এখন তিনি অন্যতম বিলিয়নেয়ারও বটে। হুরুন ইন্ডিয়ার লিস্ট অনুসারে কিং খানের মোট সম্পদের পরিমাণ এখন প্রায় ১২ হাজার ৪৯০ কোটি রুপি। বলিউড সুপারস্টার সিনেমার গণ্ডি ছাড়িয়ে একটি বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন, যা তাকে বিশ্বের ধনীতম বিনোদন ব্যক্তিত্বদের কাতারে স্থান দিয়েছে।
সম্প্রতি এক পডকাস্টে সেলিব্রিটি ওয়েলথ ম্যানেজার দীপক হিরো ভাজিরানি ব্যাখ্যা করেছেন, কী কারণে শাহরুখ অন্যদের থেকে আলাদা। শরণ হেগড়ের সঙ্গে আলাপচারিতায় দীপক বলেন, ‘তার সাফল্য আকস্মিক নয়, বরং কৌশলগত। শাহরুখ খান একজন ব্যবসায়ী, তিনি অত্যন্ত পড়াশোনা করা মানুষ এবং ব্যবসা তিনি বোঝেন।’
শাহরুখকে আর্থিকভাবে অন্যদের থেকে কী আলাদা করে—এমন প্রশ্নে দীপক বলেন, ‘তিনি খুব ভালোভাবে বিনিয়োগ করেছেন। মনে আছে, “মান্নাত” তিনি ১৮ কোটিতে কিনেছিলেন, আজ সেটির মূল্য ৩০০ কোটি রুপি।’
এটি শুধু রিয়েল এস্টেটের উদাহরণ। কলকাতা নাইট রাইডার্সে তার অংশীদারত্ব নিয়ে দীপক বলেন, ‘তিনি যে দামে ক্রিকেট দলটি কিনেছিলেন, আজ তার মূল্য প্রায় ৪০-৫০ গুণ।’
চলচ্চিত্র নির্মাতা করণ জোহর, সার্থক আহুজার সঙ্গে সাম্প্রতিক কথোপকথনে একই মত প্রকাশ করেন। তিনি স্মরণ করেন, ২০০৭ সালে আইপিএল শুরু হওয়ার সময় শাহরুখ কীভাবে কেকেআরের সঙ্গে যুক্ত হন এবং এটিকে ‘একটি অসাধারণ, মাস্টার পার্টনারশিপের সূচনা’ বলে অভিহিত করেন।
তখন শাহরুখ ৫৫ শতাংশ শেয়ার কিনেছিলেন, যখন ফ্র্যাঞ্চাইজিটির মূল্য ছিল প্রায় ৩০০ কোটি রুপি। আজ সেই মূল্যায়ন সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে। জানুয়ারির প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি আরো ৩৫ শতাংশ শেয়ার বাড়ানোর কথা বিবেচনা করছেন—যার সম্ভাব্য মূল্য প্রায় ৪ হাজার কোটি রুপি।
করণ বলেন, ‘শাহরুখ খান যখন কয়েক দশক আগে একটি ক্রিকেট দল কিনেছিলেন, আজ তার মূল্যায়ন দেখুন। কেন? কারণ তিনি কেকেআরের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে আবেগপ্রবণ, নিবেদিত এবং সক্রিয়। তিনি শুধু স্টেডিয়ামে উপস্থিতি যোগ করেন না বা নিজের নাম দেন না। তিনি কৌশল নির্ধারণ করেন, সম্পৃক্ত থাকেন, সময় দেন। তাই এটি তার জন্য অত্যন্ত লাভজনক উদ্যোগ এবং সম্ভবত সিনেমা ছাড়া তার অন্যান্য ব্যবসার চেয়েও বড়।’
এদিকে শাহরুখের আইকনিক বাসভবন ‘মান্নাত’ বর্তমানে সংস্কারের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যার কারণে শাহরুখ ও তার পরিবার সাময়িকভাবে অন্যত্র স্থানান্তরিত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি বান্দ্রার পালি হিলে একটি চারতলা অ্যাপার্টমেন্টে থাকছেন, যেখানে মাসিক ভাড়া প্রায় ২৪ লাখ রুপি। অন্যদিকে, পরিবারের কর্মীদের থাকার জন্য গৌরি খান কাছাকাছি আরেকটি সম্পত্তি ভাড়া নিয়েছেন, যার মাসিক ভাড়া ১ লাখ ৩৫ হাজার রুপি।
২০২৪ সালের নভেম্বরে গৌরি মহারাষ্ট্র কোস্টাল জোন ম্যানেজমেন্ট অথরিটির কাছে মান্নাতের অ্যানেক্স ভবনে আরো দুটি তলা যুক্ত করার অনুমতি চেয়েছেন। প্রস্তাব অনুযায়ী, মূল বাংলোর পেছনের ছয়তলা কাঠামোটি ৬১৬ দশমিক শূন্য ২ বর্গমিটার সম্প্রসারণ করা হবে। মান্নাত একটি সংরক্ষিত ঐতিহ্যবাহী সম্পত্তি হওয়ায় কোনো কাঠামোগত পরিবর্তনের জন্য আনুষ্ঠানিক অনুমোদন প্রয়োজন। সংস্কারের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২৫ কোটি রুপি।
সূত্র: দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস










