অভিনয়ের চেনা গণ্ডি পেরিয়ে এবার সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী এক নতুন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন এ তারকা। নির্মাণের প্রথা ভাঙা এক নতুন চলচ্চিত্র ‘সোমেশ্বরী’-তে দেখা যাবে তাকে।
একদল তরুণের স্বপ্ন আর স্থানীয় মানুষের ভালোবাসায় সুনামগঞ্জের মধ্যনগর বাজার ও তার আশপাশের এলাকায় নির্মিত হয়েছে সিনেমাটি। সোমেশ্বরী প্রচলিত নিয়মে তৈরি হয়নি। এর গল্প, চিত্রনাট্য এবং পরিচালনা যৌথভাবে করেছেন নওশাবা, আপন, লতা ও জাহিদসহ টিমের বেশ কয়েকজন সদস্য। ইন্টারন্যাশনাল একাডেমি অব ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়ার আওতাধীন ‘গ্রীন ফিল্মস’-এর ব্যানারে এটি নির্মিত হয়েছে। সিনেমাটির নেপথ্যে থেকে সার্বিক প্রযোজনা ও অনুপ্রেরণা দিয়েছেন বিবেশ রায়। সোমেশ্বরীর অভিজ্ঞতা শেয়ার করে নওশাবা বলেন, ‘এ সিনেমার স্ক্রিপ্ট কী হবে বা কারা অভিনয় করবেন, তার কিছুই আমি আগে থেকে জানতাম না। আমরা সবাই মিলে হুট করেই মধ্যনগর চলে যাই এবং সেখানে গিয়েই স্ক্রিপ্ট তৈরি করি। আমার কিন্তু এ সিনেমায় অভিনয় করার কথাই ছিল না। কিন্তু শেষ মুহূর্তে মূল চরিত্রটিতে অভিনয় করার মতো কেউ না থাকায় আমি নিজেই ক্যামেরার সামনে দাঁড়াই।’
কোনো পূর্ব প্রস্তুতি ছাড়া গ্রামীণ চরিত্রে অভিনয় প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, ‘চরিত্রটির জন্য আলাদা করে প্রস্তুতি নেয়ার সময় আমি পাইনি। তবে আমার আব্বু ছোটবেলায় আমাকে নিয়ে দেশের বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে বেড়িয়েছেন। সে কারণে গ্রামীণ জীবনযাপন এবং গ্রামের মানুষের চরিত্রগুলো আমার খুব চেনা ছিল। তাই অভিনয়ে খুব বেশি কষ্ট হয়নি। এছাড়া মধ্যনগরের স্থানীয় মানুষ আমাকে ভীষণ সহযোগিতা করেছেন। সেজন্য আমি আমার আব্বু ও মধ্যনগরের মানুষের কাছে কৃতজ্ঞ।’
সিনেমাটির মূল ভাবনা নিয়ে নওশাবা বলেন, ‘আমাদের প্রকৃতিতে দিনে দিনে যে বিষ ছড়িয়ে পড়ছে, সেই পরিবেশগত সংকটই সোমেশ্বরী সিনেমায় তুলে ধরা হয়েছে।’ এর চেয়ে বেশি কিছু না জানিয়ে বাকি চমকটুকু দর্শকের জন্য তোলা রাখলেন তিনি।
নওশাবা বর্তমানে রেজা আরিফের নির্দেশনায় ‘সিদ্ধার্থ’ নামের একটি জনপ্রিয় মঞ্চ নাটকেও নিয়মিত অভিনয় করছেন।
উল্লেখ্য, আজ থেকে ২৫ বছর আগে এ মধ্যনগর এলাকায়ই চিত্রনায়িকা মুনমুন ও অভিনেতা মাহমুদুল ইসলাম মিঠুকে নিয়ে ‘ধানের কাব্য’ নামের একটি কাহিনীচিত্র নির্মাণ করেছিলেন বিবেশ রায়। দীর্ঘদিন পর এবার তিনি ‘সোমেশ্বরী’র প্রযোজক হিসেবে থাকলেন।










