আজ সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে নাটকটির এ বিশেষ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। তবে থিয়েটারের দীর্ঘদিনের চেনা প্রথা ভেঙে এবার এক ভিন্নধর্মী প্রচারণায় নেমেছেন নাটকটির নাট্যকার ও নির্দেশক মাসুম রেজা।

সাধারণত নাটকের পোস্টার বা প্রচারণায় কুশীলব কিংবা চরিত্রের প্রাধান্য থাকলেও এবার নিজের ছবিযুক্ত একটি বিশেষ পোস্টার শেয়ার করেছেন তিনি। থিয়েটার অঙ্গনের প্রচলিত এ নিয়ম ভাঙা প্রসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাসুম রেজা লেখেন, ‘‌নাটকের প্রচারে সাধারণত নাট্যকার-নির্দেশকের ছবি দেয়ার প্রচলন নেই। এটা যে নাট্যকার বা নির্দেশককে বঞ্চিত করা, তা অনুভব করে এবার ছবি দিয়েই প্রচারে নামলাম।"তার শেয়ার করা এ বিশেষ পোস্টার এরই মধ্যে নাট্যমহলে বেশ প্রশংসা কুড়াচ্ছে।

50

চেনা প্রথা ভাঙার এ খবরের পাশাপাশি নাটকটির প্রদর্শনী সংখ্যা নিয়ে দর্শকের মনে বেশ কৌতূহল তৈরি হয়েছে। এবারের প্রদর্শনীটি হতে যাচ্ছে ‘১৩০.৫তম’। প্রদর্শনী সংখ্যায় এ ‘দশমিক পাঁচ (.৫)’ লেখার পেছনে রয়েছে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ইতিহাস।

নির্দেশক মাসুম রেজা স্মরণ করিয়ে দিয়ে জানান, নিত্যপুরাণ নাটকটি ২৪ সালের নভেম্বরে এক পরিকল্পিত মবের হামলায় মাঝপথে বন্ধ করে দিয়েছিলেন তৎকালীন শিল্পকলার ডিজি। যেহেতু সেদিন নিত্যপুরাণের অর্ধেকটা করতে পেরেছিল দেশ নাটক, তাই তার পর থেকে আমরা প্রতি শোর সঙ্গে এ অর্ধেকটা যোগ করে শো সংখ্যা লিখি। সে হিসেবে আমাদের এবারের প্রদর্শনী সংখ্যা ১৩০.৫।

নতুন সাজের এ নিত্যপুরাণে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে চরিত্রের কাস্টিংয়ে। নাটকটির অন্যতম প্রধান দুই চরিত্র ‘একলব্য’ ও ‘অর্জুন’ রূপে দেখা যাবে নতুন দুই মুখকে। এবারের প্রদর্শনীর মাধ্যমে ‘একলব্য’ চরিত্রে অভিষেক হতে যাচ্ছে হোসাইন নীরবের। অন্যদিকে ‘অর্জুন’ চরিত্রে মঞ্চ মাতাবেন নতুন, কিন্তু অভিজ্ঞ অভিনেতা আশরাফুল আশীষ। সম্প্রতি এক বিশেষ মহড়ার মাধ্যমে এ দুই নতুন শিল্পীকে চরিত্রের ভেতরের মনস্তাত্ত্বিক বোঝাপড়া ও ভেতরের দ্বন্দ্বগুলো বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে।

নিজের নাট্যভাবনা ও গুরু স্মরণে নির্দেশক বলেন, ‘‌মঞ্চের একেকটা নাটকে শত শত মুহূর্ত তৈরি হয়। আমার শিল্পভাবনার গুরু সেলিম আল দীন বলতেন‍ একটা নাটক চলাকালীন যেকোনো জায়গার স্টিল পিকচার নিলে তা যেন দেখতে নাটকীয় মুহূর্ত বলে মনে হয়। দেশ নাটকের নিত্যপুরাণ নির্মাণকালে আমি সেই গুরুবাক্য মেনে চলার চেষ্টা করেছি। নিত্যপুরাণের যেকোনো মুহূর্তই নাট্যমুহূর্ত।