রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা একদল মর্মাহত মানুষদের দেখা যায়। কোটা সংস্কারকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা আন্দোলনে নিহতদের স্বজন তারা। কথা বলে জানা যায়, তাদের কেউ হারিয়েছেন প্রিয় সন্তানকে; কেউবা আদরের ভাইকে। বুধবার (১৪ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে জমায়েত হয়েছিলেন এসব স্বজনেরা। এ সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং গণহত্যায় জড়িতদের বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন করে বিচার করাসহ সাত দফা দাবি জানানো হয়।

ছেলের লেখা একটি চিঠি পাঠ করে শোনান আন্দোলনে নিহত শাহরিয়ার খান আনামের বাবা। চিঠিতে লেখা ছিল, ‘মা, আমি মিছিলে যাচ্ছি। আমি নিজেকে আর আটকিয়ে রাখতে পারলাম না। সরি আব্বুজান! তোমার কথা অমান্য করে বের হলাম। স্বার্থপরের মতো ঘরে বসে থাকতে পারলাম না। আমার সহযোদ্ধা ভাইয়েরা ভবিষৎ প্রজন্মের জন্য কাফনের কাপড় মাথায় বেঁধে, রাজপথে নেমে সংগ্রাম করে যাচ্ছে, নিজেদের জীবন বিসর্জন দিচ্ছে। প্রতিবন্ধী কিশোর এবং সাত বছরের শিশু বাচ্চা যদি জীবন দিতে পারে, তাহলে আমি কেন বসে থাকব। একদিন তো মরতেই হবে। তাই মৃত্যুর ভয় না করে, স্বার্থপরের মতো ঘরে বসে না থেকে সংগ্রামে নেমে গুলি খেয়ে বীরের মতো মৃত্যুবরণ অধিক শ্রেষ্ট। যে অন্যের জন্য নিজের জীবনকে বিলিয়ে দেয় সেই প্রকৃত মানুষ। আমি যদি বেঁচে না ফিরি, তাহলে কষ্ট না পেয়ে গর্বিত হইও। জীবনের প্রতিটি ভুলের জন্য ক্ষমা চাচ্ছি।’ শহীদ আনাম রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন। ১০ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছিলেন তিনি।

নিহতদের পরিবার ও নিপীড়িত ছাত্র-জনতার পক্ষ থেকে সাত দফা দাবি তুলে ধরেন একজন জননী। তিনি বলেন, ‘গণহত্যায় হুকুমদাতা শেখ হাসিনাকে অতি দ্রুত দেশে এনে বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন করে বিচার করতে হবে। ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামালসহ সামরিক ও বেসামরিক (পুলিশ, র্যা ব, বিজিবি, গোয়েন্দা সংস্থা, বিচার বিভাগ, আমলা) প্রশাসনের মধ্যে যারা গণহত্যায় জড়িত, এ আন্দোলনের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়েছে এবং সরকারকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করেছে তাদের সবাইকে বিশেষ ট্রাইবুনালে বিচার করতে হবে। গণহত্যায় জড়িত আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে যারা হামলা ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে লিপ্ত ছিল তাদেরকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হবে। শহীদদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকাশ করা, শহীদদের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও মাসিক আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং সরকারিভাবে আহতদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।’

তারা দাবি করেন, ‘আন্দোলনে শহীদদের রাষ্ট্রীয়ভাবে জাতীয় বীরের মর্যাদা দিতে হবে। বৈষম্য প্রতিরোধে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর (আইন, বিচার ও নির্বাহী বিভাগ) গুণগত পরিবর্তন করতে হবে। জাতিসংঘের অধীনে গণহত্যার তদন্ত করে রিপোর্ট প্রকাশ করতে হবে।’