আয়োজনে গান,–কবিতা ও ধারা বর্ণনায় তুলে ধরা হয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে জার্মানির দীর্ঘস্থায়ী ও গভীর সম্পর্ক।
রবীন্দ্রনাথের জার্মানি সফর ও সেসব সফরে রচিত গানগুলো নিয়ে সাজানো সংগীতায়োজনে সংগীত পরিবেশন করেন রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী সঞ্চিতা পাল। তার কণ্ঠে উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারা উপভোগ করেন জার্মানির সঙ্গে সম্পর্কিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নির্বাচিত গান। রবীন্দ্রসংগীতের বাংলা গানের পাশাপাশি ইংরেজি ভাষ্যে তুলে ধরা হয় এসব গানের পটভূমি।
রবীন্দ্রসংগীতের পাশাপাশি এ আয়োজনের বিশেষ আকর্ষণ ছিল গ্যোটে-ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের পরিচালক ফ্রঙ্ক ভারনারের পরিবেশনা। তিনি গীতাঞ্জলি থেকে একটি কবিতার জার্মান অনুবৃত্তি পাঠ করেন।
অনুষ্ঠানে গ্যোটে-ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রভাব জার্মানিতে ছিল সুদূরপ্রসারী ও তাৎপর্যপূর্ণ। কয়েক দশকজুড়ে তিনি সেখানকার প্রখ্যাত চিন্তাবিদ ও বিদ্বজনের সঙ্গে বৌদ্ধিক ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ে যুক্ত ছিলেন। অনুষ্ঠানে ১৯২৬ সালে রবীন্দ্রনাথের রচিত গানগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। কারণ এসব গান রচনার শতবর্ষ পূর্ণ হচ্ছে এ বছর।
সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় শুরু হওয়া এ আয়োজন চলে ২ ঘণ্টাব্যাপী। হলভর্তি কয়েকশ দর্শক-শ্রোতা পুরো এ আয়োজন উপভোগ করেন পিনপতন নীরবতায়। গান, কবিতার পাশাপাশি ধারা বর্ণনায় তারা ফিরে যান শতবর্ষ আগে রবীন্দ্রনাথের জার্মান ভ্রমণকালে। শিল্পীর পরিবেশনা শুরু হয় ‘আমারে তুমি অশেষ করেছ’ গানটি দিয়ে। পরপর ১০টি গান পরিবেশন করেন শিল্পী সঞ্চিতা পাল। গানের পরিবেশনার ফাঁকে ফাঁকে প্রেক্ষাপট বর্ণনা করেন স্থপতি ধ্রুব জ্যোতি।
সঞ্চিতা পাল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শাস্ত্রীয় সংগীতে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা লাভ করেন। পরবর্তী সময়ে ভারত সরকারের বৃত্তি লাভ করে কলকাতার রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০১২ সালে তিনি ছায়ানট সংগীত বিদ্যায়তনে শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।
অনুষ্ঠানজুড়ে অন্যান্য পরিবেশনার মধ্যে অক্টোপ্যাডে ছিলেন বিদ্যুৎ রায়, তবলায় গৌতম কুমার সরকার, এসরাজে মো. আশিকুল ইসলাম, গিটারে মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন ও কিবোর্ডে রবিনস চৌধুরী।










