আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছে দ্য ম্যাট্রিক্স, ওশানস ইলেভেন, জোকার ও দ্য লেগো মুভি ফ্র্যাঞ্চাইজির মতো জনপ্রিয় চলচ্চিত্রের প্রযোজক ও অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান ভিলেজ রোডশো এন্টারটেইনমেন্ট গ্রুপ। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে দেউলিয়াত্ব সুরক্ষা পেতে আবেদন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। খবর ভ্যারাইটি।

আদালতের নথি অনুযায়ী, কোম্পানিটির কাছে ২২ কোটি ৩৮ লাখ ডলারের সম্পদ-ভিত্তিক ঋণপত্রের পাশাপাশি ১৬ কোটি ৩১ লাখ ডলারের ঋণ রয়েছে।

২০২১ সালে মুক্তি পাওয়া সাই-সাই সিক্যুয়াল ‘দ্য ম্যাট্রিক্স রিসারেকশনস’ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ওয়ার্নার ব্রসের সঙ্গে আইনি লড়াই করছে ভিলেজ রোডশো। প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, চুক্তি লঙ্ঘন করে প্রেক্ষাগৃহের সঙ্গে সিনেমাটি একই দিনে ওটিটি প্লাটফর্ম ম্যাক্সে মুক্তি দিয়েছে ওয়ার্নার ব্রস।

সোমবার দাখিল করা নথিতে ‘দ্য ম্যাট্রিক্স রিসারেকশনস’ সম্পর্কিত জটিলতাও তুলে ধরে ভিলেজ রোডশো। সেখানে বলা হয়েছে, কোম্পানিটি ওয়ার্নার ব্রসের সঙ্গে সফল যৌথ প্রযোজনা, যৌথ অর্থায়ন ও মালিকানা সম্পর্কে ছিল, এতে ‘দ্য ম্যাট্রিক্স’ ফ্র্যাঞ্চাইজিসহ ৮৯টি চলচ্চিত্রের উৎপাদন, মালিকানা ও অধিকার অন্তর্ভুক্ত। এ প্রকল্পগুলোই মূলত কোম্পানির ব্যবসার প্রধান অংশ ছিল।

আরো উল্লেখ করা হয়েছে, ওয়ার্নার ব্রসের সঙ্গে বিকল্প নিষ্পত্তিতে যাওয়ায় কোম্পানির খরচ ১ কোটি ৮০ লাখ ডলার ছাড়িয়েছে, যার বেশিরভাগই এখনো পরিশোধ করা হয়নি।

পাশাপাশি সম্ভাব্য নিষ্পত্তি কোম্পানির আর্থিক কাঠামোকে ধ্বংস করে দিতে পারে। তবে এটি সমস্যার সম্পূর্ণ চিত্র নয়।

ভিলেজ রোডশো বলছে, ওয়ার্নার ব্রেসের সঙ্গে নিষ্পত্তি সত্ত্বেও কোম্পানিটি বিশ্বাস করে যে এ আইনি লড়াই তাদের মধ্যকার কর্মসম্পর্ককে চিরতরে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

অথচ এটিই ছিল কোম্পানির বিনোদন খাতে সাফল্যের মূল ভিত্তি।

অনেক কোম্পানির মতো ভিলেজ রোডশোও মহামারীর কারণে মন্দার শিকার হয়েছিল। পাশাপাশি হলিউডের লেখক ধর্মঘটের কারণে তাদের সিনেমার শুটিং বিলম্বিত হয়।

ভিলেজ রোডশো ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এ পর্যন্ত কোম্পানিটি শতাধিক চলচ্চিত্র প্রযোজনা ও মুক্তি দিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ম্যাড ম্যাক্স: ফিউরি রোড, রেডি প্লেয়ার ওয়ান এবং উনকা। ২০১৭ সালে ফ্যালকন স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার্স এবং ভাইন মিডিয়া অপরচুনিটিজের কাছে নিয়ন্ত্রণমূলক শেয়ার বিক্রি করে ভিলেজ রোডশো।

২০১৮ সালে কোম্পানিটি বড় স্টুডিও পার্টনার ছাড়া চলচ্চিত্র ও টিভি শো তৈরি শুরু করে। আদালতের নথি অনুসারে, তারা ছয়টি সিনেমা ও সাতটি টিভি শো তৈরি করলেও কোনোটিই লাভজনক ছিল না।

অর্থনৈতিক সংকট বেড়ে যাওয়ায় ২০২৪ সালের শুরুর দিকে কোম্পানিটি বিক্রির চেষ্টা শুরু হয়। এখন কোম্পানির কর্মী সংখ্যা ছিল ৪৫ থেকে কমে মাত্র ১১ জনে দাঁড়িয়েছে।