এমি অ্যাওয়ার্ড জয়ী জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেত্রী ক্যাথরিন ও’হারা মারা গেছেন। বিবিসিকে দেয়া এক বিবৃতিতে ও’হারার ব্যক্তিগত প্রতিনিধি জানান, কিছুদিন অসুস্থ থাকার পর শুক্রবার যুরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেেলসে নিজের বাড়িতে তিনি মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর।
কানাডীয় এই অভিনেত্রী টরন্টোর সেকেন্ড সিটি ইম্প্রোভাইজেশন ট্রুপ ও এসসিটিভিতে কাজের মাধ্যমে খ্যাতি অর্জন করেন। পরে ১৯৮৮ সালের ‘বিটলজুস’ চলচ্চিত্রে এবং ছুটির মৌসুমের ক্লাসিক ‘হোম অ্যালোন’-এ পরিবারের নারী প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেন।
সহকর্মীরা ক্যাথরিন ও’ হারাকে স্মরণ করেছেন একজন ‘অসাধারণ মানুষ, শিল্পী ও সহযোগী’ হিসেবে। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি কাজ করে গেছেন। সম্প্রতি তিনি এমি জয়ী কমেডি সিরিজ ‘দ্য স্টুডিও’ এবং এইচবিওর জনপ্রিয় সিরিজ ‘দ্য লাস্ট অব আস’-এ অভিনয় করেন। ক্যারিয়ারে একাধিকবার স্মরণীয় চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের মনে স্থায়ী ছাপ রেখেছেন ও’হারা।
১৯৮৮ সালের ভৌতিক ব্যঙ্গধর্মী চলচ্চিত্র ‘বিটলজুস’-এ তিনি ডেলিয়া ডিটজ চরিত্রে অভিনয় করেন, যেখানে তিনি ‘দ্য বানানা বোট সং’ গানে নাচের এক অনবদ্য দৃশ্য উপহার দেন। পরে ‘হোম অ্যালোন’-এ অভিনয় করে চলচ্চিত্রে বিশ্বখ্যাতি অর্জন করেন। সিনেমাাটি এখনো সর্বকালের সবচেয়ে সফল কমেডি চলচ্চিত্রগুলোর অন্যতম।
অভিনেতা ম্যাকোলে কালকিন ‘হোম অ্যালোন’ সিনেমায় ও’ হারার ছেলের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ও’হারা–ও কালকিনের মা-ছেলের সম্পর্ক দর্শকের কাছে আইকনি হিসেবে বিবেচিত। শুক্রবার ম্যাকোলে তার পর্দার মাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে লেখেন, ‘মা, আমি ভেবেছিলাম আমাদের আরও সময় আছে। আমি আরও চাইতাম। তোমার পাশে বসে থাকতে চাইতাম। আমি তোমার কথা শুনেছি। কিন্তু আমার আরও অনেক কথা বলা বাকি ছিল। আমি তোমাকে ভালোবাসি। পরে দেখা হবে।’
এক সাক্ষাৎকারে নিজের কৌতুকবোধ গড়ে ওঠার পেছনে ও’ হারা কানাডীয় শিকড়ের কথা স্বীকার করেছেন। ২০২০ সালে ‘রোলিং স্টোন’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, কানাডায় বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতায় যুক্তরাষ্ট্রের মতো তীব্র জাতীয়তাবাদ বা দেশপ্রেম তিনি দেখেননি। তিনি বলেন, ‘এটা ভালো দিক, কারণ এতে আপনি নিজের বাইরে তাকাতে শেখেন, বিশ্ব সম্পর্কে সচেতন হন। কানাডীয়দের শুধু অন্যদের নিয়েই নয়, নিজেদের নিয়েও হাস্যরস আছে।’
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ও’ হারার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে বলেছেন, ‘পাঁচ দশকের বেশি সময়ের কাজের মাধ্যমে ক্যাথরিন কানাডীয় কমেডির ইতিহাসে নিজের শক্ত স্থান করে নিয়েছেন। কানাডা একজন কিংবদন্তিকে অভিনেত্রীকে হারিয়েছে।’










