বাংলা চলচ্চিত্র জগতের কৌতুক ও রসাভিনয়ে একটি নন্দিত নাম ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিনয় প্রসঙ্গে ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য ছিল এমন, ‘অ্যান আর্টিস্ট মাস্ট ডিক্লাস হিমসেলফ’। নিজের অভিনয় জীবনে তিনি এ কথাটির দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন। সে কারণে হয়তো পরিচালক সত্যজিৎ রায় বলেছিলেন, ভানু অজস্র ছবিতে অভিনয় করেছেন এবং যেখানে বিশেষ কিছু করার নেই সেখানেও করেছেন। আশ্চর্য এই যে, যা-ই করেছেন, তা বহরে ছোট হোক বা বড়ই হোক, তার মধ্যে তার সাবলীলতার পরিচয় রেখে গেছেন। সর্বজন প্রশংসিত বিরল অভিনেতাদের মধ্যে ভানুবাবু একজন।
১৯৪৭ সালে সুশীল মজুমদার পরিচালিত ‘জাগরণ’-এ অভিনয়ের মাধ্যমে চলচ্চিত্রের অঙ্গনে যাত্রা শুরু করেন ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রায় ৩০০ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন এ গুণী অভিনেতা। ১৯৪৯ সালে বিমল রায় পরিচালিত ‘মন্ত্রমুগ্ধ’, প্রেমেন্দ্র মিত্র পরিচালিত ‘সেতু’ প্রভৃতি ছবিতে কাজ করার পর থেকে আর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। এগুলো ছাড়া তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র হলো বরযাত্রী (১৯৫১), পাশের বাড়ি (১৯৫২), সাড়ে চুয়াত্তর (১৯৫৩), ওরা থাকে ওধারে (১৯৫৪), ভানু পেল লটারি (১৯৫৮) ও যমালয়ে জীবন্ত মানুষ (১৯৫৮)। কৌতুক ও রসাভিনয়ের পাশাপাশি ১৯৫৯ সালে মুক্তি পাওয়া ‘পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট’ এবং ১৯৬৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘৮০তে আসিও না’ চলচ্চিত্রে তিনি কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেন। বাংলা সিনেমা ছাড়াও কয়েকটি হিন্দি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। সত্যেন বোস পরিচালিত ‘বন্দিশ’ ও দুলাল গুহ পরিচালিত ‘এক গাঁও কি কাহানি’ ভানু অভিনীত অন্যতম হিন্দি চলচ্চিত্র। এছাড়া বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়ের লেখা গল্প থেকে ‘কাঞ্চন মূল্য’ নামে একটি চলচ্চিত্রও পরিচালনা করেন।
ঢাকার ছেলে ভানু, জন্মেছিলেন ১৯২০ সালে। জন্মগত নাম ‘সাম্যময় বন্দ্যোপাধ্যায়’ হলেও অভিনয় দক্ষতায় তিনি হয়ে উঠেছেন ‘ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়’। ১৯৮৩ সালের এদিনে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছিলেন বাংলা চলচ্চিত্রের সর্বাগ্রগণ্য এই শিল্পী।










