উৎসবের মাস ফেব্রুয়ারি। এ মাসে নানা রকম দেশীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস ও দিবসকেন্দ্রিক উৎসব রয়েছে। কিছুদিন পরই আসছে ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবস। এ দুই দিবসকে সামনে রেখে ওটিটি প্লাটফর্ম চরকিতে আসছে একটি ফ্ল্যাশ ফিকশন। রাকায়েত রাব্বি নির্মিত ফিকশনটির নাম ‘টিফিন বক্স’। অভিনয় করছেন রুকাইয়া জাহান চমক ও প্রান্তর দস্তিদার। ৯ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা অর্থাৎ ১০ ফেব্রুয়ারি স্ট্রিম হবে টিফিন বক্স।

‘টিফিন বক্স’ নাম শুনেই ধারণা করা যাচ্ছে যে গল্পে খাবারের সংযোগ আছে। নির্মাতা বলেন, ‘খাবার বা টিফিন বক্সের মাধ্যমে প্রেমের গল্প বলাটা খুব নতুন কিছু নয়, কিন্তু বাঙালি সংস্কৃতিতে “‍খাওয়ানো’ বা “‍খাবার ভাগ করে নেয়া” হলো ভালোবাসার সবচেয়ে আদিম ও বিশুদ্ধ প্রকাশ বা বলতে পারেন এর বিকল্পও নেই। আমি এই গল্পে টিফিন বক্সকে কেবল মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করিনি বরং এটি গল্পের নাগরিক জীবনকে এক স্বপ্নের জগতে নিয়ে যেতে সাহায্য করে।’

অভিনেতা প্রান্তর দস্তিদার জানালেন, তাকে একজন দক্ষ রন্ধনশিল্পী হিসেবে দেখা যাবে ‘টিফিন বক্স’-এ। তিনি বলেন, ‘চরিত্রটি রান্না করতে ভালোবাসে, মানুষকে খাওয়াতে ভালোবাসে। অর্থাৎ চরিত্রটি সার্ভ করতে ভালোবাসে। আর ভালোবাসাটাও তো সার্ভ করার মতোই। আমার চরিত্রটি এ ধরনের। বাকিটা কনটেন্টে দেখতে হবে।’

প্রান্তর দস্তিদারকে গল্পে রান্না করতে দেখা গেলেও বাস্তব জীবনে তিনি তেল-নুন-মসলার সমীকরণটা ভালো বোঝেন না বলে নিশ্চিত করেছেন।

উল্টোটা আবার অভিনেত্রী রুকাইয়া জাহান চমকের ক্ষেত্রে। তার অভিনীত চরিত্রটিকে ‘টিফিন বক্স’ গল্পে রান্না করতে দেখা না গেলেও বাস্তব জীবনে চমক কাজটি করেন এবং পছন্দের মানুষকে রান্না করে খাওয়াতে ভালোবাসেন। গল্পে তার চরিত্রটি উচ্ছ্বল একজন নারীর, স্বাধীনভাবে বাঁচতে ভালোবাসেন। কারো সঙ্গে ভালোবাসার সম্পর্কে জড়াতে চান না।

চমক বলেন, ‘চরিত্রটি অনেক আনন্দে বাঁচতে চায়, কোনো পিছুটান রাখতে চায় না। কিন্তু সেই চরিত্রটিকেই একসময় বলতে হয় “‍সৃষ্টিকর্তা এমন কিছু মানুষ সৃষ্টি করেছেন, যাদের প্রেমে না পড়ে থাকা যায় না”। মিতু নামের এই চরিত্রটিকে সবাই পছন্দ করবে।’

শহরের কোলাহলে যখন ক্রমে একা হয়ে পড়ছিলেন, তখন নির্মাতার মনে হয়েছিল, মানুষের মধ্যে যোগাযোগের শক্তিশালী মাধ্যম কী কী? সেই অনুসন্ধান তার সামনে আনে খাবারের ধারণা।

গল্প নিয়ে নির্মাতা বলেন, ‘মানুষের ভালোবাসা আসলে এক ধরনের বিদ্রোহ। এই নশ্বর পৃথিবীর নিয়ম হলো ফুরিয়ে যাওয়া, কিন্তু ভালোবাসা সেই ফুরিয়ে যাওয়ার বিরুদ্ধে লড়ে। এটি মূলত সময় এবং অস্তিত্বের এক লড়াই। জীবনের সব স্বাদ যখন তেতো হয়ে যায়, তখন কেবল ভালোবাসাই পারে তার ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে।’