দীর্ঘদিন অবহেলায় পড়ে থাকা সাভারের বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব হেলথ ম্যানেজমেন্ট আগামী ১ জানুয়ারি থেকে কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির সংস্কারকাজ শেষ করে চিকিৎসকদের প্রশাসনিক প্রশিক্ষণের জন্য প্রস্তুত করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে সাভারে প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামো পরিদর্শন শেষে এ কথা জানান তিনি।

এর আগে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিবিদ, স্বাস্থ্যসচিব, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) মহাসচিব, গণপূর্ত বিভাগের প্রকৌশলীসহ সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করেন প্রতিমন্ত্রী।

বৈঠকে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও গণপূর্ত বিভাগের একটি যৌথ দল সরেজমিনে প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করবে বলে সিদ্ধান্ত হয়। দলটি নষ্ট ও চুরি যাওয়া সরঞ্জামের তালিকা তৈরি করবে। এছাড়া গণপূর্ত বিভাগ আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যে কর্মকর্তাদের বসার জায়গা তৈরি এবং বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র চালুর ব্যবস্থা নেবে।

পরিদর্শন শেষে ১ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগের সরকারের সময়ে অব্যবস্থাপনা ও অবহেলায় প্রতিষ্ঠানটি পড়ে ছিল। এটিকে দেশের চিকিৎসকদের দক্ষ প্রশাসক হিসেবে গড়ে তোলার জাতীয় প্রশিক্ষণকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

ড. এম এ মুহিত অভিযোগ করেন, আগের সরকারের সময়ে দুর্নীতি ও জনগণের অর্থের অপচয়ের কারণে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জনগণের ভোটে দায়িত্ব নেয়ার পর বর্তমান সরকার একটি ভেঙে পড়া স্বাস্থ্যব্যবস্থা পেয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরে কোটি মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হন। সে সময় তিনি সরকারের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠন এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থা নতুন করে সাজিয়ে মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেয়ার কাজ চলছে।

বর্তমান সরকার জনসভার রাজনীতির বদলে জনসেবার রাজনীতি করতে চায় বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে দুর্নীতি ও অনাচার প্রতিহত করে দেশ গড়ে তোলার কথা বলেন তিনি।

পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ, ড্যাবের মহাসচিব জহিরুল ইসলাম শাকিল, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. ফোয়ারা তাসনিম এবং অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান।