নাটোরের সিংড়ায় পাইকারি দুধ ক্রয় না করায় ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন খামারিরা। মাত্র ১৫ থেকে ২০ টাকা দরে দুধ বিক্রি করতে হচ্ছে তাদের। এতে ব্যাপক লোকসান হওয়ায় মাটিতে দুধ ঢেলে অভিনব প্রতিবাদ করেছেন তারা। গতকাল সকালে উপজেলার বাহাদুরপুর বটতলা এলাকায় প্রায় ৩০ জন খামারি দুধ মাটিতে ঢেলে বাড়ি ফেরেন।

জানা যায়, সিংড়া উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে প্রায় ৬০০টি গরুর খামার রয়েছে। প্রতিদিন উৎপাদিত দুধ বিক্রি হয় স্থানীয় বিভিন্ন বাজার ও হাটে। তবে গত ২০ দিন ধরে জেলায় লকডাউন চলাকালে দুধ সংগ্রহ করতে আসেননি পাইকাররা। এতে সংকটে পড়েন খামারিরা। মাত্র ১৫ থেকে ২০ টাকা দরে দুধ বিক্রি করায় লোকসান গুনতে হয় তাদের। বিশেষ করে খড় ও ভূষির দাম বেশি থাকায় এবং দুধের দাম কম হওয়ার কারণেই এ সংকটের সৃষ্টি বলে দাবি খামারিদের।

স্থানীয় দুধ বিক্রেতা আবুল কালাম আজাদ জানান, সব স্থানীয় হাট ও বাজারে দুধ বিক্রি হয়। বাড়িতে পুষ্টির চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি মহাজনদের কাছে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৬০ লিটার দুধ একেকজন খামারি বিক্রি করতে আসেন। কিন্তু লকডাউনের কারণে বাজার মন্দা। ফলে মহাজন না এলে দুধ নেয়ার মতো ক্রেতাও থাকে না। দুধ নিয়ে বাড়ি ফেরাও কষ্টের কারণ।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এসএম খুরশিদ আলম জানান, ইটালী ও ডাহিয়া ইউনিয়নে সরকারি ব্যবস্থাপনায় দুধ ক্রয় কেন্দ্র গড়ে তোলার জন্য সুপারিশ পাঠানো হয়েছে।