বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি নায়ক সোহেল রানা। নিয়মিত পর্দায় আর দেখা যায় না তাকে। তবে চলচ্চিত্রের প্রতি টান, সহকর্মীদের জন্য মমতা আর দেশবাসীর প্রতি দায়বদ্ধতা এখনও সমানভাবে অনুভব করেন তিনি।

গতকাল রোববার বিএফডিসিতে প্রয়াত চলচ্চিত্রশিল্পীদের স্মরণে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন সোহেল রানা। নতুন ও পুরোনো শিল্পীদের ভিড়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। সবার সামনে কান্নাভেজা কণ্ঠে বলেন, ‘আমি ভুল করেছি, ভুল অনেক করেছি। তাই সবার কাছে ক্ষমা চাইছি। যেন মৃত্যুর পর মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে নীতি ও আদর্শ নিয়ে দাঁড়াতে পারি।’

তিনি আরও বলেন, ‘কে কখন চলে যাব, কেউ জানে না। তাই এই সুযোগে আমার সঙ্গে যারা কাজ করেছেন বা ভবিষ্যতে করবেন, আমি যদি কারও প্রতি কোনো অন্যায় বা ভুল করে থাকি, আমি সবার কাছে ক্ষমা চাইছি। কারণ আমি জানি না, কবে চলে যাব।’

সোহেল রানার পারিবারিক নাম মাসুদ পারভেজ। প্রযোজক হিসেবে যাত্রা শুরু হয় ১৯৭২ সালে, নিজের নামেই। বাংলাদেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘ওরা ১১ জন’ প্রযোজনার মধ্য দিয়েই চলচ্চিত্রে আনুষ্ঠানিক প্রবেশ করেন তিনি।

এরপর ১৯৭৩ সালে কাজী আনোয়ার হোসেনের জনপ্রিয় চরিত্র অবলম্বনে নির্মিত ‘মাসুদ রানা’ সিনেমায় নায়ক হিসেবে অভিনয় করেন সোহেল রানা। একই ছবির মাধ্যমে মাসুদ পারভেজ নামে পরিচালক হিসেবেও আত্মপ্রকাশ ঘটে তার।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য জনপ্রিয় চলচ্চিত্র উপহার দিয়েছেন তিনি। অভিনয়ে অসাধারণ অবদানের জন্য তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছেন। এছাড়া ২০১৯ সালে পান জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের আজীবন সম্মাননা।