তবে দর্শকের পছন্দ ও প্রশংসার তালিকায় আছে রাক্ষসও। মেহেদী হাসান হৃদয় পরিচালিত সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন সিয়াম আহমেদ। ঈদের দিন মাত্র ১৪টি শো নিয়ে স্টার সিনেপ্লেক্সে এর প্রদর্শন শুরু হয়েছিল। তবে দর্শক চাহিদায় তা বেড়ে ২০-এর বেশি হয়েছিল দুদিন পরই।

প্রথম দিকে কেবল মাল্টিপ্লেক্সেই মুক্তি পায় সিনেমাটি। মাল্টিপ্লেক্সে সর্বাধিক শো পেয়ে এগিয়ে ছিল আফরান নিশো অভিনীত দম। তার পরই ছিল তারকাবহুল সিনেমা বনলতা এক্সপ্রেস। কিন্তু সময়ের সঙ্গে শো বেড়েছিল রাক্ষসেরও। স্টার সিনেপ্লেক্সের সব শাখা মিলিয়ে শুক্রবার রাক্ষসের শো চলেছে ১১টি। গতকালও একই সংখ্যক শো গেছে। অন্যদিকে লায়ন সিনেমাসে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত রাক্ষসের প্রতিদিন চারটি করে শো চলবে, যমুনা ব্লকবাস্টারে চলছে তিনটি করে। রাজশাহীর গ্র্যান্ড রিভারভিউ সিনেপ্লেক্সে প্রতিদিন চলছে তিনটি করে শো এবং গ্র্যান্ড সিলেট মুভি থিয়েটার সিনেপ্লেক্সেও প্রতিদিন চলবে তিনটি করে। সব মিলিয়ে দেশের মাল্টিপ্লেক্সে রাক্ষসের শো হচ্ছে ২৫টি।

এছাড়া শুক্রবার সিঙ্গেল স্ক্রিনে যাত্রা করেছে রাক্ষস। বিভাগীয় ও জেলা শহরের একাধিক বড় হলে আজ প্রদর্শন শুরু হয়েছে সিনেমাটির। প্রথম ধাপে প্রায় ২০-৩০টি হলে এ সিনেমা প্রদর্শিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রযোজনা সংস্থা।

প্রযোজনা সংস্থা ও প্রদর্শক সমিতির বরাতে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আনন্দ সিনেমা (কুলিয়ারচর), মণিহার সিনেমা ও মণিহার সিনেপ্লেক্স (যশোর), মম ইন ও মধুবন (বগুড়া), রাজ তিলক (রাজশাহী), সুগন্ধা (চট্টগ্রাম), মধুমিতা, আনন্দ ও শ্যামলী (ঢাকা), সৈনিক ক্লাব (ঢাকা), সিনেস্কোপ (নারায়ণগঞ্জ), স্বপ্নীলসহ (কুষ্টিয়া) আরো বেশকিছু হলে চলছে রাক্ষস। আগামী সপ্তাহে হল সংখ্যা আরো দ্বিগুণ হবে বলে জানিয়েছেন এ সিনেমার অন্যতম প্রযোজক শাহরীন আক্তার সুমি।

রাক্ষস মূলত বরবাদ ইউনিভার্সের অংশ হিসেবে নির্মিত। সিনেমাটিতে সিয়ামের বিপরীতে অভিনয় করেছেন কলকাতার সুস্মিতা চ্যাটার্জি। এছাড়া রয়েছেন আলী রাজ, সোহেল মণ্ডলসহ আরো অনেকে। বিশেষ একটি গানে অংশ নিয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী নাতালিয়া জানোসজেক।

দেশের সিনেমার দর্শকের কাছে সিয়াম অন্যতম জনপ্রিয় নায়ক। এ সিনেমার ট্রেলার মুক্তির পর মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেলেও সিনেমা মুক্তির পর দর্শক প্রতিক্রিয়া থেকে আরো দর্শক এটি দেখায় উৎসাহী হয়।

তৃতীয় সপ্তাহেও এ সিনেমার দর্শক প্রতিক্রিয়া নিয়ে পরিচালক মেহেদী হাসান হৃদয় বলেন, ‘ভালো সিনেমা দর্শকের কাছে ধীরে হলেও স্থান পাবে। প্রথমে মাল্টিপ্লেক্সে আমাদের শো কম হওয়ায় দর্শক সিনেমাটি দেখতে এসেও দেখার সুযোগ পায়নি অনেকেই। ফলে এখনো দর্শকের চাপ রয়েছে। তৃতীয় সপ্তাহে এসেও এ সিনেমা অলমোস্ট হাউজফুল যাচ্ছে। সিঙ্গেল স্ক্রিনেও এটি বড় সাড়া পাবে বলে আমার বিশ্বাস। কারণ সিঙ্গেল স্ক্রিনের দর্শক যে ধরনের সিনেমা দেখে আনন্দ পায়, তার সবই এতে রয়েছে।’

সিনেমাটির শুটিং হয়েছে বাংলাদেশ, শ্রীলংকা ও ভারতের মুম্বাইয়ে। এটি পরিচালকের দ্বিতীয় সিনেমা। প্রথম সিনেমা বরবাদ করে দারুণ আলোচনায় আসেন তিনি। এবার রাক্ষস দিয়ে সে ধারা অব্যাহত রাখলেন।