বিশ্ববাজারে চলতি বছর পণ্যের দাম ২৩ শতাংশ বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, কৃষ্ণসাগরে শস্য পরিবহনে বিঘ্ন ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি স্বর্ণের মতো নিরাপদ সম্পদে বিনিয়োগকারীদের চাহিদা বাড়ছে। এতে জ্বালানি, খাদ্য ও শিল্পধাতুর দাম বাড়ছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি ও খাদ্যনিরাপত্তার ঝুঁকি আরো বাড়তে পারে। খবর রয়টার্স ও বিজনেস রেকর্ডার।

বিশ্বব্যাংকের অক্টোবরের কমোডিটি মার্কেটস আউটলুক প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, চলতি বছর বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম ২০১৩ সালের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। তবে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হলে ২০২৭ সালে দাম ৭ এবং ২০২৮ সালে আরো ৮ দশমিক ৮ শতাংশ কমতে পারে।

বিশ্বব্যাংকের উপপ্রধান অর্থনীতিবিদ আয়হান কোসে বলেন, ‘একই সঙ্গে কয়েকটি বড় ধাক্কার মুখে পড়েছে পণ্যবাজার। জ্বালানির বাড়তি ব্যয় ও বাণিজ্যে বিঘ্ন বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়াচ্ছে। এতে মূল্যস্ফীতি, খাদ্যনিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর চাপ তৈরির ঝুঁকি রয়েছে।’

জ্বালানির দাম বাড়বে

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম ৩২ শতাংশ বাড়তে পারে। এ সময় অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক সরবরাহ দৈনিক ৫৫ লাখ ব্যারেল বা ৫ দশমিক ২ শতাংশ কমার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। ২০২০ সালের মহামারিজনিত মন্দার বাইরে চার দশকের বেশি সময়ের মধ্যে এটি হবে সবচেয়ে বড় বার্ষিক পতন।

আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট তেলের গড় দাম চলতি বছর প্রতি ব্যারেল ৯১ ডলারে উঠতে পারে। ২০২৫ সালে এ দাম ছিল ৬৯ ডলার। ২০২৭ সালে দাম কমে ৭৯ এবং ২০২৮ সালে ৭০ ডলারে নামতে পারে। এদিকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) সরবরাহ কমে যাওয়ায় ইউরোপে গ্যাসের দাম ৫৮ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিটে ১৯ ডলারে পৌঁছাতে পারে।

খাদ্য ও ধাতুর বাজারেও চাপ

বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে খাদ্যপণ্যের দাম ১০ দশমিক ৩ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে আরও ৭ দশমিক ২ শতাংশ বাড়তে পারে। কৃষ্ণসাগরে শস্য পরিবহনে বিঘ্ন, জ্বালানির বাড়তি ব্যয় ও প্রতিকূল আবহাওয়া এর প্রধান কারণ। চলতি বছর শস্যের দাম ১৪ দশমিক ১ এবং গমের দাম ২৮ শতাংশ বাড়তে পারে। সারের দামও বাড়তে পারে ১৪ দশমিক ৩ শতাংশ।

প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বাড়লে, রাশিয়ার জ্বালানি তেল সরবরাহে বিঘ্ন দীর্ঘস্থায়ী হলে এবং এল নিনোর প্রভাবে ফসলের ক্ষতি হলে ২০২৭ সালে খাদ্যপণ্যের দাম পূর্বাভাসের চেয়ে ১২ শতাংশ বেশি হতে পারে। এতে খাদ্যসংকট আরো তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ২০২৫ সালে বিশ্বে ৭৭ কোটি ৯০ লাখ মানুষ খাদ্যনিরাপত্তাহীনতায় ভুগেছে।

অন্যদিকে, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বৈদ্যুতিক গাড়ি ও তথ্যকেন্দ্রে চাহিদা বাড়বে। ফলে ধাতু ও খনিজের দাম ২৪ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড উচ্চতায় উঠতে পারে। তামার গড় দাম প্রতি টন ১৩ হাজার ২০০ ডলারে পৌঁছানোর পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।

ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ছে। চলতি বছর স্বর্ণের গড় দাম প্রতি ট্রয় আউন্স ৪ হাজার ৬০০ ডলারে উঠতে পারে, যা গত বছরের তুলনায় ৩৩ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংক গোষ্ঠী এরই মধ্যে ২৫টি দেশকে ৮৭০ কোটি ডলার সহায়তা দিয়েছে।