এবারের আসরে আজীবন সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন কিংবদন্তি চিত্রনায়ক আলমগীর। গতকাল রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী। ক্রেস্ট তুলে দেন রুনা লায়লা, পাশে ছিলেন প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান। আজীবন সম্মাননার অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অভিনেতা আফজাল হোসেন।
আলমগীর পুরস্কার গ্রহণকালে দর্শক দাঁড়িয়ে তাকে সম্মান জানান। বক্তব্যে দর্শককে ধন্যবাদ দিয়ে আলমগীর বলেন, ‘আমি আজীবন এটি মনে ধারণ করব। আমি সত্যিই এর প্রাপ্য কিনা জানি না। অভিনয়ের যে গভীরতা, এর শেষ এক জনমে খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয়। আমরা তো একটা জনমই পেয়েছি। শেষ কখনো দেখে যেতে পারব না।’ আলমগীর পুরস্কারের অর্থ ৩ লাখ টাকা প্রথম আলো ট্রাস্টে প্রদান করেন।
উল্লেখ্য, নায়ক, পরিচালক ও প্রযোজক সব ভূমিকায়ই সফল আলমগীর। ১৯৭২ সালে আমার জন্মভূমি চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তার অভিনয় জীবনের শুরু। এরপর ‘দস্যুরানী, ‘অতিথি’, ‘মমতা’ ও ‘হীরা’সহ অসংখ্য জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয় করে তিনি দর্শকের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নেন। ১৯৮৫ সালে ‘মা ও ছেলে’ চলচ্চিত্রের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন এবং পরবর্তী সময়ে একাধিকবার এ সম্মাননা লাভ করেন। বাংলাদেশের নায়কদের মধ্যে সর্বাধিকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জয়ের রেকর্ডও তার। ২০১৯ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে পান আজীবন সম্মাননা। ২০২৪ সালে রাষ্ট্রীয় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত হন আলমগীর।

আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিকাল ৫টায় তারকাদের পদচারণায় শুরু হয় মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার ২০২৫। এবার বসে ২৭তম আসর। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নবীন, প্রবীণ ও খ্যাতিমান সব তারকা। পাশাপাশি আমন্ত্রিত অতিথিরা আলোকিত করেছেন অনুষ্ঠানকে। শোবিজের তারকারা লাল গালিচায় পা রাখেন বিকাল থেকেই। দেশের খ্যাতনামা ফ্যাশন হাউজ ও ডিজাইনারদের পোশাক পরে উপস্থিত হন তারা। জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী আসেন কালো বডিকন পরে। কালো রঙের ফ্লোর টাচ গাউন পরে লাল গালিচায় হাজির হন অভিনেত্রী সুনেরাহ বিনতে কামাল। মেহজাবীন চৌধুরীকে দেখা যায় পাথরখচিত সাদা পোশাকে।
এরপর শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান। উপস্থাপক মৌসুমী মৌয়ের অনুরোধে ‘প্রেশার কুকার’ সিনেমার ‘বড়াই করে’ গানটি গেয়ে শোনান অভিনেতা খায়রুল বাসার। একুশে পদক ও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনয়শিল্পী দিলারা জামান অনুষ্ঠানে মঞ্চে উঠে বলেন, ‘মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারটি অস্কারের মতো’।
এরপর অন্যান্য বিভাগের পুরস্কার ঘোষণা করা হয় এক-এক করে। ‘তোমাদের গল্প’ স্বল্পদৈর্ঘ্য কাহিনীচিত্রের জন্য সেরা চিত্রনাট্যকার হিসেবে মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার ২০২৫ পান সিদ্দিক আহমেদ। একই কাহিনীচিত্রের জন্য সেরা নির্দেশকের পুরস্কার পান মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ। এ ক্যাটাগরিতে ‘ভালো থেকো’ নাটকের জন্য সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পান তানজিম সাইয়ারা তটিনী। ‘খুব কাছেরই কেউ’ কাহিনীচিত্রের জন্য সেরা অভিনেতার পুরস্কার পান এফএস নাঈম।
সেরা ওয়েব সিরিজের পুরস্কার পেয়েছে ‘গুলমোহর’। এ ওয়েব সিরিজের পরিচালক সৈয়দ আহমেদ শাওকী সেরা পরিচালকের পুরস্কার জেতেন । ওয়েব সিরিজে ‘জিম্মি’-তে অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পান জয়া আহসান। ওয়েব সিরিজে ‘মাইশেলফ অ্যালেন স্বপন-২’-এর জন্য সেরা অভিনেতার পুরস্কার পান নাসির উদ্দিন খান।
এখানেই শেষ নয়। নানা জমকালো অনুষ্ঠান ও পারফরম্যান্স চলতে থাকে। তার মাঝেই সিনেমা, সিরিজ ও অন্যান্য বিভাগের পুরস্কার ঘোষণা হয়।
উল্লেখ্য, বিনোদন অঙ্গনে বছরের সেরা কাজের স্বীকৃতি হিসেবে মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারের এ আয়োজনের যাত্রা শুরু ১৯৯৯ সালে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আয়োজনের পরিসরও বাড়ানো হয়। যুক্ত করা হয় ডিজিটাল ও ওটিটি প্লাটফর্মের ওয়েব সিরিজ, সিনেমাসহ নানা ধরনের কাজ। এসব সংযোজন আয়োজনটিকে আরো জনপ্রিয় করে তোলে।









