আগামীর পৃথিবীটা কেমন হবে, তা নিয়ে আছে নানা ধারণা। তেমনই একটি বিষয় নিয়ে শেখ আফনান বিরাহীম তৈরি করেছেন একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। নাম ‘আগামীর ভাবনা’। এটি নির্মাতার প্রথম নির্মাণ। চিত্রনাট্য, পরিচালনা ও প্রযোজনায়ও আছেন তিনি। সংলাপনির্ভর গল্পটি ভবিষ্যতের পৃথিবী নিয়ে সরাসরি কোনো উত্তর দেয় না। প্রযুক্তিকে সরাসরি খারাপ বা ভালো হিসেবে দেখানোর বদলে এটি একটি সূক্ষ্ম কিন্তু গভীর প্রশ্ন তুলে ধরে যে মানুষ হিসেবে মানবীয় গুণাবলিতে বিকশিত না হয়ে দ্রুতগতিতে এগিয়ে গেলে আমরা আসলে কোথায় গিয়ে ঠেকব?
গল্পটিতে চিত্রশিল্পী এডভার্ড মুঙ্কের বিখ্যাত চিত্রকর্ম দ্য স্ক্রিম থেকে অনুপ্রেরণা নেয়া হয়েছে। সে চিত্রের মতোই আগামীর ভাবনা বাইরের বাস্তবতাকে হুবহু দেখানোর চেয়ে ভেতরের মানসিক অবস্থাকে রূপ দিতে চেয়েছে বেশি। এখানে উদ্বেগ কোনো একক চরিত্রের নয়, বরং সমগ্র মানবজাতির অনুভূতি, যা প্রকৃতি, সৃজনশীলতা ও মানুষে-মানুষে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার মধ্য দিয়ে প্রকাশ পায়। এ অস্থিরতা ফুটে ওঠে গল্পের দৃশ্যবিন্যাস, সংলাপ ও নীরবতার মাধ্যমে সূক্ষ্মভাবে।
গল্পটির আরেকটি অনুপ্রেরণা ফ্রিৎস ল্যাংয়ের ১৯২৭ সালের জার্মান এক্সপ্রেশনিস্ট চলচ্চিত্র মেট্রোপলিস। যদিও আগামীর ভাবনা সরাসরি বিজ্ঞান কল্পকাহিনী নয়, তবু এটি যন্ত্রনির্ভর ক্ষমতাকাঠামোয় গড়ে ওঠা সমাজ সম্পর্কে মেট্রোপলিসের সতর্কবার্তাকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
মুক্তির পর থেকেই আগামীর ভাবনা চলচ্চিত্র উৎসব অঙ্গনে ধীরে ধীরে স্বীকৃতি পাচ্ছে। গোয়া শর্ট ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল, ওয়েস্ট বেঙ্গল শর্ট ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল এবং সিনেমাকিং ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দক্ষিণ এশীয় উৎসবে এটি নির্বাচিত হয়েছে। কলকাতা ইন্ডি ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে পুরস্কার অর্জনের পাশাপাশি ২০২৬ সালের আরো কয়েকটি উৎসবে এটি এখনো বিবেচনায় রয়েছে।










