ইউরোপে প্রাকৃতিক গ্যাসের দর ফের প্রতি মেগাওয়াট-ঘণ্টা ১০০ ইউরো পার হয়েছে। ২০২২ সালের শীতের পর এ প্রথম ইউরোপীয় বেঞ্চমার্কে গ্যাসের দাম এ পর্যায়ে পৌঁছাল। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় ইউরোপজুড়ে নতুন করে জ্বালানি সংকট নিয়ে তৈরি হয়েছে আশঙ্কা। খবর ইউরো নিউজ ও রয়টার্স।

ইউরোপীয় বেঞ্চমার্ক ডাচ টিটিএফে (টাইটেল ট্রান্সফার ফ্যাসিলিটি) নভেম্বরে সরবরাহ চুক্তিতে দাম ৪ শতাংশের বেশি বেড়ে ১০০ ইউরো ৩৭ সেন্টে পৌঁছায়, যা ২০২২ সালের ডিসেম্বরের পর সর্বোচ্চ। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর আগে গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে এ দাম ছিল প্রায় ৩২ ইউরো।

ইইউর জ্বালানিবিষয়ক কমিশনার ড্যান জার্গেনসন সতর্ক করে বলেছেন, ‘ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ইউরোপ আবারও জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। আসন্ন শীতে অঞ্চলটির জ্বালানি খরচ অনেক বেড়ে যেতে পারে। মাসের পর মাস সরবরাহ সংকট এবং কম মজুদের কারণেই গ্যাসের দামে এ ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে, যা অর্থনীতির ওপর কঠিন চাপ তৈরি করছে।’

যুদ্ধের কারণে এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় ইউরোপ শীতের আগে পর্যাপ্ত গ্যাস মজুদ করতে পারেনি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের জ্বালানি নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসারের তথ্য অনুযায়ী, ২১ অক্টোবর ইউরোপের গ্যাস মজুদ ছিল ধারণক্ষমতার প্রায় ৭৫ শতাংশ, যা নভেম্বরের মধ্যে ৯০ শতাংশ মজুদ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অনেক কম। জার্মানিতে মজুত ছিল প্রায় ৬০ শতাংশ।

গত শীতের শেষে ইউরোপের গ্যাস মজুদ নেমে এসেছিল ২৮ শতাংশে, যেখানে গত ৯ বছরের গড় ছিল প্রায় ৪০ শতাংশ। যুদ্ধের কারণে ইউরোপের গ্যাস আমদানি ব্যয় ১ হাজার ৮০০ কোটি থেকে ৩ হাজার ৩০০ কোটি ইউরো বেড়েছে বলে জানিয়েছে এসার।

এ ছাড়া গ্রীষ্মজুড়ে কাতারের এলএনজি সরবরাহ না থাকায় ইউরোপকে এখন মার্কিন সরবরাহের ওপর বেশি নির্ভর করতে হচ্ছে, যা মোট গ্যাসের প্রায় ৩০ শতাংশ। এশিয়ার ক্রেতাদের সঙ্গে এলএনজি কেনার প্রতিযোগিতা বাড়লে দাম আরো বাড়বে মনে করছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।

গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়ছে শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে। রাসায়নিক, সার ও ইস্পাতশিল্পে বাড়ছে উৎপাদন খরচ। ফলে গ্যাসভিত্তিক শিল্পকারখানাগুলো উৎপাদন কমাতে বাধ্য হচ্ছে। জার্মানি ও ফ্রান্সে বিদ্যুতের দাম পৌঁছেছে কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ থেমে গেলেও মজুদ পুনর্গঠনের কারণে আগামী এক বছর ইউরোপে গ্যাসের দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকতে পারে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইইউ কানাডার সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি সরবরাহ চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছে।