কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের অবহেলায় ফিরোজ আহমেদ নামে এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। ফিরোজ টেকনাফ পৌরসভার কায়ুকখালী পাড়ার মোহাম্মদ আলীর ছেলে। সকাল ৮টার দিকে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরুষ ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে পেট ব্যথার কারণে তাকে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন পরিবারের সদস্যরা। গতকাল সকালে তিনি মারা যান। স্বজনের দাবি, চিকিৎসকের অবহেলায় তার মৃত্যু হয়েছে। ডা. সিনথিয়া ও শোভন দাস দায়িত্বরত ছিলেন। তারা সঠিক সময়ে চিকিৎসা দেননি। গতকাল সকালে ডা. শোভন দাস একবারের জন্যও রোগীকে দেখতে আসেননি। তিনি কখন আসবেন জানতে চাইলে স্যার বিশ্রামে আছেন বলে ধমক দেন নার্স।

ফিরোজের বাবা মোহাম্মদ আলী অভিযোগ করে বলেন, আমার ছেলে এক রাত হাসপাতালে ভর্তি ছিল। তাকে ঠিকমতো চিকিৎসা দেয়া হয়নি। ডা. সিনথিয়া সিদ্দিক ও শোভন দাস চিকিৎসার দায়িত্বে ছিলেন। তারা যদি বলতেন রোগীর অবস্থা ভালো না, তাহলে আমরা উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য কোথাও নিয়ে যেতাম। ডাক্তারের অবহেলার জন্যই আমার ছেলের মৃত্যু হয়েছে।

একই ওয়ার্ডে ভর্তি অন্য রোগী ও স্বজনারও ডাক্তার এবং নার্সদের বিরুদ্ধে কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগ করেন। 

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত ডা. শোভন দাস বলেন, মারা যাওয়া রোগীর অবস্থা ভালো ছিল, কিন্তু তার জন্য একটা ওষুধ পাইনি। রোগী মারা যাওয়ার আগে ক্লান্তির কারণে একটু বিশ্রামে গিয়েছিলাম। এ বিষয়ে ডা. সিনথিয়ার ছিদ্দিকের সেলফোনে কল করা হলেও রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. টিটু চন্দ্র শীল বলেন, বৃহস্পতিবার সকালের দিকে পেট ব্যথার কারণে ফিরোজকে ভর্তি করা হয়েছে। তখন তার রিপোর্ট ভালো ছিল। চিকিৎসকদের অবহেলার কথাও স্বীকার করে তিনি বলেন, অবস্থা অবনতি হলে রোগীকে অন্যত্র রেফার করা দরকার ছিল।