গতকাল সন্ধ্য সাড়ে ৭টায় গানটি প্রচার হয় কোক স্টুডিও বাংলার ইউটিউব চ্যানেলে। গানটির মাধ্যমে কোক স্টুডিওর মঞ্চে প্রত্যাবর্তন করলেন দেশের জনপ্রিয় শাস্ত্রীয় সংগীতশিল্পী ও সুরকার মোহাম্মদ শোয়েব। শ্রোতাদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে তার সঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছেন মাশা ইসলাম ও মৌসুমী দত্ত।

আষাঢ়ের প্রকৃতি, বৃষ্টির প্রতীক্ষা ও নতুন শুরুর অনুভূতি নিয়ে তৈরি হয়েছে গানটি। এটি মূলত বাংলা শাস্ত্রীয় সংগীতের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও আধুনিক সুরের এক অনন্য মিশ্রণ। গানটির নেপথ্যে রয়েছেন সংগীতশিল্পী ও সংগীত পরিচালক শায়ান চৌধুরী অর্ণব।

গানটির আরেকটি বিশেষ চমক হলো রবীন্দ্রসাহিত্য থেকে নেয়া অনুপ্রেরণা। বাংলা সংস্কৃতির এ চিরায়ত উপাদানের সঙ্গে আধুনিক ‘স্পোকেন ওয়ার্ড’ বা কথ্য রূপের সংযোজন করা হয়েছে।

মাশা ইসলামের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় গানটি দুই বছর আগে তৈরি করা। মেঘ নিয়ে তিনি বলেন, ‘কোক স্টুডিও বাংলার সিজন থ্রিতেই এ গান ছিল। দীর্ঘ দুই বছর পর এখন রিলিজ হচ্ছে। গানটিতে আমার সঙ্গে আছেন শোয়েব ভাই এবং কলকাতার শিল্পী মৌসুমী দি। আমাদের তিনজনের একটা চমৎকার যুগলবন্দি আছে এখানে।’

আষাঢ় মাস চলছে। বর্ষা ও বাংলার প্রকৃতি বাংলার সংগীত ও সাহিত্যকে প্রভাবিত করেছে। মাশা জানান, শাস্ত্রীয় রাগ ‘মিয়াঁ কি মালহার’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে গানটির সুর করা হয়েছে। মোগল বাদশাহ আকবরের রাজসভার নবরত্নের অন্যতম সংগীতসম্রাট তানসেন প্রাচীন মল্লার রাগের পরিমার্জন করে রাগটি সৃষ্টি করেছিলেন। তানসেন যখন এ রাগ গাইতেন, তখন নাকি আকাশ ভেঙে অঝোর ধারায় বৃষ্টি নামত! মল্লার পরিবারের সবচেয়ে প্রভাবশালী ও কঠিন এ রাগের ছোঁয়ায়ই গানটিতে মানুষের প্রতীক্ষা, নতুন শুরুর আশা এবং প্রকৃতির পুনর্জাগরণের অনুভূতি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

এমন একটি রাগ থেকে তৈরি গান স্বাভাবিকভাবেই সুন্দর হবে। মাশা বলেন, ‘খুব সুন্দর একটা অ্যারেঞ্জমেন্টে গানটি করা হয়েছিল। শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা দারুণ ছিল। সেটে মেঘের একটা আবহ তৈরি করে শুটিং করা হয়েছিল, সেটটাও খুব সুন্দর হয়েছিল। এতদিন ধরে অপেক্ষায় ছিলাম, গানটা কখন বের হবে। ফাইনালি বের হচ্ছে, খুব ভালো লাগছে।’

মৌসুমী, মাশা ও মোহাম্মদ শোয়েবের মূল গানের সঙ্গে শায়ান চৌধুরী অর্ণবের একটি ফিউশন রয়েছে। মাশা বলেন, ‘দারুণ সব মিউজিশিয়ানরা এ গানে কাজ করেছেন। দর্শক-শ্রোতারা এ গানে ক্ল্যাসিক্যাল একটা আমেজ পাবেন। আষাঢ়ের এ বৃষ্টির দিনে বর্ষার আবহের সঙ্গে গানটি শুনতে সবার খুব ভালো লাগবে।’

গানটির মাধ্যমে তারা দেশীয় সংগীত ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের শ্রোতাদের কাছে চমৎকারভাবে তুলে ধরছেন। শাস্ত্রীয় প্রভাব, সমকালীন সুর ও কাব্যের মিশেলে তৈরি মেঘ শ্রোতাদের জন্য বর্ষা উপভোগের এক দারুণ অভিজ্ঞতা নিয়ে এসেছে।