এবারের আসরে সর্বোচ্চসংখ্যক পুরস্কার পেল ‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’। সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন পল থমাস অ্যান্ডারসন। এর মধ্যে ছিল সেরা চলচ্চিত্র ও সেরা পরিচালকের পুরস্কারও। স্বাভাবিকভাবেই এ স্বীকৃতির মধ্য দিয়ে সিনেমাটির অস্কার সম্ভাবনা বেড়ে গেল। সেই সঙ্গে তালিকার পরের অবস্থানে আছে রায়ান কুগলার পরিচালিত ‘‌সিনার্স’। তিনটি পুরস্কার পেয়েছে সিনেমাটি।

যুক্তরাজ্যের চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম বড় আয়োজন বাফটা ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডস। এবারের আয়োজনটি উপস্থাপনা করেন ‘দ্য ট্রেইটর্স’খ্যাত অ্যালান কামিং। তিনি পুরো অনুষ্ঠানে হালকা মেজাজ বজায় রাখেন। টিমোথি শ্যালামে ও কাইলি জেনারের হাতে ব্রিটিশ নাশতা তুলে দেয়া থেকে শুরু করে দর্শক সারিতে ফোন ব্যবহার করায় পল মেসকালকে রসিকতা করে খোঁচা দেয়া—সবই ছিল তার উপস্থাপনার অংশ।

অনুষ্ঠানের শুরুর দিকেই কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ বিজয়ীর নাম ঘোষণা হয়। ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদারে অভিনয়ের জন্য শন পেন জেতেন সেরা পার্শ্ব অভিনেতার পুরস্কার। সিনার্সে অভিনয়ের জন্য উনমি মোসাকু পান সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রীর সম্মান। কারিগরি বিভাগে এগিয়ে ছিল ‘ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন’। সিনেমাটি প্রডাকশন ডিজাইন, মেকআপ ও হেয়ার এবং কস্টিউম ডিজাইনে পুরস্কার জেতে।

অনুষ্ঠানের সবচেয়ে বড় চমক ছিল যখন ‘ইই রাইজিং স্টার অ্যাওয়ার্ড’ জয়ের পর রবার্ট আরামায়ো সেরা অভিনেতার পুরস্কারও জিতে নেন। ব্রিটিশ অভিনেতা আরামায়ো অভিনীত ‘আই সোয়ার’ একটি ইনডিপেনডেন্ট ফিল্ম। এটি বাস্তব জীবনের টুরেট সিনড্রোম সচেতনতাকর্মী জন ডেভিডসনের জীবন অবলম্বনে নির্মিত। ডেভিডসন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

রায়ান কুগলারের সিনার্স তিনটি পুরস্কার জিতে ইতিহাস সৃষ্টি করে। এটি কোনো কৃষ্ণাঙ্গ পরিচালকের নির্মিত চলচ্চিত্র হিসেবে সর্বাধিক বাফটা জয়ী সিনেমা হয়ে ওঠে। চলচ্চিত্রটি সেরা মৌলিক চিত্রনাট্য, সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রী (উনমি মোসাকু) ও সেরা মৌলিক সংগীত (লুডভিগ গোরানসন) বিভাগে পুরস্কার পেয়েছে। কুগলার নিজেও মৌলিক চিত্রনাট্য বিভাগে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ বিজয়ী হিসেবে ইতিহাস গড়েন। পুরস্কার গ্রহণের সময় তিনি লেখকদের উদ্দেশে অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য দেন।

ক্লোয়ি ঝাও পরিচালিত ‘হ্যামনেট’ জিতেছে সেরা ব্রিটিশ চলচ্চিত্রের পুরস্কার। একই সঙ্গে এর প্রধান অভিনেত্রী জেসি বাকলি জিতে নেন সেরা অভিনেত্রীর সম্মান। অস্কার দৌড়েও যিনি এগিয়ে রয়েছেন। অন্যদিকে, ‘সেন্টিমেন্টাল ভ্যালু’ প্রথম নরওয়েজীয় চলচ্চিত্র হিসেবে বাফটা জেতে (ইংরেজি নয় এমন ভাষার চলচ্চিত্র বিভাগে)। ব্রিটিশ আন্তর্জাতিক ফিচার অস্কার মনোনীত ‘মাই ফাদার্স শ্যাডো’ পায় সেরা ব্রিটিশ অভিষেকের পুরস্কার।

অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশনায়ও ছিল বিশেষ আকর্ষণ। ‘কেপপ ডেমন হান্টার্স’-এর গায়িকা ইজে, অড্রে নুনা ও রেই আমি প্রথমবারের মতো যুক্তরাজ্যে লাইভ পারফর্ম করেন। ইন মেমোরিয়াম পর্বে জেসি ওয়্যার পরিবেশন করেন বারব্রা স্ট্রেইস্যান্ডের ‘দ্য ওয়ে উই ওয়ার’ গানের কভার।

পুরস্কার ঘোষণার আগে ‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’ ছিল সর্বাধিক ১৪টি মনোনয়নপ্রাপ্ত সিনেমা। এর আগে অ্যাটেনবরোর ‘গান্ধী’ (১৯৮২) ১৬টি মনোনয়ন পেয়ে রেকর্ড গড়েছিল। এবার রায়ান কুগলারের সিনার্স পেয়েছিল ১৩টি মনোনয়ন। ‘হ্যামনেট’ ও ‘মার্টি সুপ্রিম’ পেয়েছিল ১১টি করে মনোনয়ন। তবে ‘মার্টি সুপ্রিম’ কোনো পুরস্কার পায়নি।

সূত্র ও ছবি: ভ্যারাইটি