জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমাদের লড়াই হবে সকল অন্যায় ও অপশক্তির বিরুদ্ধে। নতুন, পুরাতন ফ্যাসিবাদ বুঝি না, যেখানেই ফ্যাসিবাদ সেখানেই প্রতিরোধ, সেখানেই প্রতিবাদ করা হবে। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত থাকবে।

আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় রাজধানীর আল ফালাহ মিলনায়তনে দলটির কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার অধিবেশনের উদ্বোধনী বক্তব্য তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ নির্বাচন ও সংস্কার পরিষদ গঠনের লক্ষ্যে গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়। জনগণ একই দিনে দুটি ভোট দিলেও একটি ভোটের মূল্যায়ন করা হলো। অথচ কোনোটিই অগুরুত্বপূর্ণ নয়।

শাসনের যে ধারা অতীতে শাসকদের ফ্যাসিবাদী করে তুলেছিল জনগণ চেয়েছিল সেই ধারার পরিবর্তন হোক। এ পরিবর্তনের জন্য সংস্কার অপরিহার্য। দীর্ঘদিন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে গুরুত্বপূর্ণ ৩১টি রাজনৈতিক দল একত্রিত হয়ে মাসের পর মাস সংলাপের পর জুলাই সনদ তৈরি করল। তার ভিত্তিতেই গণভোট অনুষ্ঠিত হয় বলে জানান বিরোধীদলীয় নেতা।

ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, সরকার ইতোমধ্যেই সকল মৌলিক বিষয়কে অগ্রাহ্য করেছে। ফলে যে জায়গাগুলোর কারণে ফ্যাসিবাদ কায়েম হয়েছিল- সেসব আগের জায়গায় থেকে গেল।

তিনি আরো বলেন, বর্তমানে দেশে প্রায় ১৮ থেকে ২০ কোটি মানুষের বসবাস। আমরা আমাদের জনসংখ্যাকে জনসম্পদে পরিণত করতে পারিনি। কারণ সুশিক্ষার অভাব। আমাদের সমাজে যাদের উচ্চ শিক্ষিত দেখতে পাই; কার্যত তাদের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ আমানতের খেয়ানত করে চলেছে।

তিনি আরো উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ দুইবার স্বাধীন হয়েছে। ১৯৪৭ সালে একবার ১৯৭১ সালে আরেকবার। বিপুল প্রত্যাশা নিয়ে এ স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল। কিন্তু সে প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। দেশ পরিচালনার দায়িত্বে যারা ছিল- তাদের ব্যর্থতার কারণে আজও কোনো সামাজিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বহু ত্যাগ তিতিক্ষা ও চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর মানুষ বড় আশাবাদী হয়েছিলেন। অনেকগুলো জীবনের বিনিময়ে আমরা একটি পরিবর্তন পেয়েছি বলেও জানান জামায়াত আমীর।

তিনি আরো উল্লেখ করেন, জনগণের দেয়া রায় সরকারি দল অগ্রাহ্য করলেও বিরোধী দল অগ্রাহ্য করবে না। মৌলিক সংস্কারগুলো করতে হবে। ক্ষমতায় ভারসাম্য আনতে হবে যাতে কেউ দুর্দান্ত ফ্যাসিবাদী হয়ে উঠতে না পারে।

মজলিসে শূরার অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর এটিএম আজহারুল ইসলাম, অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, সাবেক এমপি মাওলানা আ ন ম শামসুল ইসলাম, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি জনাব মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের (পুরুষ ও মহিলা) এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার (পুরুষ ও মহিলা) সদস্যরা।