ত্রয়োদশ শতাব্দীতে ভিলেচ নামে এক শহরে নিষিদ্ধ জাদুবিদ্যা অনুশীলন করায় তিনজন নারীকে গ্রেফতার করা হয়। প্রথমজন ক্ষমা পাওয়ার আশায় সব স্বীকার করেন। দ্বিতীয়জন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন যে তিনি শুধু মলম তৈরি করেন। কিন্তু তৃতীয় নারী সব স্বীকার করেন এবং চার্চের পাদ্রিকে অভিশাপ দেন। তিনজনকেই প্রথমে ফাঁসি ও পরে নদীতে ডুবিয়ে দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। পরে পাদ্রি যখন রীতি অনুসারে কিছু আচার পালন করছিলেন তখন তিনি বুঝতে পারেন যে প্রথম আর তৃতীয় নারীর সমস্যা নেই। কিন্তু দ্বিতীয় নারী একজন ডাইনিতে রূপান্তরিত হয়েছে। ডাইনির প্রথম শিকারে পরিণত হয় সেই পাদ্রি। আর শহরজুড়ে শুরু হয় প্লেগ মহামারীর আবির্ভাব।
এমনই গল্পকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে ‘সিজন অব দ্য উইচ’ চলচ্চিত্রের গল্প। হরর ও অ্যাডভেঞ্চার ঘরানার ছবিটি মূলত ত্রয়োদশ ও চতুর্দশ শতাব্দীর প্লটে নির্মিত হয়েছে। সে সময়কার ‘ব্ল্যাক ডেথ’ মহামারীর—যা বর্তমানে প্লেগ নামে পরিচিত—ওপর ভিত্তি করে ছবিটির গল্প এগিয়েছে। ছবিটির প্রাথমিক কাজ মূলত ২০০০ সালে শুরু হলেও নির্মাণজনিত নানা জটিলতা পাড়ি দিয়ে অবশেষে ২০১১-তে মুক্তি পায়।
ছবির গল্পে দেখা যায়, ত্রয়োদশ শতাব্দীর ওই ঘটনার পর ইউরোপজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে প্লেগ মহামারী। চতুর্দশ শতাব্দীর মাঝামাঝি এক সময়ে বিভিন্ন যুদ্ধে অংশ নেয়া দুজন জার্মান নাইট স্যার বেহমেন ও স্যার ফেলসন সব ছেড়েছুড়ে সুন্দর আশ্রয়ের উদ্দেশে রওনা করে। স্টাইরিয়া নামের শহর দিয়ে যাওয়ার সময় তারা আবিষ্কার করে পুরো এলাকাই প্লেগ রোগে আক্রান্ত। তাদের দুজনকে প্লেগ রোগ ছড়ানোর দায়ে শহরের লোকজন গ্রেফতার করে চার্চে নিয়ে যায়। সেখানকার পাদ্রি তাদের মুক্তি দেয়ার শর্ত হিসেবে বলে, অ্যানা নামের একটা মেয়ে আছে, যাকে সবাই ডাইনি হিসেবে সন্দেহ করছে। দূরে একটি বড় চার্চ আছে, সেখানকার পাদ্রি তাকে দেখলেই বুঝতে পারবে। তাদের দুজনকে অ্যানাকে সেই চার্চ পর্যন্ত নিয়ে যেতে হবে।
বেশ কয়েকজন সৈন্য তাদের সঙ্গে পাঠানো হয়। পথে হঠাৎ করে অ্যানা পালিয়ে যায়। তখন সবাই ধারণা করে, অ্যানা আসলেই ডাইনি। তাকে পুনরায় গ্রেফতার করতে প্রচুর রক্তপাত করতে হয় দলটির। কিন্তু তারা যখন সেই চার্চে উপস্থিত হয়, তখন সেখানকার পাদ্রি দেখেই বলে, মেয়েটি আসলে ডাইনি নয়, বরং অন্য একটি ডাইনি অ্যানার ভেতরে দখল নিয়ে আছে এবং সে আসলে ত্রয়োদশ শতাব্দীর সেই ডাইনি, যে কিনা প্লেগ রোগ ছড়িয়েছে। যখন পাদ্রি সেই পুরনো বইয়ের মাধ্যমে ডাইনিকে ধ্বংস করতে যায়, তখন ডাইনিই পাদ্রিকে খুন করে। শুরু হয় ডাইনি আর মানুষের মধ্যকার অসম লড়াই।
৯৮ মিনিট দৈর্ঘ্যের ছবিটি পরিচালনা করেছেন ডমিনিট সেনা। ছবিটিতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন নিকোলাজ কেজ, রন পার্লম্যান, রবার্ট শিহান, ক্লাইর ফয়, স্টিফেন ক্যাম্পবেল মুর প্রমূখ। ছবিটিতে সেনা আর কেজ প্রায় ১১ বছর পর আবার একসঙ্গে কাজ করেছেন। চলচ্চিত্র সমালোচকদের কাছে ছবিটি সাড়া না পেলেও দর্শকদের কাছ থেকে বেশ ভালো সমর্থন পেয়েছে। ৪০ মিলিয়ন ডলারে নির্মিত ছবিটি প্রায় ৯২ মিলিয়ন ডলার আয় করে নেয়।










