ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (ইসিবি) প্রেসিডেন্টের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন ক্রিস্টিন লাগার্দ। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব ছাড়বেন তিনি। তার বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৭ সালের অক্টোবরে। তবে বিশ্বের নানা বিষয়ে স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের সুযোগ পেতে মেয়াদ শেষ হওয়ার ৯ মাস আগেই পদ ছাড়ছেন তিনি। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
লাগার্দ জানান, ইসিবির দায়িত্বে থাকায় তাকে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হয়। এ কারণে মুদ্রানীতির বাইরের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও অর্থনৈতিক বিষয়ে নিজের মতামত প্রকাশের সুযোগ সীমিত। তিনি এখন বৃহত্তর বৈশ্বিক বিষয়ে কথা বলতে চান। বিশেষ করে সত্যের বিকৃতি ও ভুল উপস্থাপনার বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান তুলে ধরতে চান।
ইসিবির এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমি বাকস্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং মুদ্রানীতির বাইরের বিষয়গুলোতে যুক্ত হওয়ার স্বাধীনতা চাই।’
ইউরোজোনে মূল্যস্ফীতি বেড়ে গত মাসে ৩ দশমিক ৮ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরের পর সর্বোচ্চ। এমন পরিস্থিতিতে ইসিবি মূল আমানতের সুদহার ২ দশমিক ৫ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত জানায়। সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে নিজের পদ ছাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন ইসিবি প্রধান।
তার আগাম বিদায়ের ঘোষণায় ইসিবির পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নিয়োগের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন নেদারল্যান্ডসের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক প্রধান ক্লাস নট, স্পেনের পাবলো হার্নান্দেজ দে কস, জার্মান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ইয়োয়াখিম নাগেল এবং ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট নাদিয়া কালভিনো। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্যদেশগুলোর সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের নিয়ে গঠিত ইউরোপীয় কাউন্সিল ইসিবির প্রেসিডেন্ট নিয়োগ দেয়।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ বলেছেন, ‘ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা করে উত্তরসূরি নিয়োগের প্রক্রিয়া সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করা উচিত।’ বিশ্লেষকদের ধারণা, ২০২৭ সালের এপ্রিলে অনুষ্ঠেয় ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগেই নতুন প্রেসিডেন্ট নিয়োগ নিশ্চিত করতে চান মাখোঁ।
এদিকে লাগার্দের নাম বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) পরবর্তী প্রধান হিসেবেও আলোচনায় রয়েছে। ২০১৯ সালের শেষ দিকে ইসিবির দায়িত্ব নেন তিনি। এর আগে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন। তার দায়িত্বকালে করোনা মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতসহ নানা সংকট মোকাবিলা করতে হয়েছে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংককে।












