রোববার ডিজনির ‘হল অব ফেম’-এ আনুষ্ঠানিকভাবে এ সম্মাননা দেয়া হয়। ‘দ্য ডেভিল ওয়্যার্স প্রাডা’র পরিচালক ডেভিড ফ্র্যাঙ্কেল এবং ভোগ সম্পাদক আনা উইনটুর মঞ্চে তাকে পরিচয় করিয়ে দেয়ার পর বিপুল করতালির মধ্যে সম্মাননা গ্রহণ করেন হ্যাথাওয়ে।
তিনি বলেন, ‘আজ আমি এখানে দাঁড়িয়ে আছি, কারণ আমি পৃথিবীর সবচেয়ে সৌভাগ্যবান মানুষের একজন। আমি কতটা ভাগ্যবান যে এমন একটি পরিবারে জন্মেছি, যেখানে অভিনয়, গল্প বলা ও কল্পনাশক্তিকে মূল্য দেয়া এবং উদযাপন করা হতো।’ এ সময় দর্শক সারিতে থাকা তার বাবা-মায়ের দিকে ইঙ্গিত করেন তিনি। অনুষ্ঠানে তার স্বামী অ্যাডাম শুলম্যান এবং দুই ছেলে জোনাথন ও জ্যাকও উপস্থিত ছিল।
‘দ্য প্রিন্সেস ডায়েরিজ’-এ মিয়া থার্মোপলিস চরিত্রে বড় পর্দায় অভিষেকের ২৫ বছর পর এ সম্মান পেলেন হ্যাথাওয়ে। ২০০১ সালের ৩ আগস্ট মুক্তি পেয়েছিল সিনেমাটি। ২০০৪ সালের ‘দ্য ডেভিল ওয়্যার্স প্রাডা’য় অ্যান্ডি স্যাকস চরিত্রে অভিনয় করে ডিজনির সঙ্গে তার সম্পর্ক আরো দৃঢ় হয়। চলতি বছর ‘দ্য ডেভিল ওয়্যার্স প্রাডা টু’তে আবারো চরিত্রটি ফিরিয়ে আনেন তিনি। সিনেমাটি বিশ্বব্যাপী ৬৯ কোটি ডলারের বেশি আয় করেছে। পুরো ফ্র্যাঞ্চাইজির আয় ছাড়িয়েছে ১ বিলিয়ন ডলার।
হ্যাথাওয়ের কৃতজ্ঞতার তালিকায় ছিলেন প্রয়াত পরিচালক গ্যারি মার্শাল। তিনি অ্যানাকে জেনোভিয়ার রাজকন্যা মিয়া চরিত্রে বেছে নিয়েছিলেন। হ্যাথাওয়ে দ্য প্রিন্সেস ডায়েরিজের প্রযোজক ডেবরা মার্টিন চেজ ও প্রয়াত হুইটনি হিউস্টনের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান।
হ্যাথাওয়ে বলেন, ‘আমি কতটা ভাগ্যবান যে আমার প্রথম স্টুডিও সিনেমায়ই সর্বকালের অন্যতম সেরা ডিজনি লেজেন্ড, অতুলনীয় জুলি অ্যান্ড্রুজের সঙ্গে অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছিলাম।’
মাত্র ১৭ বছর বয়সে অ্যান্ড্রুজের কাছ থেকে তিনি অনেক কিছু শিখেছেন বলেও জানান হ্যাথাওয়ে। তার ভাষায়, প্রথমবারের রিডিং থেকেই অ্যান্ড্রুজ তাকে শিখিয়েছিলেন—‘দয়া, ধৈর্য, বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ, সৌজন্য, রসবোধ ও কঠোর পরিশ্রম’—এ গুণগুলোর সমন্বয় অসাধারণ। হ্যাথাওয়ে বলেন, ‘দ্য প্রিন্সেস ডায়েরিজ তার প্রথম ডিজনি ক্ল্যাসিকে পরিণত হয়েছিল, আর জুলি অ্যান্ড্রুজের জন্য সেটি ছিল ২৭তম।’
এরপর দ্য ডেভিল ওয়্যার্স প্রাডা প্রসঙ্গে হ্যাথাওয়ে বলেন, ‘আমি কতটা ভাগ্যবান যে প্রথম কাজটি এত অল্প বয়সে আমাকে এত সুযোগের দরজা খুলে দিয়েছিল—যেমন দ্য ডেভিল ওয়্যার্স প্রাডায় এমন একটি চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ, যার জন্য যেন ১ মিলিয়ন মেয়ে প্রস্তুত ছিল।’
স্ট্যানলি টুচি, এমিলি ব্লান্ট ও মেরিল স্ট্রিপের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতার কথাও স্মরণ করেন তিনি। মেরিল স্ট্রিপের নাম ইচ্ছাকৃতভাবে ভুলে যাওয়ার ভান করে হাস্যরসও করেন হ্যাথাওয়ে। তিনি বলেন, ‘আমি এখন পর্যন্ত আমার জীবনটা এমন কিছু করতে করতে কাটিয়েছি, যা আমি ভালোবাসি। পথে অসংখ্য রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা হয়েছে, আনন্দ পেয়েছি এবং সে অসাধারণ সৌভাগ্যের মূল্য বুঝেছি, যা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ—এমন একটি পরিবারের সঙ্গে জীবন ভাগ করে নেয়ার সুযোগ দিয়েছে, যাদের আমি এর চেয়ে বেশি ভালোবাসতে পারি না।’
সূত্র: ভ্যারাইটি










