নতুন কাজ ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে বণিক বার্তার সঙ্গে কথা বলেছেন পার্থ শেখ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন অহিদুর রহমান

এ মুহূর্তে নতুন কী কী কাজ নিয়ে ব্যস্ত আছেন?

এ মুহূর্তে একসঙ্গে বেশ কয়েকটি কাজ নিয়ে ব্যস্ত আছি। যেমন সুলতান এন্টারটেইনমেন্ট থেকে দুটি কাজের শুটিং এরই মধ্যে চলছে। এছাড়া আরো কয়েকটি বড় চ্যানেলের কাজ আছে। সব মিলিয়ে মোটামুটি ভালো ব্যস্ততার মধ্য দিয়েই যাচ্ছে সময়টা। আশা করছি, সামনে ভালো কিছু হবে।

‘অমর প্রেম’ নাটকে দর্শকের কাছ থেকে বেশ ভালো সাড়া পেয়েছেন। এ সাফল্যকে কীভাবে দেখছেন?

হ্যাঁ, অমর প্রেমে দর্শকের বেশ ভালো একটা সাড়া পেয়েছি। অডিয়েন্সের কাছ থেকে বেশকিছু ইতিবাচক মতামতও পেয়েছি। অমর প্রেমের প্রতি আমার সবসময় একটা আলাদা ভালোবাসার জায়গা থাকবে। আশা করি, সামনের কাজগুলোয়ও দর্শক এভাবেই ভালোবাসা দেখাবে। এটাই চাওয়া।

বিয়ের পর প্রায় সাত মাসের বিরতিটা কি আগে থেকেই পরিকল্পনা করা ছিল, নাকি দাম্পত্য জীবনের শুরুর সময়টা মাথায় রেখেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন?

না, আগে থেকে পরিকল্পনা করা এমন কিছু ছিল না। তবে চেয়েছিলাম, এখন থেকে একটু বেছে বেছে ভালো গল্পে কাজ করি। তাই নিজের জন্য কিছুটা সময় নিয়েছিলাম, যাতে ভাবতে পারি সামনে কীভাবে এগোনো বা ক্যারিয়ারটা আসলে কোন দিকে নিয়ে যাওয়া উচিত। সব মিলিয়ে ক্যারিয়ারটা যেন ভালো দিকেই এগোয়, সেটা মাথায় রেখেই এ বিরতি নেয়া। যাতে ভালোভাবে ভেবে ঠিক করতে পারি সামনে কী কী করা যায়। এ কারণেই আসলে বিরতিটা নেয়া হয়েছিল।

আপনি বলেছেন, স্ত্রী আপনার কাজের যতটা সমর্থক, তার চেয়েও বেশি সমালোচক। এমন সম্পর্ক গড়ে ওঠার গল্পটা কী?

অবশ্যই, সে আমার জীবনে সবচেয়ে বড় সাপোর্ট। সে সবসময় পাশে থেকে সাপোর্ট করে, ভালো কাজের প্রশংসাও করে, আবার ভুলগুলোও ধরিয়ে দেয়। এভাবেই গড়ে উঠেছে আমাদের সম্পর্কটা।

অমর প্রেম নাটকে সহশিল্পী তটিনীর সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

অভিজ্ঞতাটা খুবই ভালো ছিল। তটিনী ভালো একজন অভিনেত্রী। তার জন্য অনেক শুভকামনা রইল। সামনে সে আরো ভালো কাজ করুক—এটাই চাওয়া।

বিরতি শেষে কাজে ফিরে এখনকার রুটিনে কী পরিবর্তন এনেছেন?

হ্যাঁ, এখন কাজে অবশ্যই পরিবর্তন এসেছে। আগে যখন বিরতিতে ছিলাম, তখন একটু দেরি করে ঘুম থেকে ওঠা হতো, অনেক রাত পর্যন্ত মুভি দেখা হতো। এখন কাজে ফিরেছি বলে সময়মতো ঘুম থেকে ওঠা, কলটাইম ধরা—এখন রুটিনে বেশ পরিবর্তন চলে এসেছে।

নাটক আর ওয়েব ফিল্ম—দুই মাধ্যমে কাজের অভিজ্ঞতায় কী পার্থক্য অনুভব করেন?

আসলে খুব একটা পার্থক্য অনুভব করি না। প্রতিটা গল্পেরই নিজস্ব একটা চরিত্র থাকে, আর আমার কাছে প্রতিটা গল্পই সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই যখন যে চরিত্রটা আমাকে দেয়া হয়, সেটা ওটিটি হোক বা নাটক, তা ঠিকঠাকভাবে করার চেষ্টা করি। এদিক থেকে তেমন কোনো পার্থক্য নেই। শেষ পর্যন্ত সবই গল্প বলা।

অভিনয়ের এ পথচলা আপনাকে ব্যক্তি ও শিল্পী হিসেবে কতটা বদলেছে?

অভিনয়ের এ পথচলায় দীর্ঘ ১০ বছর হয়ে গেল। এ ১০ বছরে অনেক কিছু শেখা হয়েছে। শুরুটা করেছিলাম বিজ্ঞাপন দিয়ে। এরপর ২০২৪ সালের দিকে টিভি ড্রামা বা টিভি ফিকশনে কাজ শুরু করি। তাই অনেক বছর পর এসে ফিকশনে কাজ শুরু করেছি, দুই বছর ধরে ফিকশনে কাজ করছি। সব মিলিয়ে বেশ ভালো একটা সময় কাটছে, ভালো অভিজ্ঞতাও হচ্ছে। সামনে আরো ভালো কাজ করার ইচ্ছা আছে, এটাই বলব।

এতদিনের ক্যারিয়ারে সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং সময় কোনটি ছিল?

একজন অভিনেতার পুরো জার্নিটাই চ্যালেঞ্জিং। স্ট্রাগল, ওঠানামা সবকিছু মিলিয়েই এ পথচলা। তবে আট থেকে নয় মাস ছিল আমার জীবনের অন্যতম সংগ্রামের একটা সময়, এটা বলা যায়। এর আগেও অনেক ধরনের সংগ্রাম গেছে, নানা রকম চ্যালেঞ্জ থেকেছে সবসময়ই। সব মিলিয়ে বলব আলহামদুলিল্লাহ—আল্লাহর কাছে অসংখ্য শুকরিয়া।