ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নন্দনপুরে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশ ও বিজিবির সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন নন্দনপুর হারিয়া গ্রামের জুরু আলম, সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার বাদল মিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বারিউড়া এলাকার মৈন্দ গ্রামের সুজন মিয়া, কাউসার মিয়া ও বুধল এলাকার জোবায়ের। এ ঘটনায় আহত অন্তত ১৫ জনকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক রানা নুর শামস জানান, নিহতদের মধ্যে হাসপাতালে নেয়ার আগেই তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান একজন। গুরুতর আহত তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এছাড়া চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেয়ার পথে আরো একজন মারা যান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, গতকাল বিকালে হরতালের পক্ষে বুধল এলাকা থেকে একটি মিছিল বের হয়। এক পর্যায়ে হেফাজতের সদস্য ছাড়াও স্থানীয় কিছু মানুষ এতে যোগ দেন। তাদের বাধা দিতে চেষ্টা করেন দায়িত্বরত পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা। কিন্তু তারা সংখ্যায় কম থাকায় মিছিলের লোকজন পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদের ঘিরে ফেলেন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এক পর্যায়ে গুলি ছোড়েন বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরা। এতে বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হলে স্থানীয়রা তাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।
এর আগে স্বাধীনতা দিবসে নরেন্দ্র মোদির ঢাকায় সফর ও চট্টগ্রামে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশের হামলার প্রতিবাদে শুক্রবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিক্ষোভ করেন হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা। তারা শহরের বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় ভাংচুর চালান, সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে টায়ারে আগুন লাগিয়ে বিক্ষোভ করেন। এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশনের কিছু অংশে আগুন ধরিয়ে দেয়। রেলস্টেশনের সিগন্যাল, মাস্টার রুম, কন্ট্রোল রুমসহ বিভিন্ন কর্মকর্তার কক্ষে ব্যাপক ভাংচুর করে। এসব কক্ষের মালামালে আগুন ধরিয়ে দেয়। রেললাইনের স্লিপারও তুলে ফেলা হয়। এছাড়া পুলিশ সুপারের কার্যালয়, জেলা পরিষদ, পৌর মুক্ত মঞ্চ, পৌর মার্কেটসহ বিভিন্ন স্থানে ভাংচুর করা হয়, আগুন ধরিয়ে দেয়া হয় ও বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভেঙে সেখানে আগুন ধরিয়ে দেয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশসহ প্রায় ১০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আশিক নামে একজনের মৃত্যু হয়। তিনি শহরের কাউতলীর দাতিয়ারা গ্রামের সাগর মিয়ার ছেলে। পরে বিক্ষুব্ধরা আশিকের মৃতদেহ নিয়েও বিক্ষোভ মিছিল বের করে।
এর জের ধরে গতকাল সারা দিনই থমথমে ছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া। মোতায়েন করা হয় ১০ প্লাটুন বিজিবি সদস্য। গতকাল দুপুরেও হরতালের সমর্থনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসা চত্বর থেকে একটি মিছিল বের হয়। মিছিলটি টিএ রোড ঘুরে ফকিরাপুলে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। এতে বক্তব্য রাখেন মাওলানা সাজিদুর রহমান, মাওলানা মুফতি মোবারক উল্লাহসহ স্থানীয় হেফাজত নেতারা। তারা মোদির বাংলাদেশ সফরের নিন্দা জানান এবং এ ঘটনা কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদ্রাসা ছাত্রদের ওপর হামলা ও হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানিয়ে এর বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেন। পরে বিকালে বুধল থেকে আরেকটি মিছিল বের হয়। মিছিলটি নন্দনপুরে পৌঁছলে পুলিশ-বিজিবির সঙ্গে আবার সংঘর্ষে জড়ান হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা।










