পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিনটি বিশেষভাবে উদযাপন হচ্ছে। মা দিবসকে ঘিরে ঢাকাসহ সারা দেশে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বিভিন্ন পদক প্রদানও অনুষ্ঠিত হবে আজ। মা দিবসে বাংলাদেশের শোবিজ অঙ্গনের বিভিন্ন তারকার মাকে নিয়ে বিশেষ কিছু অনুভূতির কথা তুলে ধরা হলো
জিয়াউল ফারুক অপূর্ব
আমার জীবনজুড়ে মায়েরই প্রভাব সবচেয়ে বেশি। বিগত কিছুদিন আমার আম্মু বেশ অসুস্থ ছিলেন। এখন আলহামদুলিল্লাহ অনেকটাই সুস্থ, তাই আমরাও ভালো আছি। আমার জীবনে মায়ের অবদান শতভাগ। একজন সন্তানের পেছনে মায়ের যে অবদান, তা বলে শেষ করা যায় না। আমার কাছে প্রতিটি দিনই মা দিবস। দেশে-বিদেশে যেখানেই থাকি, মায়ের সঙ্গে একবার হলেও কথা বলি, মায়ের পাশে সময় কাটানোর চেষ্টা করি। কারণ বাবা এখন নেই। বাবার অভাব কোনোদিন পূরণ হওয়ার নয়। এখন মা-ই আছেন মাথার ওপর ছায়া হয়ে, ভালোবাসা ও আশীর্বাদ হয়ে। মা সুস্থ থাকুক, ভালো থাকুক। আজীবন মায়ের হাসিমাখা মুখটা দেখতে চাই। আমার মায়ের জন্য সবাই দোয়া করবেন।
জয়া আহসান
জয়া আহসান ও তার মায়ের সম্পর্কটা ভীষণ বন্ধুত্বপূর্ণ। জয়া বলেন, ‘আমি যত বড় হচ্ছি, তত বেশি মাকে অনুভব করছি। ভাবি, আরো বয়স বাড়লে দেখতে ঠিক মায়ের মতো হয়ে যাব। মায়ের মুখের সঙ্গে আমার দারুণ মিল। আমার থেকে মায়ের বয়সের পার্থক্য বেশি নয়, অল্প বয়সেই আমার জন্ম হয়েছিল। সে কারণেই মায়ের সঙ্গে আমি অনেক বেশি ফ্রেন্ডলি। মা আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধু। মেয়েদের সবচেয়ে কাছের বন্ধু মায়েরাই হন, আমার ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম নেই। আমার মনে হয়, মায়ের একটা সিক্সথ সেন্স আছে। না হলে তিনি কীভাবে আমার সবকিছু বুঝতে পারেন! শুটিংয়ে বা কাজে যখন দূরে থাকি, মাকে ফোন করলেই তিনি কণ্ঠ শুনে বুঝে ফেলেন খেয়েছি কিনা, মন ভালো আছে কিনা। এটা বোঝার ক্ষমতা একমাত্র মায়েরই আছে। মা আমার জীবনজুড়ে। পৃথিবীর সব মা ভালো থাকুন, এটাই আমার চাওয়া।
বিদ্যা সিনহা মিম
আমার ক্যারিয়ার ও জীবনে মায়ের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। অবশ্যই বাবারও ভূমিকা আছে। তবে আজ মা দিবস, তাই শুধু মায়ের কথাই বলছি। মায়ের ভূমিকার কথা বলে শেষ করা যাবে না। মা তো মা-ই, তার অবদান আমার হৃদয়জুড়ে, সমস্ত জীবনজুড়ে। আজকে অভিনেত্রী হতে পেরেছি, এর পেছনে মায়ের সাপোর্ট, ভালোবাসা আর পরিশ্রমের কথা সবার আগে বলতে হয়। ছোটবেলা থেকে মা পাশে থেকে অনুপ্রেরণা দিয়ে, সাহস দিয়ে শিল্পের পথে এগিয়ে নিয়ে গেছেন নানা সমস্যার মুখোমুখি হয়েও। আমার অভিনয় জীবন থেকে শুরু করে সিনেমা জীবন পর্যন্ত মায়ের আশীর্বাদ সবসময় আমার সঙ্গে আছে। মায়ের খুব শখ দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানোর। এ পর্যন্ত তাকে বহু দেশ ঘুরিয়েছি। চেষ্টা করছি সামর্থ্যের মধ্যে মায়ের শখ আর স্বপ্নগুলো পূরণ করতে।’
রুনা খান
রুনা খান জানান, তার মায়ের সঙ্গে তার বয়সের পার্থক্য মাত্র ২০ বছর। রুনা বলেন, ‘দেখতে দেখতে আমি বুড়ো হয়ে গেলাম, কিন্তু আমার মা এখনো তরুণী। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে তার সৌন্দর্য ও তারুণ্য যেন আরো বাড়ছে। ধৈর্য, মানবিকতা ও আধুনিকতায় তোমার মতো মানুষ আমি জীবনে খুব কম দেখেছি। তুমি রুচিবান, উদার আর অপূর্ব সুন্দর একজন মানুষ, আম্মা। সুস্থ থাকো, এমনই সুন্দর থাকো। ভালোবাসা। আমার মায়ের জন্য সবাই দোয়া করবেন।’
আব্দুন নূর সজল
আমার মিডিয়া ক্যারিয়ারের শুরু থেকে আব্বা চাইতেন না আমি শোবিজে কাজ করি। কিন্তু আমার মা সবসময় চাইতেন। আব্বা বিদেশে থাকতেন, চাইতেন আমি পড়ালেখায় মনোযোগ দিই। কিন্তু আম্মু অনেক কষ্ট করে আস্তে আস্তে আব্বার অনুমতি আদায় করেছিলেন। সে কারণেই আজ জোর দিয়ে বলতে পারি, আমার আজকের অবস্থানের নেপথ্যে মায়ের অবদানই সবচেয়ে বেশি। এখনো ঘরে না ফেরা পর্যন্ত মা অপেক্ষা করেন, জেগে থাকেন। পারিবারিক অনেক অনুষ্ঠানে সময় করতে পারি না, সবকিছু মা সামলান। মায়ের তুলনা হয় না। মা সুস্থ থাকুন, এটাই আমার একমাত্র চাওয়া।
সুনেরাহ
সম্প্রতি প্রচার শেষ হলো সুনেরাহ অভিনীত এ সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় ধারাবাহিক নাটক ‘এটা আমাদেরই গল্প’। এ নাটকে শেষ মুহূর্তে দর্শকের কাছ থেকে যে ভালোবাসা পেয়েছেন, তা তার আজীবন মনে থাকবে। একজন অভিনেত্রী হিসেবে সুনেরাহর এ পর্যায়ে আসার নেপথ্যে মা ফারহানা শারমীন সাকির ভূমিকাই সবচেয়ে বেশি। ছোটবেলায় নাচ-গান-আর্টের ক্লাসে মা-ই তাকে নিয়ে যেতেন, সময় দিতেন। সুনেরাহর আগ্রহ ছিল বেশি নাচে, যা পরবর্তী সময়ে অভিনয়ে তার এক্সপ্রেশনে অনেক কাজে এসেছে। সুনেরাহ বলেন, ‘আম্মার কারণেই আমার আজকের এ পর্যায়ে আসা। ছোটবেলায় আম্মু যদি অনুপ্রেরণা না দিতেন, সাহস না দিতেন, তাহলে এ পর্যায়ে আসা সম্ভব হতো না। আমার আজকের যা কিছু, তার পুরো কৃতিত্ব আমার আম্মুর।’










