ভারতীয় জনপ্রিয় অভিনেত্রী, গায়িকা ও সুরকার শ্রুতি হাসান। দক্ষিণী সিনেমা ও বলিউডে কাজ করে অল্প সময়েই দর্শকের মন জয় করেন। কিন্তু ২০১৮ সালে অভিনয় থেকে বিরতি নেন তিনি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তার জীবনের এক সে কঠিন অধ্যায় নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে চলা মানসিক উদ্বেগের কারণে অভিনয় থেকে তাকে সাময়িক বিরতি নিতে হয়েছিল। শ্রুতির মতে, সে বিরতি ছিল তার মানসিক সুস্থতার জন্য অত্যন্ত জরুরি।

দ্য হলিউড রিপোর্টারকে দেয়া সাক্ষাৎকারে শ্রুতি জানান, শিল্পচর্চার পরিবেশ তিনি পেয়েছেন পরিবার থেকেই। বাবা কমল হাসান ও মা সারিকা দুজনেই অভিনয় ও শিল্পকলার নানা শাখার সঙ্গে যুক্ত। শ্রুতি বলেন, ‘আমি এমন এক পরিবারে বড় হয়েছি, যেখানে বাবা-মা দুজনেই শিল্পকলার নানা অঙ্গনে পারদর্শী। দুজনেই একাধিক কাজ করতেন। সে পরিবেশে আমি যত কিছু হতে চেয়েছি, ততটাই হওয়ার সুযোগ পেয়েছি। আমার আগ্রহের পরিধি অনেক বিস্তৃত। তাই অগ্রাধিকার বিষয়গুলোর প্রতি মনোযোগী হই।’

অভিনয়, গান, সংগীত নির্মাণ ও লেখালেখি—এ বহু পরিচয়ের ভার সামলাতে গিয়ে একসময় তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। ২০১৮ সালে অভিনয় থেকে বিরতি নেয়ার সময় তার ব্যক্তিগত জীবনেও পরিবর্তন আসে। সে সময় তৎকালীন প্রেমিকের সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটে, যা ছিল তার কাছে সবচেয়ে কষ্টের বিষয়।

সে সময়ের কথা স্মরণ করে শ্রুতি বলেন, ‘এ বিরতি থেকে আমার জীবনে শুধু ভালোই এসেছে। সবচেয়ে খারাপ যেটা হয়েছিল, তা হলো সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া। কিন্তু বাকি সবকিছু আমাকে নতুন করে নিজেকে মূল্যায়ন করার সুযোগ দিয়েছে। বহু বছর ধরে আমি ভয়াবহ উদ্বেগে ভুগছিলাম, এমন অবস্থায় যে দৈনন্দিন কাজকর্ম চালিয়ে যাওয়াও আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না।’

বিরতির সময় লন্ডনে একা কাটানো দিনগুলো শ্রুতির জীবনে বড় পরিবর্তন আনে। সাধারণ জীবনযাপন, নিজের কাজ নিজে করা এবং নতুন করে সংগীতচর্চার মধ্য দিয়ে তিনি নিজেকে আবিষ্কার করেন। শ্রুতি বলেন, ‘লন্ডনে একা থেকে সংগীতের মধ্য দিয়ে নিজেকে নতুন করে খুঁজে পাওয়ার অভিজ্ঞতা ছিল অসাধারণ। এ সময়ে আমি কোনো কিছুর বিনিময়েই বদলাতে চাই না।’ শ্রুতির মতে, এ বিরতি তাকে মানসিকভাবে শক্তিশালী করার পাশাপাশি সৃজনশীলভাবেও নতুনভাবে গড়ে তুলেছে।

সূত্র: দি ইন্ডিয়ান এক্সেপ্রেস