তবে এ আয়োজন হচ্ছে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে। আর নাটকের মঞ্চায়নকে ঘিরে করা হয়েছে বিশেষ আয়োজন। খনার মঞ্চায়নের পাশাপাশি থাকছে সংগীত, অঙ্কন, পাপেট শো, লাঠি খেলা ইত্যাদি। রীতিমতো মেলার আয়োজন হয়েছে খনাকে ঘিরে।

খনা এমন এক আখ্যানের মঞ্চকৃতি যা নারী ও শ্রেণীর প্রশ্নকে সামনে আনে। গল্পটা পনেরোশ বছর আগের হলেও আজও সমান প্রাসঙ্গিক। প্রজন্মান্তরে চলা যে কৃষিজ্ঞান ও প্রজ্ঞা খনার নামে বহমান তার ঠিকুজি কুষ্ঠির খোঁজে নাটক খনা এগিয়ে চলে চাষীদের বেগুনখেত, কলাবাগান মাড়িয়ে ছোট্ট উঠানে। আর খনা তার জীবনের নানা প্রশ্নের ঊর্ধ্বে এক অন্য সত্যের মুখে দাঁড় করান দর্শকদের।

৮ মার্চ, ২০১০ আন্তর্জাতিক নারী দিবসের শততম বর্ষপূর্তিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সহস্র সাধারণের সামনে মঞ্চায়নের মধ্য দিয়ে বটতলার ‘খনা’ নাটকের যাত্রা শুরু হয়েছিল। ‘খনা’র শততম মঞ্চায়নের প্রহরে অতীত আর বর্তমানকে এক সুতোয় গেঁথে নেয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারেই ফিরে যাচ্ছে বটতলা। আগামীকাল ও পরশু মিলে দুই দিনব‍্যাপী ‘খনার ১০০তম মঞ্চায়ন উৎসব’।

আগামীকাল সকালে শিল্পী ও অ্যাকটিভিস্ট অরূপ রাহীর পরিচালনায় ‘উদয়ভানু সঙ্গ’ অধিবেশনের মধ্য দিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে। এরপর থাকবে আমন্ত্রিত শিল্পীদের যন্ত্রসংগীতের (সরোদ, বেহালা) পরিবেশনা ও গান। সকালের অধিবেশনে থাকছে শিশুদের জন্য বিশেষ আয়োজন। ব্রতচারী নৃত্য, ঐতিহ্যবাহী নৃত্য, গান, আবৃত্তি পরিবেশনার পাশাপাশি থাকবে মৃৎশিল্পী খোকন কারিগরের পরিচালনায় ‘মাটির পাঠশালা’ এবং চিত্রশিল্পী মনজুর রশীদের পরিচালনায় ‘আঁকিবুঁকিতে বসন্ত’ শীর্ষক আর্ট ক্যাম্প। মেলা প্রাঙ্গণে শিশুদের বাড়তি আনন্দ জোগান দেবে কাকতাড়ুয়া পাপেট থিয়েটার।

দিনের দ্বিতীয় ভাগে ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা প্রদর্শন করবেন টাঙ্গাইলের মরহুম কুদরত আলী লাঠি খেলা দল এবং ঐতিহ্যবাহী ধুয়া গান পরিবেশন করবেন কুমারগাতা ওয়াসিম বয়াতির দল ও মাহমুদপুর আজিজুল বয়াতির দল। এ জনপদের লোকজ ঐতিহ্যের সঙ্গে শুধু পরিচয়ই নয় দর্শনার্থীরা, বরং বিষমুক্ত শাকসবজি ও দেশীয় খাবারের স্বাদও পরখ করতে পারবেন প্রাকৃত সমাজের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিতব্য ‘দেশীয় পণ্যের মেলা’য়। সেখানে কৃষিপণ্যের সঙ্গে থাকবে কারুপণ্য, পোশাক ও বইপত্রের পসরা!

সন্ধ্যায় আরো থাকবে সমগীত, চারকোল, মাভৈ, কুয়াশা মূর্খ, গীতলবঙ্গ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক সংসদসহ আমন্ত্রিত বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শিল্পীরা। মেলা প্রাঙ্গণে থাকবে দর্শকের ক্যামেরায় ‘খনা’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনী। প্রথম দিন সন্ধ্যায় থাকবে আমন্ত্রিত গবেষক, শিক্ষক, শিল্পী ও সমালোচকদের অংশগ্রহণে খনার আলাপ। প্রথম দিনের শেষ আয়োজন হিসেবে থাকবে সৌম্য সরকার ও ব্রাত্য আমিন নির্মিত বিশেষ তথ্যচিত্র। 

১১ এপ্রিল উৎসবের দ্বিতীয় দিন যথারীতি ‘দেশীয় পণ্যের মেলা’ চলমান থাকবে। সন্ধ্যায় প্রদর্শিত হবে ‘খনা’র শততম মঞ্চায়ন।