‘ঢাকা ফিল্ম ক্লাব’-এর উদ্যোগে ২০-২১ ফেব্রুয়ারি দুই দিনব্যাপী ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র প্রদর্শনী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সড়ক দ্বীপে আয়োজন করেছে। সন্ধ্যা ৭টা থেকে চলবে এ প্রদর্শন।
এ আয়োজনের প্রথম দিন, শুক্রবার জহির রায়হান পরিচালিত ‘জীবন থেকে নেয়া’ প্রদর্শিত হবে। একটি দেশ/ একটি সংসার/ একটি চাবির গোছা/ একটি আন্দোলন/ একটি চলচ্চিত্র’—এ স্লোগানে নির্মাতা জহির রায়হান ১৯৭০ সালে নির্মাণ করেছিলেন চলচ্চিত্র ‘জীবন থেকে নেয়া’। তিন এ চলচ্চিত্রে একুশে ফেব্রুয়ারিকে নিয়ে আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর লেখা ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি/ আমি কি ভুলিতে পারি’ গানটি ব্যবহার করেছিলেন। চলচ্চিত্রটিতে অভিনয় করেছেন রাজ্জাক, সুচন্দা, রোজী সামাদ, খান আতাউর রহমান, রওশন জামিল, আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।
দ্বিতীয় দিন শনিবার প্রদর্শন হবে শহীদুল হক খান পরিচালিত ‘কলমীলতা’। ’৫২-এর ভাষা আন্দোলন যে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের রক্তবীজ, এ বিষয়ই নিপুণভাবে ফুটে উঠেছে এ সিনেমায়। ১৯৮১ সালে এটি মুক্তি পায়। এতে পারিবারিক গল্পের আবহে নির্মাতা একুশে ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করে ১৯৭১-এর স্বাধীনতা যুদ্ধ পর্যন্ত টেনে নিয়েছেন গল্প। চলচ্চিত্রটি উৎসর্গ করা হয়েছে দেশের মাটি ও মানুষের জন্য, যারা শহীদ হয়েছেন তাদের স্মৃতির উদ্দেশে। এতে অভিনয় করেছেন কবরী, বুলবুল আহমেদ, সুচরিতা, ইলিয়াস কাঞ্চন, গোলাম মুস্তাফা, রোজী সামাদ, রওশন জামিল, টেলি সামাদ প্রমুখ।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে মাছরাঙা টেলিভিশনে প্রচার হবে একটি বিশেষ নাটক। আগামীকাল রাত ৮টায় প্রচার হবে ‘আমার বর্ণমালা’। সীমান্ত সজলের রচনা ও পরিচালনায় এতে অভিনয় করেছেন তারিক আনাম খান, মৌসুমী হামিদসহ আরো অনেকে। নাটকের গল্পটি ওহাব মাস্টারের। তিনি মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। ১৯৭১ সালে রাজাকাররা রাতের আঁধারে অতর্কিতভাবে তাদের বাড়িতে আগুন দেয়। সে রাতে ছোট্ট ওহাবের হাতে বর্ণমালার বই তুলে দিয়ে তার বাবা বলেছিল, ‘বাবা, তুই আমার বর্ণমালাকে বাঁচা’। বর্ণমালার বই হাতে ওহাব দৌড়ে বের হতে পারলেও তার বাবা-মা তার চোখের সামনে আগুনে পুড়ে মারা যায়। তারপর থেকে ওহাব তার বাবার দেয়া ‘আমার বর্ণমালা’কে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছানোর দায়িত্ব নেয়। লড়াই করতে থাকে ইংলিশ মিডিয়াম নির্মাণ করে ব্যবসা করতে চাওয়া দলের বিরুদ্ধে।










