চীনের খেলনা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান পপ মার্ট এবং সনি পিকচার্স যৌথভাবে লাবুবুকে কেন্দ্র করে একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে। লাইভ-অ্যাকশন ও কম্পিউটার জেনারেটেড অ্যানিমেশনের মিশেলে তৈরি এ সিনেমা বর্তমানে প্রাথমিক উন্নয়ন পর্যায়ে রয়েছে।
ছবিটি পরিচালনা করবেন পল কিং। তিনি ‘প্যাডিংটন’ ও ‘ওয়াঙ্কা’র মতো সফল চলচ্চিত্রের জন্য পরিচিত। লাবুবুর ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্যারিসে আয়োজিত একটি বৈশ্বিক প্রদর্শনীতে এ সিনেমার ঘোষণা দেয়া হয়। ছবিটির নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে থাকবেন কেসিং লাং। পরিচালনার পাশাপাশি পল কিং চিত্রনাট্য তৈরিতেও যুক্ত থাকবেন। তার সঙ্গে কাজ করবেন স্টিভেন লেভেনসন, যিনি ‘ডিয়ার ইভেন হানসেন’ এবং ‘টিক, টিক...বুম!’-এর জন্য পরিচিত। সিনেমাটির মুক্তির তারিখ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।
লাবুবু পুতুলের জনপ্রিয়তা গত কয়েক বছরে বিস্ময়করভাবে বেড়েছে। এ সাফল্যের জেরে পপ মার্ট প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে, যা মেটেলের মতো বড় প্রতিদ্বন্দ্বীকেও ছাড়িয়ে গেছে। ‘ব্লাইন্ড বক্স’ ধারণার কারণে লাবুবুর প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ আরো বেড়েছে। প্যাকেট খোলার আগে কেউ জানেন না, কোন চরিত্রটি তারা পাচ্ছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, লাবুবুকে ঘিরে মিডিয়া ফ্র্যাঞ্চাইজি তৈরি করা পপ মার্টের জন্য একটি যৌক্তিক পদক্ষেপ।
ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুরের মার্কেটিং প্রভাষক কিম দাইয়ং জানান, একটি ‘লাবুবু’ সিনেমা পপ মার্টকে খেলনার দোকান থেকে একটি বিনোদনমূলক ব্র্যান্ডে রূপান্তর করতে সাহায্য করতে পারে।
অন্যদিকে সিঙ্গাপুর ম্যানেজমেন্ট ইউনিভার্সিটির লি কং চিয়ান স্কুল অব বিজনেসের কাপিল তুলির মতে, লাবুবুর শক্তিশালী ও নিবেদিত ভক্তগোষ্ঠী থাকায় একটি সফল চলচ্চিত্র পপ মার্টের জন্য বড় ধরনের প্রবৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করতে পারে।
লাবুবুর জনপ্রিয়তা শুধু সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। রিহানা ও লিজার মতো তারকারাও তাদের ফ্যাশন অ্যাকসেসরিজে লাবুবু ব্যবহার করে আলোচনায় এসেছেন। এ ট্রেন্ডই লাবুবুকে একটি বৈশ্বিক সংস্কৃতির অংশে পরিণত করেছে।
হংকংয়ের শিল্পী কাসিং লং এক দশকেরও বেশি আগে লাবুবু চরিত্রটি সৃষ্টি করেন। তার দ্য মনস্টারস সিরিজের অংশ এ বনপরী অনুপ্রাণিত চরিত্রটি এখন একটি বৃহৎ ফ্যানবেজ তৈরি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ সিনেমা পপ মার্টকে একটি পূর্ণাঙ্গ বিনোদন ব্র্যান্ডে রূপান্তর করতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে ‘নে ঝা টু’ ও ‘ব্ল্যাক মিথ: উকং’-এর সাফল্য চীনা কনটেন্টের বৈশ্বিক সম্ভাবনাকেও বাড়িয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে লাবুবুর সিনেমা নির্মাণকে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।









