নাটকটির রচয়িতা আনিসুর রহমান। সম্প্রতি শিল্পকলা একাডেমির পরীক্ষণ থিয়েটার হলে নাটকটির কারিগরি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে।

নাটকটি ইরাকের ইয়াজিদি নারী নাদিয়া মুরাদের জীবনের করুণ অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে লেখা। আইএস সন্ত্রাসীদের হাতে নির্যাতনের শিকার হওয়া, যৌনদাসী হিসেবে বন্দি থাকা এবং সেখান থেকে পালিয়ে বেঁচে ওঠার বাস্তব গল্পই নাটকের মূল প্রেরণা।

তবে নাটকটি কেবল নাদিয়ার ব্যক্তিগত কাহিনীতে সীমাবদ্ধ নয়। এতে যুদ্ধ, রাষ্ট্ররাজনীতি, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, ক্ষমতার রাজনীতি ও মানবিক বিপর্যয়ের বৃহত্তর প্রেক্ষাপটও ফুটে উঠেছে।

নাটকটি নিয়ে আশীষ খন্দকার বলেন, ‘যুদ্ধের আবহ পৃথিবীতে সব একই রকম, সন্ত্রাসের ব্যাকরণ একই রকম। মানবতাবাদী মানুষের আর্তিই হচ্ছে নাদিয়া। নিরাকার ঈশ্বরের কাছে তার আকুতি ‘‘শান্তি ফিরিয়ে দাও, দোজখের আগুন নেভাও, ফুল ফোটাও’’। নাদিয়া শুধু একটি আত্মজীবনী নয়, এটি পূর্ণ সত্য ইতিহাস। শেষ পর্যন্ত নাদিয়া শুধুই তার নিজের কালজয়ী ইতিহাসকে আলোকিত করেনি, সেখানে আমরা আমাদেরও খুঁজে পাই। যুদ্ধ যেন এক প্রথা, সব কালে সব দেশে একই রকম। আয়নাটা এক, নাদিয়ার আয়নায় আসুন আমরা আমাদের খুঁজি।’

নাট্যকার আনিসুর রহমান বলেন, ‘আশীষ খন্দকারের নির্দেশনায় নাটকটি দেখার পর সবার মনে প্রশ্নের উদয় হবে। নাটকটি মঞ্চে আনার সাহসী পদক্ষেপের জন্য ঢাকার নাট্যসংস্থা নাট্যধারার নীতিনির্ধারক ও প্রতিভাবান নাট্যশিল্পীসহ সব কলাকুশলীর কাছে আমি কৃতজ্ঞ।’

দোজখের শেষ মেয়েটি নাটকে অভিনয় করেছেন মো. কামাল হোসেন, ফাহমিদা রহমান তৃষা, রিয়াদ মাহমুদ, হাফসা আক্তার, মো. আব্দুল আজিজ, রহিম পারভেজ, সোহেল আমীর, মো. রফিকুল ইসলাম, আল হাছিবুর রহমান, জাহাঙ্গীর সিকদার, ইমতিয়াজ আহমেদ দুলু, আমজাত হোসাইন ও নুরুন নাহার মৌ।

নাটকের সংগীত ও পোশাক পরিকল্পনায় রয়েছেন আশীষ খন্দকার। সহযোগী নির্দেশক হিসেবে আছেন রিয়াদ মাহমুদ। মঞ্চ ও আলো পরিকল্পনা করেছেন পলাশ সেন হেনরী।