থিতি এবং নিজের প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করায়।’