বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘মুক্তিযুদ্ধটাকে ভুলিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। ১৯৭১ হয়নি, আমরা কিছুই করিনি, দেশটার জন্য কোনো অবদানই রাখিনি, চব্বিশ যারা করেছে, তারাই সব করেছে—এমন ধারণা এখন দেয়া হচ্ছে।’
গতকাল ঠাকুরগাঁও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের আয়োজনে মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। স্থানীয় রুহিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
কোনো দলের নাম উল্লেখ না করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আজকে সুপরিকল্পিতভাবে একটি চক্র, একটি মহল মুক্তিযুদ্ধকে ভুলিয়ে দিতে চায়। যারা একাত্তর সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে যোগসাজশ করে এ দেশে মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করেছিল, তাদের পরিবারকে হত্যা করেছিল, তাদের মেয়েদের তুলে দিয়েছিল খান বাহিনীর হাতে, তাদের সঙ্গে দেশের মানুষ কি আপস করতে পারে? এ কথাগুলো জোর গলায় বলতে হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের গর্জে উঠতে হবে।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘একাত্তরকে কি আমরা ভুলতে পারব? একাত্তর না হলে কি বাংলাদেশ হতো? উই ক্যান নট ফরগেট সেভেনটি ওয়ান।’
তিনি বলেন, ‘এরা দেশটাকে গিলে খাওয়ার চেষ্টা করছে। গ্রাস করার চেষ্টা করছে। ধর্মীয় অনুভূতি বিক্রি করে তারা এ কাজ করছে। আমরা এটা হতে দিতে পারি না। আজকে আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের যে চেতনা, সেই চেতনাকে সামনে আনতে হবে।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে দেবেন না। হিন্দু-মুসলমান ভাগ করতে দেবেন না। আমরা হিন্দু-মুসলমান ভাই ভাই। একসঙ্গে আছি, যুদ্ধও করেছি একসঙ্গে। তাদের যেন কেউ ভাগ করতে না পারে।’
নির্বাচন বানচালের চেষ্টা চলছে দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘একটা কথা পরিষ্কার করে বলতে চাই, আজকে নির্বাচনকে বানচাল করে দেয়ার, নির্বাচনকে পিছিয়ে দেয়ার চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র চলছে। নির্বাচন পিছিয়ে দেয়া মানে আমাদের সর্বনাশ, এ দেশের সর্বনাশ হওয়া। আমরা চাই অন্তর্বর্তী সরকার কালবিলম্ব না করে দ্রুত নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার ব্যবস্থা করবে, একটা নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠার ব্যবস্থা করবে।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা নঈম জাহাঙ্গীর ও সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক আহমেদ খান, সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মনসুর আলী সরকার, ঠাকুরগাঁও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডারের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা নুর করিম, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, পৌর বিএনপির সভাপতি শরিফুল ইসলামসহ মুক্তিযোদ্ধা ও বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।









