বর্তমান ব্যস্ততা কী নিয়ে?
নতুন কোনো গল্পের ভাবনায়ই সময় কাটছে মূলত। একটি পূর্ণাঙ্গ নাটকের চিত্রনাট্যের কাজ চলছে, যেখানে জীবনের নানা দ্বন্দ্ব আর মনস্তাত্ত্বিক টানাপড়েন ফুটে উঠবে। পাশাপাশি কিছু ছোটগল্পের খসড়া আর নতুন এক দীর্ঘ ভাবনার পেছনে সময় দিচ্ছি। বলা যায়, ভাবনাগুলোকে কাগজের পাতায় আর দৃশ্যের ক্যানভাসে রূপ দেয়ার মধ্য দিয়েই কাটছে দিন।
চলতি বছর আপনার গল্পে দুটি নাটক এরই মধ্যে প্রকাশ পেয়েছে। দর্শকের সাড়া কেমন পেয়েছেন?
সাহিত্যের পাতার নীরব শব্দগুলো যখন পর্দার আলো-ছায়ায় রূপ নেয়, সেটির অনুভূতি সম্পূর্ণ অন্য রকম। চলতি বছরের দুটি নাটক থেকেই দর্শকের দারুণ ভালোবাসা ও ইতিবাচক সাড়া পেয়েছি। পাঠক যেমন পড়ে নিজের কল্পনায় চরিত্র আঁকে, দর্শক ঠিক তেমনিভাবে পর্দায় চরিত্রগুলোকে লালন করে। তাদের প্রতিক্রিয়া, সূক্ষ্ম অনুভূতি আর ভালোবাসা আমাকে নতুন করে শক্তি দিয়েছে।
আগামীতে আর কোনো নাটক আসবে আপনার লেখায়?
লেখালেখি তো আমার কাছে একটি নিরবচ্ছিন্ন যাত্রা। নতুন একটি নাটকের চিত্রনাট্যের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। আশা করছি, সেটাও দর্শক খুব দ্রুত দেখতে পাবে। এছাড়া আরো দু-একটি গল্প নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা চলছে। ব্যাটে-বলে মিললে দর্শক শিগগিরই নতুন গল্প দেখতে পাবে।
বছর তো প্রায় শেষের দিকে, নতুন উপন্যাস কবে পাবে পাঠক?
উপন্যাস আমার জন্য এক গভীর অনুভূতি ও সাধনার জায়গা। উপন্যাস তৈরির প্রক্রিয়াটি বেশ দীর্ঘ এবং এতে গভীর মনোযোগের প্রয়োজন হয়। শিগগিরই নতুন বই প্রকাশের একটি আনুষ্ঠানিক সুখবর বা ঘোষণা নিয়ে আসছি। কাজ গুছিয়ে আনছি, যাতে পাঠকদের হাতে একটি সার্থক সৃষ্টি তুলে দেয়া যায়।
একক নাটকে আপনার গল্প আমরা দেখেছি, আগামীতে ধারাবাহিক নাটক বা ওটিটিতে গল্প লেখার কোনো পরিকল্পনা আছে?
ওটিটি প্লাটফর্মের ব্যাপ্তি আর স্বাধীনতা লেখকদের জন্য নতুন এক দিগন্ত খুলে দিয়েছে। সেখানে চরিত্রের পূর্ণাঙ্গ রূপ দেয়ার চমৎকার সুযোগ থাকে। ওটিটির জন্য তুলনামূলক একটু জটিল এবং দীর্ঘতর প্লট নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা অবশ্যই আছে। গল্প যদি সে কোয়ালিটি দাবি করে, তবে ওটিটি বা ধারাবাহিকের দিকে নিশ্চয়ই পা বাড়াব।
যদিও নাটকে আপনার যাত্রা কেবল শুরু, এখন পর্যন্ত ট্রেন্ডিং গল্প কিংবা ভিউ-ভিত্তিক গল্প লেখার প্রস্তাব এসেছে?
প্রস্তাব বা প্রত্যাশা তো থাকেই। বর্তমান মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রি তো অনেকটাই বাজারের সমীকরণের ওপর নির্ভর করে চলে। তবে আমি বিশ্বাস করি, ট্রেন্ড সাময়িক হলেও একটি সৎ ও শক্ত ভিত্তিসম্পন্ন গল্প কালজয়ী হতে পারে। আমার চেষ্টা থাকে ভিউ বা ট্রেন্ডের জোয়ারে ভেসে না গিয়ে নিজের লেখার স্বকীয়তা ও সততা বজায় রাখার। শুভাকাঙ্ক্ষী ও নির্মাতারাও আমার এ ভাবনার মূল্যায়ন করেন।
এমন কোনো শক্তিশালী গল্প বলার ইচ্ছা বা স্বপ্ন আছে, যা সমাজে কিছুটা হলেও পরিবর্তন আনবে?
একজন লেখক বা শিল্পীর মূল দায়বদ্ধতা সমাজের প্রতিই। আমি এমন একটি গল্প বলে যেতে চাই, যা মানুষকে শুধু বিনোদনই দেবে না, বরং তাদের মনের ভেতর থাকা অপ্রকাশিত কথাগুলোকে উসকে দেবে, চিন্তার খোরাক জোগাবে। আমাদের সমাজ ও মানুষের মনস্তাত্ত্বিক যেসব দ্বন্দ্ব রয়েছে, সেগুলোকে সাহসের সঙ্গে পর্দায় ও পাতায় তুলে আনতে চাই। আমার লেখা যদি একজন মানুষের ভেতরও ইতিবাচক নাড়া দেয়, তবেই একজন গল্পকার হিসেবে আমার যাত্রা সার্থক হবে।










