বলিউডের জনপ্রিয় নায়িকা ঐশ্বরিয়া রায় জীবনের লক্ষ্য বা পরিকল্পনা করে সিনেমাজগতে আসেননি। তিনি বিজ্ঞানে পড়েছেন। স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হবেন। তার এক শিক্ষক ক্যান্সারে ভুগছিলেন। শ্রদ্ধা ও সহানুভূতির জায়গা থেকে শিক্ষকের জন্য দু-একটি ফটোশুটে অংশ নেন। সে ঘটনাই তাকে শোবিজের জগতে নিয়ে যায়। বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের জেদ্দায় রেড সি ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের পঞ্চম আসরের ‘ইন কনভারসেশন’ সেশনের অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন ঐশ্বরিয়া। সেখানে আলাপচারিতায় এ কথা জানান তিনি। সঞ্চালনায় ছিলেন লেবানিজ টিভি উপস্থাপক রায়া আবিরাশেদ। এ সময় সাবেক এ বিশ্বসুন্দরী বলেন, ‘আজও জীবনের প্রতি আমার মনোভাব একদম ছাত্রসুলভ। জীবনের ঘটনাচক্রে শোবিজে এসেছি।’ তিনি জানান, চরিত্র বাছাই থেকে কাজের প্রতিটি ধাপে তিনি সবসময়ই তার শেখার মনোভাব বজায় রেখেছেন। এজন্য পরিচালক ও ভক্তদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

ঐশ্বরিয়া ১ ঘণ্টার আলাপচারিতায় তাকে গড়ে তোলার মানুষদের কথা তুলে ধরেন এবং তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তার মতে, একজন তারকার ইমেজ অনেক যত্নে সাজানো হয় পেছনের দলগত কর্মে। তিনি বলেন, ‘একজন তারকা তৈরি করতে অনেক সময় লাগে। অনেক মানুষ দলবদ্ধভাবে একজন তারকার সাফল্যের পেছনে কাজ করেন। অসংখ্য টেকনিশিয়ান, শিল্পীর প্রতিভা ও কঠোর পরিশ্রম মিলে তৈরি হয় সিনেমার পর্দার কয়েকটি মিনিট।’

এই সেশনে অ্যাড্রিয়েন ব্রোডি, ডাকোটা জনসন, জেসিকা আলবা ও ভারতের কৃতি শ্যাননসহ আরো অনেকে যুক্ত ছিলেন। অনুষ্ঠানে ঐশ্বরিয়া কালো পোশাকেও উজ্জ্বল ছিলেন। অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে তাকে সবাই উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।

মা হিসেবে নিজের ভূমিকা খুব গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন ঐশ্বয়িয়া। সে কথাও আলাপে উঠে আসে। মেয়ে আরাধ্যা বহুবার মায়ের সঙ্গে বিশ্বমঞ্চে হাজির হয়েছে, অন্য মায়েরা যেমন অফিসে তাদের সন্তান নিয়ে যান—তেমনি স্বাভাবিকভাবে আরাধ্যাও মায়ের কাজের জগতে অংশ নেয়। তিনি জানান, সাজগোজ আমার পেশার ক্ষেত্রে স্বাভাবিক বিষয়। আরাধ্যাও বিষয়টি সহজেই বোঝে।

ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন ১৯৯৪ সালে মিস ওয়ার্ল্ড খেতাব জিতে সিনেমায় প্রবেশ করেন। একই বছরে সুস্মিতা সেন মিস ইউনিভার্স হন। এ দুই জয়ের পর বলিউডের অনেক কিছুই আগের মতো ছিল না। অবশ্য সত্তর দশকে পারভীন ববি ও জিনাত আমান সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা জিতে বলিউডে পা রেখেছিলেন, যা রক্ষণশীল বলিউডে নতুন অধ্যায় তৈরি করে। কিন্তু ঐশ্বরিয়া ও সুস্মিতা সেন সেই পরিবর্তনকে সম্পূর্ণ নতুন উচ্চতায় নিয়ে যান।

সূত্র: দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস